*************************************************

*এলান নয় হেদায়েত মনেকরে পড়ি*

************************************************

আসসালামু আলাইকুম

১- ফিতনা হত্যার চেয়ে মারাত্মক। (২:১৯১ আল কোরান)
২-
হজরত আবু উমামাহ আল বাহিলী রাঃ বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন "আমি তার জন্য বেহেস্তের কিনারায় একটি ঘরের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে ঝগড়া/বিতর্ক ছেড়ে দেয়, যদিও সে হকের উপরে। (আবু দাউদ)
৩-
হজরত হোযাইফা ইবনে ইয়ামান রাঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করিয়াছেন, সেই জাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করিতে থাক। নতুবা অতিসত্বর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর আপন আযাব পাঠাইয়া দিবেন। অতঃপর তোমরা দোয়া করিলেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দোয়া কবুল করিবেন না। (তিরমিযী)

সমাধান/সমঝোতা - সবাই সমস্যার কথা জানেন বা সমস্যার কিছু নিশানা খবরে পড়েছেন। এই লেখা শুধুমাত্র সমাধানের একটি রাস্তা। এ বেপারে আমাদের বলার কারণ সমস্যার ফলাফল উম্মতের আখেরাতের ও হেদায়েতের মেহনতের ক্ষতি। শয়তান জিতে যাচ্ছে। উম্মত ওরাসাতুল আম্বিয়া, নবীদের বংশধর, আলেমদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এতে জিহালত বাড়তে থাকবে। আমাদের প্রস্তাবিত ও অনুরোধকৃত সমাধানের দুটি অংশ, এবং একটি ছাড়া অপরটির দ্বারা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এবং একটির চেয়ে অপরটি বেশি জরুরি নয়। এই সমাধান স্বাভাবিক মনে হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো না হওয়ার কারণে সমস্যা বেড়ে চলছে।

১+২=৩. আলেমদের মতপার্থক্য/মতবিরোধ আলোচনা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। যেসব মুরুব্বি আলেমরা মতপার্থক্য/মতবিরোধের সমাধানে সরাসরি জড়িত শুধু সেসব মুরুব্বি আলেমরা এ বেপারে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। উম্মতের দ্বীনি বেপারে ঝগড়া করার ও ফেতনা বাড়ানোর অধিকার নেই। আলেমদের ঝগড়া সমাধান করা দায়িত্ব, বাড়ানো নয়।আলেমদের এবং উম্মতকে ঝগড়া ছেড়ে মানুষকে আল্লাহর হুকুম ও নবী সাঃ এর জীবন পদ্ধতিতে আনার মেহনতে মনোযোগ দিতে হবে।আপনার কাছে কি ঝগড়া করা জরুরি না ফেতনা ছেড়ে নবী সাঃ এর মেহনত জরুরি?

১. উম্মতকে প্রথমত পূর্ণ সন্মান এবং দ্বিতীয়ত খেদমত করতে হবে ওরাসাতুল আম্বিয়া, নবীদের বংশধর, আলেমদের। আলেমদের সন্মান ও খেদমত করা উম্মতের উপরে আলেমদের অধিকার। উম্মতের এই দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আলেমদেরও সংসারিক ও দ্বীনি প্রয়োজনের খরচ আছে। কোনো আলেমকে বা কোনো আলেমের কোনো দীনি মেহনতকে ছোটো করে দেখার বা অসম্মান করার কোনো অধিকার উম্মতের নেই।

২. আলেমদের ওরাসাতুল আম্বিয়া পদবীর পূর্ন হক আদায় করতে প্রথমত সমস্ত উম্মতকে সঠিক ইসলাম শিখাতে হবে,মাদ্রাসার ভিতরে ও বাহিরে, এবং দ্বিতীয়ত উম্মতের খেদমতের মালকে শুধুমাত্র হাদিয়াবা উপহার হিসেবে নিতে হবে বা মনে করতে হবে, পারিশ্রমিক নয়। তাবলীগ, ওয়াজ, বয়ান, এসো দীন শিখি অনুষ্টান বা প্রশ্ন উত্তর সহ মাসায়েলের এলেমের নিয়মিত মজলিস, মাদ্রাসা ও অন্যান্য মাধ্যমে উম্মতের ও ওরাসাতুল আম্বিয়া পদবীর হক আদায় করা।

জরুরি বিজ্ঞপ্তি - মুসলমানদের মধ্যে এখন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, যিনা, ধর্ষণ, সুদ, ঘুষ, শিরিক, বিদাত,অপবাদ, গীবত সহ বিভিন্ন অত্যাচার ও গুনাহের কাজ ছড়িয়ে পড়েছে ও বিস্তারিত হচ্ছে।এই ফেতনার সময় নিজের জীবনের সীমিত সংক্ষিপ্ত সময় আখেরাতের প্রস্তুতি ও মানুষকে আল্লাহের বড়ত্বের দিকে ডাকার ও অন্যায়/গুনাহ থেকে বিরত করারবদলে আলেমদের (তাবলীগ/মাওলানা সাদ/ইব্রাহিম/আহমদ লাট, মাযহাব/হানাফী/শাফি/মালিকি/হাম্বলী, কওমি) সমালোচনা করা কি বুদ্ধিমানের কাজ না চরম বোকামি? কবরে আলেমদের বেপারে জিজ্ঞেস করা হবে না, তাহলে যে সময়ে নিজেকে ও অন্যদের দোজখ থেকে বাঁচানোর মেহনত করা আল্লাহের দেয়া ঈমানী দায়িত্ব, সে সময়ে আলেমদের সমালোচনা/গীবত করে সময় নষ্ট করা কি চরম বোকামি নয়? আপনি কি বোকা না চালাক তার বিচার হচ্ছে, আল্লাহের কাছে আপনার সময়, অর্থ ও শরীর ব্যবহারে আল্লাহের হুকুম মানার হিসাব দিতে পারবেন?

****************************************

শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

১ম ধাপ – ভেন্যু > ডেমরা
সরকার ফেতনাহ করতে দিলো না। আলহামদুলিল্লাহ
—————————-
২য় ধাপ – ভেন্যু > সাভার
সরকার ফেতনাহ করতে দিলো না। আলহামদুলিল্লাহ
—————————-
৩য় ধাপ – ভেন্যু > মিরপুর
জনপ্রতিনিধিকে অর্থের লোভে হাত কিন্তু
ওলামা একেরাম ও পুলিশ প্রশাসনের বাধার মুখে বন্ধ। আলহামদুলিল্লাহ
—————————-
৪র্থ ধাপ – ভেন্যু > মিরপুর
ওলাম একেরাম আম জনতা ও প্রতিনিধি সহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নিশেধাক্কা জারি। আলহামদুলিল্লাহ
—————————-
ফাইনাল পর্ব – ভেন্যু > কেরানীগঞ্জ


ফাইনাল পর্ব – ভেন্যু > কেরানীগঞ্জ
১>>> স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি কে অর্থের বিনিময় ক্রয় করে রাতের অন্ধকারে চর দখলের কায়দায় সময় রাত ১১টার পরে এতাতীদের খবর আসে সবগুজারীর নামে খোলামোড়া মডেল টাউন এর ধইঞ্চা খেতে সবগুজারীর নামে একত্র হচ্ছে। শুক্রবার জুম্মার থেকে তাদের তথাকথিত ইজতেমা শুরু করবে।

উল্লেখ্যঃ মাননীয় মন্ত্রী মোহদয় এর কাছে অনুমতির জন্য গেলে তিনি তাদের অনুমতি দেন নি। কিন্তু থানা ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি অর্থের বিনিময়ে যায়গা অনুমতি ছাড়াই বরাদ্দ দেয়।

২>>>রাত থেকেই পুলিশ প্রশাসন কে খবরটি জানালে তারা দিখছি বলে আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দেয়। পরের দিন ওলামা একেরাম ও তাঁদের মাতাহাতে তাবলীগের আম সাথীরা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ প্রশাসন ৫০০ পুলিশ পাঠায়…আসলে তারা ঠিকি যায় কিন্তু ঘটনা স্থলে না গিয়ে কোনাখোলার উপজিলার মোড়ে অবস্থান নেয়। টাল বাহানা করে কাল ক্ষেপন করে। পুলিশের পক্ষ থেকে খবর আসে তারা শুক্রবার আসরের পর চলে যাবে এই মিথ্যা খবরে আমাদের ওলামা মাতাহাতের সাথীরা চলে যেতে শুরু করে। তাদের এমন দ্বীমূখি মনোভাব দেখে মাশোয়ারা করে সবাইকে কোনাখোলা মারকাজে জুম্মা পড়ার জন্য ঘোষনা দেয়া হয় ।

৩>>>কিন্তু কেরানীগঞ্জরের ওয়াহেদ হাস্তি
তাবলীগের হক্বের ঝান্ডা বুলন্দকারী
ওলামা একেরামের মোহাব্বতের দিল দরাজ
আমাদের নয়নের মনি
জনাব হাজী সেলিম ভাই (বারাকাল্লাহু ফি হায়াতী)

জামাত থেকে দ্রুত চলে আসেন মারকাজে শুক্রবার সকালের ফ্রাইটে ওলামা একেরাম ও কেরানীগঞ্জের আম সাথীদের কে নিয়ে জরুরী মাশোয়ারা করে নিরুপায় হয়ে কদমতলী গোল চত্বরে সবাইকে জমায়েত হতে বলেন।

(উল্লেখ্যঃ ওলামা একেরামের মাতাহাতে তাবলীগের জিম্মাদার সাথীদের মধ্যে হাজী সেলিম ভাই সহ ৪০ জনের অধিক ৫ দিনের জোড়ের তাকাজায় জিলা সফরে ছিল।)

৪>>>এতাতীদের চোরাই ইজতেমা বন্ধ করার আর কোন উপায় না পেয়ে সরকারের উর্ধতন জনপ্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষনের লক্ষ্যে আল্লাহর উপর ভরসা করে এতাতীদের সাথে কোন্দলে না জড়িয়ে কদমতলীর গোলচত্বরে গন জমায়েতের ডাক দেন।

এবং আসরের পর পর মাশোয়ারা শেষ করে
কোনাখোলা মারকাজ ( কেরানীগঞ্জ বাংলাওয়ালী মসজিদ) থেকে পায়দাল (পায়দাল সফরে আল্লাহ তা’লার মদদ থাকে।)
কদমতোলী গোলচত্বরে সবাই জমায়েত হন এবং মাগরীবের নামাজ আদায় করে বয়ান শুরু হয়। স্থানী জন প্রতিনিধির টনক নড়ে যায়।
তারা আমাদের কে আসস্থ করে এবং অংগিকার করে
এতাতীদের ঢাকা জিলার ইজতেমা নামে ফেতনাহ কে শনিবার সকালের মধ্যে বন্ধকরে তাদের কে ওখান থেকে সরিয়ে দেবে।

৫>>>হাজী সেলিম ভাই বলেন… সরকারের আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জন প্রতিনিধির আশ্বাসে আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে আমাদের গন জমায়েত শেষ করলাম। কিন্তু সবাইকে কোনাখোলা মারকাজে অবস্থানের জন্য বলেন। এটাও বলে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন- যদি এতাতীদের ঢাকা জিলার ইজতেমা নামে ফেতনাহকে বন্ধ না করেন তা হলে সকালেই বাংলাদেশের সকল ওলামা মাশায়েখ সহ তাদের মাতাহাতে তাবলীগের সাথী ও সচেতন জনগন কে নিয়ে আবার গনজমায়েত হবেন।

৬>>>পুলিশ প্রশাষনের দিলে আল্লাহ
হাজী সেলিম ভাই এর হুংকারে
ভিতির সঞ্চার করে দেন।

তারা আর্মড পুলিশ বাহিনী তলব করে সকাল ৮ ঘটিকায় এতাতীদের হটাতে অগ্রসর হলে>>> তাদের পৌছানোর আগেই এতাতীরা তাদের তথাকথিত ইজতেমা বন্ধ করে দেয়।

আলহামদুলিল্লাহ । সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ জাল্লা শানুহুর ই জন্য।

কেরানীগঞ্জ বাংলাওয়ালী মসজিদ থেকে
বাংলাওয়ালী
কোনাখোলা, কেরানীগঞ্জ,ঢাকা।

বৃহস্পতিবার, ৭ জুন, ২০১৮


যে নামাজে বার বার সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবারতাসবিহটি পড়া হয়, ওই নামাজকে সালাতুত তাসবিহ বা তাসবিহ-এর নামাজ। 


এ নামাজের ফজিলত বর্ণনা করেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা তিনি তাঁর চাচা হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বর্ণনা করে শোনান। দীর্ঘ হাদিসটি তুলে ধরা হলো-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদিন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমার পিতা) হজরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে বললেন, ‘হে আব্বাস! হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে সংবাদ দেব না? আমি কি আপনার সাথে দশটি সৎকাজ করব না? (অর্থাৎ দশটি উত্তম তাসবিহ শিক্ষা দেব না)

যখন আপনি তা (আমল) করবেন তখন আল্লাহ তাআলা আপনার আগের, পরের, পুরাতন, নতুন, সব প্রকার গোনাহ, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত গোনাহ, সগিরা গোনাহ, কবিরা গোনাহ, গুপ্ত ও প্রকাশ্য গোনাহ গোনাহ মাফ করে দেবেন।
আপনি চার রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতেহা পাঠ করবেন এবং যে কোনো একটি সুরা মেলাবেন। (অর্থাৎ প্রত্যেক রাকাআতে এ তাসবিহটি ৭৫ বার করে আদায় করতে হবে।)

নামাজের যে সব স্থানে এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে। তাহলো-
>> প্রথম রাকাআতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মিলানোর পর রুকুর আগে দাঁড়ানো অবস্থায়
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ
(সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার) ১৫ বার।
>> অতঃপর রুকুর তাসবিহ-এর পর রুকু অবস্থায় (এ তাসবিহ) ১০ বার।
>> তারপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় (এ সাতবিহ) ১০ বার।
>> অতঃপর সেজদার তাসবিহ-এর পর মাথা নত করবেন এবং সেজদাবস্থায় (এ তাসবিহ) ১০ বার।
>> তারপর দুই সেজদার মাঝে বসে (এ তাসবিহ) ১০ বার।
>> অতঃপর পুনরায় দ্বিতীয় সেজদায় ১০ বার এবং
>> পুনরায় সেজদা থেকে মাথা ওঠিয়ে ১০ বার। মোট প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার করে ৪ রাকাআতে মোট ৩০০বার এ তাসবিহ পাঠ করা।

(হে চাচা!) এভাবে যদি প্রতিদিন একবার এ নামাজ পড়তে সক্ষম হন; তবে তা পড়বেন। আর যদি সক্ষম না হন, তবে প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার পড়বনে।
তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক মাসে একবার পড়বেন। তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক বছর একবার পড়বেন, আর যদি তাও না পারেন তবে আপনার জীবনে অন্তত একবার পড়বেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

এ হলো ফজিলতপূর্ণ সর্বাধিক তাসবিহ সম্বলিত নামাজ সালাতুত তাসবিহ। সুতরাং রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে পড়ার মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়ার হক আদায় হয়ে যেতে পারে। কেননা লাইলাতুল কদর হাজার রাতের চেয়ে উত্তম। আর লাইলাতুল কদরে এ নামাজ পড়ার অর্থই হলো ১ হাজার সালাতুত তাসবিহ পড়ার সমান।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজান মাসে তাসবিহ নামাজসহ যে কোনো নামাজ এবং ইবাদত-বন্দেগি যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


তথসূত্রঃ সংগৃহীত



 : ভারতের মেওয়াত এলাকায় হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস রহ.এর হাতে প্রতিষ্ঠা পায় তাবলীগ জামাত। পরবর্তীতে দিল্লির নিজামুদ্দীন থেকে এ দাওয়াতি কাজ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।বর্তমান পৃথিবীতে দ্বীনের যত মেহনত চলছে, তার মধ্যে দাওয়াত তাবলীগ নিঃসন্দেহে সর্বাধিক সফল মেহনত। এই বরকতপূর্ণ মেহনত আজ দুনিয়ার সব জায়গায় পৌঁছে গেছে। পৃথিবীর সব দেশে এবং সব এলাকায় একই নিয়মে চলছে তাবলীগের কাজ।


দাওয়াত তাবলীগের সব কাজ সুন্নাতে রাসুল মোতাবেক করা হয়। রাসুল  যেভাবে নামাজ পড়েছেন, যেভাবে খেয়েছেন, যেভাবে ঘুমিয়েছেন, যেভাবে মানুষকে ইসলামের পথে দাওয়াত দিয়েছেন-তার সবই অনুসরণ করা হয় তাবলীগের কাজে। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের মাঝে কিভাবে পুরোপুরি ইসলাম আসে, সে ব্যাপারেও রয়েছে মাসতুরাতের মেহনত।



নিজে আল্লাহর হুকুম ও নবীর তরিকা অনুযায়ী জীবন যাপনের পাশাপাশি নিজের পরিবারের সদস্যরা, পাড়া-প্রতিবেশী এবং আশপাশের সবাই যেন দ্বীনদার ও আল্লাহওয়ালা হয়ে যায় সে ব্যাপারেও ফিকির চলে তাবলীগে। উম্মত কিভাবে হেদায়েত পাবে, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচবে, দাওয়াত তাবলীগের এটাই প্রধান লক্ষ্য। তাই এখানে সাধারণ মুসলমানদের নিজ জান মালসহ আল্লাহর রাস্তায় সময় দেয়ার জন্য তাশকিল (উদ্বুদ্ধ) করা হয়। তিন দিন, ১০ দিন ও ৪০ দিন এবং সালের জন্য তাশকিল করা হয়।



তাবলীগ জামাতের মৌলিক পাঁচ কাজ। এই পাঁচ কাজ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, এর দ্বারা একটা সমাজ  খুব সহজেই পরিবর্তিত হতে পারে।
পাঁচ কাজ হলো, ১. প্রতিদিন মাশওয়ারা বা পরামর্শ করা। ২. প্রতিদিন মসজিদে ও ঘরে তালিম করা। ৩. দৈনিক আড়াই ঘণ্টার মেহনত করা । মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করার উদ্দেশ্যে আড়াই ঘণ্টা সময় ব্যয় করা। ৪. প্রতি সপ্তাহে নিজ মহল্লায় ও অন্য মহল্লায় গাশত করা। অর্থাৎ আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করার লক্ষ্যে ঘোরাফেরা করা। ৫. প্রতি মাসে আল্লাহর রাস্তায় তিনদিন সময় লাগানো।
তাবলীগ জামাতে এ ৫ কাজের অত্যাধিক গুরুত্ব রয়েছে। তাবলীগের মারকাজগুলো থেকে পাঁচ কাজের সঙ্গে জুড়ে থাকতে বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির নিজামুদ্দিনের মাওলানা সাদ কান্ধলভির কিছু বক্তব্য ও আমির না শুরা-এই বিতর্কে অনেক তাবলীগি সাথী তাবলীগ জামাতের মৌলিক কাজগুলো থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

এক সময় যারা দুনিয়ার সব খবর বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর ঘর মসজিদে তালিম জিকির আর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন  এখন তাদের মাঝে বিভক্তি, সমন্বয়হীনতার কারণে মৌলিক কাজ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

এক পক্ষ নিজেদেরকে এতায়াতপন্থী বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তারা দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারী বলে দাবি করে আসছেন। আরেক পক্ষ নিজেদেরকে শুরাপন্থী বলে দাবি করেন। তারা মূলত আমীর বা একক নেতৃত্ব নয় আলমি শুরার মাধ্যমে তাবলীগ চলবে বলে দাবি করেন।  এ নিয়ে দেশ বিদেশের মসজিদগুলোতে বিবাদ ও একে অপরকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

তাবলীগের সাথীদের কীভাবে তাবলিগের মৌলিক কাজে ফেরানো যায় এবং উভয় পক্ষ শান্তি, সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে কথা হয় দেশের তিন জন চিন্তাশীল আলেমের সঙ্গে।

ড. আফম খালিদ হোসেন
চট্টগ্রারেম ওমর গণি এম ই এস ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক দেশের শীর্ষ এই চিন্তাবিদ আলেম বলেন,  তাবলীগ জামাতে চলমান বিভক্তি খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। সমাধান করতে চাইলে উভয় পক্ষকে এক জায়গায় বসতে হবে। এক দু বার বসেই সমাধান না হলে বার বার বসার প্রয়াস চালাতে হবে।

ভারতের দারুল উলুম দেওবওবন্দের উলামা হজরত ও নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বীদের সম্মিলিত বৈঠকের মাধ্যমে সামাধানে আসতে হবে। তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষকেই নমনীয় হতে হবে, ছাড় দিতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে শুরা-এমারাত সংকট সামাধান হলে মাঠ পর্যায়ে বিভক্তি থাকবে না বলে আশা করা যায়।
তাবলিগের প্রতিষ্ঠাতা হজরত ইলিয়াস রহ. এর সেই চিন্তা চেতনা ও আদর্শের উপর তাবালিগের কাজকে ফিরিয়ে আনতে তাবলিগের বর্তমান মুরুব্বীদের চেষ্টা করা দরকার। অন্যথায় শত বছরের দাওয়াতি মেহনত  এই বিভক্তির কারণে বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি মনে করেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তাবলিগ জামাতের নেতৃত্ব আলেমদের হাতে থাকা জরুরি। তাবলীগ জামাতে আলেম না থাকলে মেহনত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাধারণ শিক্ষিতদের যারা তাবলিগের যিম্মাদারি পালন করছেন আমরা তাদেরও সম্মান জানাই। তবে মূল কাজে আলেমগণের থাকা চাই।

সাধারণ তাবলীগের সাথীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আম সাথীরা কোন প্রকারের বিবাদে জড়াবেন না। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দাওয়াতি মেহনতের নিয়মিত আমল করবেন। যেখানে যে পক্ষ দাওয়াতে কাজ করছেন তাদেরকে সেখান থেকেই কাজ করে যেতে হবে।কোন অবস্থাতেই বিরোধি মনোভাব পোষণ করা উচিত হবে না।

মাওলানা নেয়ামাতুল্লাহ ফরিদী
মাদারীপুরের জামিয়াতুস সুন্নাহর মুহতামিম, দেশের এই চিন্তাশীল আলেম তাবলীগ জামাতে চলমান বিভক্তি দূর করতে করণীয় সম্পর্কে বলেন, সাধারণ তাবলিগি ভাইয়েরা উলামায়ে কেরামের পরামর্শ মোতাবেক কাজ করলে সংকট কেটে যাবে।

উলামায়ে কেরাম যেভাবে কাজ করতে পরামর্শ দেন সেভাবেই দাওয়াতের মেহনত করা চাই। তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হজরত ইলিয়াস রহ. এর তাবলীগ জামাতের নেতৃত্ব গাইরে আলেমদের হাতে চলে যাওয়ার যে আশংকা করেছিলেন এখন তা-ই চলমান। এ জায়গাটা থেকে বেরিয়ে আসা চাই। তাহলে চলামান বিভক্তির অবসান হতে পারে।

সাধারণ তাবলীগি মুসল্লিদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ তাবলীগি সাথীদের কাজ হবে মেহনত নিয়ে পড়ে থাকা। সংঘাত বা বিবাদে না জড়ানো। আলেমদের সমালোচনা, গীবত না করা। আলেমদের অধীনে থেকে তাবলীগের দৈনন্দিন কাজ আঞ্জাম দেয়া। আলেমদের মাঝে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা না করা।

মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক
তাবলীগি সাথীদের নিয়মতান্ত্রিক দাওয়াতি মেহনতে ফেরাতে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, দীনের বড় বড় কাজে কোন  কোন সময় কিছু সমস্যা হতে পারে। তেমনটা তাবলীগের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। তবে একটু দেরি হলেও সমস্যার সামাধান হয়ে যাবে। সাধারণ তাবলীগি সাথীদের এ নিয়ে ভাবানার কিছু নেই।
সাথীরা কোন বিরোধে যাবেন না। তারা কেবল দাওয়াতি মেহনত নিয়ে  ব্যস্ত থাকবেন। সমস্যার সমাধান বিষয়ে কাজ করবেন উলাাময়ে কেরাম। তাবলীগের সাথীদের কাজ হবে, পরস্পররে মাঝে, উলামাদের সঙ্গে মুহাব্বত বাড়ানো, জোরদার করা।

তাবলীগ জামাতের অন্যতম  শিক্ষা হলো সুসম্পর্ক  তৈরি করা। একজন তাবলীগি সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে অমুসলিমকেও ইসলামের সৌন্দর্যের দিকে আহ্বান করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে তাবলীগি সাথীদের পরস্পরের মাঝেই সম্পর্কের অবনিত পরিলক্ষিত হচ্ছে। সামান্য এক বিভক্তিকে কেন্দ্র করে তাবলীগের উদারতার প্রতীক একরাম-মুহাব্বত ভুলে যাওয়া সমীচীন হবে না। সমস্ত সাথীদে মাঝে মুহাব্বত, পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগিয়ে তুলতে না পারলে তা মেহনতের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাাঁড়াবে।

[হাওলাদার জহিরুল ইসলাম>>>বিশিষ্ট কলামিষ্টঃ আওয়ার ইসলাম24.কম



শনিবার, ২ জুন, ২০১৮


পাকিস্তানের একজন বিশ্বখ্যাত চিকিৎসক প্রফেসর ডাঃ ইশান খান। তিনি নিউরো মেডিসিন (মস্তিষ্ক) বিশেষজ্ঞ। মস্তিষ্কের সব জটিল রোগের চিকিৎসায় তার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। একবার ডাঃ ইশান বিমানে চড়ে পাকিস্তানের করাচী থেকে অন্য একটি শহরে যাত্রা করলেন। কিছুদূরে যেতেই বিমান ঝড়ে কবলিত হলো। কোন উপায় না দেখে পাইলট বিমানের জরুরী অবতরন করালেন দূরের ছোট্ট একটি বিমান বন্দরে।


বিমান থেকে সব যাত্রীরা নেমে বাহিরে দাঁড়ালো, ডাক্তার ইশানও নামলেন। তিনি পাইলটকে জিজ্ঞাসা করলেন অন্য কোন ভাবে ঐ শহরে যাওয়া যাবে কিনা। কারন ডাঃ সাহেবের ঐ শহরে যাওয়াটা খুব জরুরী।

কোন না কোন ভাবে ডাক্তার ইশান এর জন্য তিন চাকার একটি গাড়ীর ব্যবস্থা করা হলো। ডাক্তার সাহেব গাড়িতে রওয়ানা করলেন মূল সড়কে গিয়ে গাড়ি ধরার জন্য। অচেনা গ্রামের মেঠো পথে আঁকাবাঁকা হয়ে গাড়ী চলছে। তখন গভীর রাত, চারদিকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, যেনো আকাশের সব মেঘ আজ ধরার বুকে নামার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছে।

নাহ, এ পরিস্থিতে আর এই ভ্যান গাড়ীতে বসে থাকা সম্ভব নয়। ডাঃ ইশান বড্ড ভয়ও পাচ্ছেন। দূরে একটা ছোট্ট কুটির দেখা যাচ্ছে, সেখানে নিভু নিভু আলো জ্বলছে, ডাঃ ইশান দৌড়ে গেলেন ঘরের দিকে।

একবৃদ্ধা দরজা খুললেন, ডাঃ তাঁর সব ঘটনা খুলে বললেন এবং রাতে থাকার আশ্রয় চাইলেন। বৃদ্ধা ডাঃ কে আপ্যায়ন করলেন,ওজু নামাজের ব্যবস্থা করলেন। নামাজের বিছানার পাশে দেখলেন একটি অসুস্থ ছোট্ট শিশু ঘুমিয়ে আছে। ডাঃ সাহেব বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন এই শিশুটি কে এবং তাঁর কি হয়েছে?
বৃদ্ধা উত্তর করলেন এ শিশুটি আমার নাতি, তাঁর মা বাবা মারা গেছে। সে খুব অসুস্থ, তাঁর চিকিৎসা এ দেশে কোন ডাক্তারই করতে পারছেনা, তবে একজন বিশেষজ্ঞ পারবেন বলে সবাই পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা ডাঃ সাহেবের সাথে দেখা করার জন্য যখন চেষ্টা করলাম তখন তাঁরা আমাদের ৬ মাস পরের সিরিয়াল দিয়ে দেখা করতে বলেছেন।

আমি প্রতি ওয়াক্ত সালাতের শেষে আল্লাহর কাছে বলি ওগো দয়াময় এ শিশুটি এতিম, ও দারুন অসুস্থ, তোমার কুদরতী তাজাল্লী দিয়ে আমাদের সাহায্য করো। ডাঃ সাহেবের সাথে আমার দেখা করার পথ সহজ করো।

প্রসেসর ডাঃ ইশান বললেনঃ মা সে ডাক্তারের কি নাম?

বৃদ্ধা উত্তর করলেনঃ ডাঃ ইশান

এবার ডাক্তার অঝর ধারায় চোখের পানি ফেল কাঁদছেন আর বলছেন মাগো আমিই ডাক্তার ইশান

এখন বুঝেছি কেন আমার প্লেন নষ্ট হলো, কেন এতো ঝড় তুফান নেমে এলো, কেনইবা আমি এ বাড়িতে আশ্রয় নিলাম।

বৃদ্ধা দুহাত তুলে অতঃপর মহান রবের সেজদায় চিৎকার করে কাদতে লাগলেন।

বাহিরে অঝর ধারায় বারি প্রবাহিত হচ্ছে, আর জীর্ণ কুটিরে চোখের পানিতে নামাজের মুসাল্লা ভিজিয়ে দিচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে নামী চিকিৎসক ডাঃ ইশান।
মোরালঃ প্রিয় ভাইয়েরা কখনো তোমার আল্লাহর ক্ষমতাকে সামান্য ভেবোনা, মনে রেখো আল্লাহর জন্য অসম্ভব বলে কিছুই নেই। 
لا تقنطوا من رحمة الله
- আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা।



শুক্রবার, ১ জুন, ২০১৮


আলমি শূরার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে 
হযরতের আজীবনের মামুল
****************************
৩. ফাযায়েলে আমলের মুকাবেলায় মুনতাখাব হাদিস
****************************

জামাতে তাবলীগ যেসব উসূলের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেগুলোর মাঝে রয়েছে, কালিমায়ে তাইয়্যেবা, নামায, ইলম ও যিকির, ইকরামুল মুসলিমিন, ইখলাসে নিয়্যত ও তাফরিগে ওয়াক্ত। 

মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ রহ. তাঁর ইনতিকালের কয়েক বছর পূর্বে এই ছয় উসূলের ওপর পৃথক পৃথক আকারে হাদিস সংকলনের কাজ গুরুত্বের সঙ্গে শুরু করেন। তিনি একসঙ্গে কয়েকজন আলেমকে আলাদা আলাদাভাবে বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে দেন যে, তারা যেন প্রচুর তত্ত্ব-তালাশ করে এ সব বিষয়ের হাদিস একত্র করে। তিনি সেই বিষয়গুলোর অধীনে অনেকগুলো শাখা শিরোনামও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। 

সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আলেমদের একজন হলেন, মাওলানা আবদুল্লাহ তারেক। যিনি বসতি নিযামুদ্দিনে মুকিম ছিলেন। তাঁকে ইকরামুল মুসলিমিন শিরোনামের অধীনে হাদিস সংকলন করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। মেহনতের যে সকল সাথী এই কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত, তারা ভালো করেই জানেন যে, হযরত মাওলানা রহ. এই কিতাব সংকলন করার উদ্যোগ ও পরিকল্পনা এ উদ্দেশ্যে নিয়েছিলেন যে, যেন এই কিতাবের অনেকগুলো কলমি পান্ডুলিপি তৈরি করে বিভিন্ন মারকাযে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই মারকায গুলোর মুকিম উলামা হযরত এই পান্ডুলিপি থেকে ইসতিফাদা করতে পারেন (উপকৃত হতে পারেন)। যার কারণে এ গ্রন্থটি যেমন হায়াতুস সাহাবা, আমানিয়ুল আহবার প্রভৃতির মত দ্বিতীয় হযরতজি রহ.-এর ২২ বছরের ইমারতের যুগে প্রকাশিত হয়নি, তদ্রুপ তৃতীয় হযরতজি রহ. এর ৩২ বছরের সুদীর্ঘ ইমারতের যুগেও আলোর মুখ দেখেনি। 

কিন্তু একটি বিশেষ মানসিকতা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে ১৪২১ হি. মুতাবেক ২০০০ সালে উর্দূ, আরবি-সহ বিশ্বের ডজন খানেক ভাষায় ও অনেকগুলো দেশে প্রচন্ড দ্রুততার সঙ্গে কিতাবটি প্রকাশ করা হয়। এ জাতীয় পদক্ষেপের ফলে ওই সব গোষ্ঠী ও শ্রেণি- যারা কোনোদিন শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া রহ. এর মুহাদ্দিসি মর্যাদা ও ফাযায়েলে আমল গ্রন্থের দিগন্ত বিস্তৃত সুখ্যাতি হজম করতে পারেনি, যেই গোষ্ঠী ও শ্রেণি চিরকাল দেওবন্দ ও দেওবন্দের মর্যাদাকে বিষমাখা দৃষ্টিতে দেখতো, তাদের ঘরে ঘরে উল্লাসের মচ্ছ্বব শুরু হয়ে যায়।

এখন যেসব সাধারণ সাথী জামাতে বেরোচ্ছে, তাদের কাছ থেকে; বড় বড় ইজতিমায় উপস্থিত সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বড় গলায় এ অঙ্গীকার নেওয়া হচ্ছে যে, তারা যেন অবশ্যই তাদের তালীমের মাঝে এই মুনতাখাব হাদিস পড়ে এবং দেশে থাকুক, কিবা বিদেশের সফরে বের হোক- সর্বাবস্থায় যেন এ কিতাবটি নিজের সঙ্গে রাখে।

এতো ঢাক-ঢোল আর হম্বিতম্বি পেটানোর পরও এখন পর্যন্ত এ কিতাবটি এতোটা মজলুম হয়ে আছে যে, এখন পর্যন্ত কিতাবটির তালীমের সময় নির্ধারণের ব্যাপারে মানসিক টানাপোড়েন ও চৈন্তিক বিভাজনের কারণে কোনো নির্দিষ্ট তরতিব চূড়ান্ত হয়নি। প্রথমদিকে এলানে বলা হতো, প্রথমে ফাযায়েলে আমল পড়ে শেষে কিছু সময়ের জন্যে এ কিতাব থেকেও তালীম হবে। এরপর দ্বিতীয় রুখ আসে, একদিন ফাযায়েলে আমল থেকে তালীম হবে, পরদিন মুনতাখাবের তালীম হবে। এখন তৃতীয় রুখ জারি হয়েছে, সকালে মুনতাখাবের তালীম হবে, সন্ধ্যায় ফাযায়েলের তালীম হবে। আল্লাহ মালুম,আগামীতে চতুর্থ রুখ কী আসবে?

এখানে একটি কথা স্মরণ রাখা দরকার যে, সকালে মুনতাখাব থেকে ও সন্ধ্যায় ফাযায়েলের তালীম, এই তরতিব জারি করার আসল উদ্দেশ্য হলো, যেসব জামাত আল্লাহর রাস্তায় বের হয় বা ইজতিমাগুলোতে তালীমের আসল ও দীর্ঘ সময় হলো, সকাল। মেহনতের সাথীগণ সকালের তালীমে অংশগ্রহণের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এর বিপরীতে সন্ধ্যার সময়টি সর্বদিক বিবেচনায় গুরুত্বহীন ও সংক্ষিপ্ত।

মুনতাখাব আহাদিস কিতাবের সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এ কিতাবটি যদিও একদিকে বেশ দামী ও মূল্যবান; কিন্তু অন্যদিকে এ কিতাবটি ক্রমশ ঝগড়া ও সংঘর্ষের কারণ হতে চলেছে। এই কিতাবের কারণে মেহনতের সাথীদের মাঝে চরম বিভাজন ও ফেতনা বেড়েই চলেছে।

এর প্রথম কারণ হলো, যারা খোলা চোখে মেহনতের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছে এ কিতাব রচনার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট। তারা বেশ ভালোভাবেই জানেন যে, এ কিতাবটি রচনা করা হয়েছে স্রেফ শায়খুল হাদিস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া মুহাজিরে মদনি রহ. এর ইলমি মর্যাদা ও মুহাদ্দিসানা শানকে চ্যালেঞ্জ করার জন্যে। যেন এর মাধ্যমে মেহনতকে দুটি পৃথক শিবিরে ভাগ করা যায় এবং মেহনতের সাথীদের মাঝে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যায়।
এখানে আমি আমার দিনলিপির ডায়রি থেকে শাবান ১৪২৭ হি./ সেপ্টেম্বর ২০০৬ ঈ. তারিখে অনুষ্ঠিত জোড়ের এক টুকরো তথ্য তুলে ধরছি। যা পড়ে পাঠকবর্গ খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে, যে সকল সাথী হযরত মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. বা তাঁরও আগে হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ রহ. এর আমল থেকে এই দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সঙ্গে জড়িত, সেই ক্বুদামা বা পুরনো সাথীগণ এই মেহনতের নাজুক ও সূক্ষ বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক অবহিত হওয়ার কারণেই তারা এই কিতাব অর্থাৎ মুনতাখাব আহাদিসকে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করা এবং এটিকে ফাযায়েলে আমলের পরিবর্তে নিয়ে আসার উদ্যোগের বিরুদ্ধে কতটা জোরালো ভাবে, কতটা তীব্রতার সঙ্গে বিরোধিতা জানিয়ে আসছেন। আমি সেদিনের দিনলিপিতে লিখেছিলাম,
১৮ শাবান ১৪২৭ হি./ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬।

এদিন বিকেল চারটায় সাহারানপুর থেকে রওয়ানা হয়ে নিরাপদে রাত ৯টায় মারকাযে পৌঁছি। আজকাল এখানে হিন্দুস্তানের পুরনো সাথীদের জোড় চলছে। জানতে পারলাম, সাহেবযাদা হায়াতুস সাহাবার তালীমের পূর্বে জোরালো ভাষায় উপস্থিত সূধীমন্ডলীকে মুনতাখাব আহাদিসের আনুষ্ঠানিক তালীমের উৎসাহ দিচ্ছে। যার ফলে বাইরে থেকে আগত পুরনো সাথীদের মাঝে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সবাই মিলে তাকে জানাবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মাশওয়ারার মাঝে সিদ্ধান্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি এর উৎসাহ দেবেন না। সেমতে এ নিয়ে কথা বলার জন্যে ভাই ফারুক সাহেব, ডক্টর সানাউল্লাহ, ভাই খালেদ সিদ্দিকি, মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, মাওলানা আহমদ লাট সাহেব প্রমুখ একত্র হয়ে ঈশার নামাযের পর মাওলানা যুবায়রুল হাসান সাহেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁদের গভীর উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কথা তুলে ধরেন। পরদিন ৯ শাবান বুধবার মাশওয়ারার পর এ সকল হযরত মাওলানা যুবায়রুল হাসান রহ. এর উপস্থিতিতে সাহেবযাদা সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সবাই এই কিতাব জারির বিরুদ্ধে নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করেন।

সাহেবযাদা প্রথম দিকে প্রচন্ড খুব্ধ হন। শক্ত ও রুক্ষ শব্দ ব্যবহার করেন। কিন্তু সবার সম্মিলিত অভিমতের সামনে শেষ পর্যন্ত চুপ হয়ে যান। তখন সিদ্ধান্ত হয়, সামনের রায়ভেন্ড ইজতিমায় বিষয়টি নিয়ে সম্মিলিতভাবে চিন্তা করা হবে।
মুনাজাতের পর দুপুর একটায় আমি দিল্লি থেকে রওয়ানা হয়ে মাগরিবের আগে আগে সাহারানপুর পৌঁছে যাই। একই ধারাবাহিকতায় ১৪২৭ হিজরি/২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত হজের সফরেও দাওয়াত ও তাবলীগের পুরনো সাথীদের সঙ্গে সাহেবযাদা মাওলানা সাদ সাহেবের মুনতাখাব আহাদিস নিসাবভুক্ত করা-না করা নিয়ে প্রচুর কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় একাধিকবার পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্তও হয়েছিল। সাহেবযাদার প্রবল ইচ্ছা ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে কিতাবটিকে নিসাবের মাঝে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং সর্বত্র পড়া হবে। এর বিপরীতে অন্যসব হযরত এককভাবে ফাযায়েলে আমলের ওপরই জোর দিয়ে যাচ্ছিলেন।

-------------------------
৬. এখানে আমি একজন জার্মান প্রাচ্যবিদের একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি, যিনি এ দাবি করেছেন যে, বর্তমান সময়ে পুরো দুনিয়াতে দেওবন্দ ও দেওবন্দি মতাদর্শের উত্থান ও বিস্তৃতি এককভাবে ফাযায়েলে আমলের কল্যাণে হয়েছে। কাজেই পাঠকবর্গই এখন সিদ্ধান্ত নিন, কোন গোষ্ঠী ও কোন বলয়ের সন্তুষ্টি হাসিল করার স্বার্থে ফাযায়েলে আমলের স্থানে মুনতাখাব আহাদিসকে চয়ন করা হলো!?
--------------------------
মাওলানা যুবায়রুল হাসান কান্ধলভি রহ. / অব্যক্ত বেদনার বিস্মৃত ইতিহাস- পৃষ্ঠা নম্বর ২৪-২৬


রবিবার, ২৭ মে, ২০১৮


আর যে ভাইটি একান্তই অবুঝনা বুঝে এ সব বাক্য উচ্চারণ করছেআমাদের সবার দায়িত্ব তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনার। হজরত গঙ্গুহী রহঃ এর বাক্যযা আমার হৃদয়ে সদা ভীতির সঞ্চার করে,
যারা ওলামাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতোতাদের কবর খুলে দেখোতাদের চেহারা কিবলা থেকে ফিরিয়ে উল্টোমুখী করে দেয়া হয়েছে।"


খতীব সাহেব মসজিদে ঢুকলেন। দক্ষিণ-পূর্ব কর্নারে চাদর দিয়ে ঢাকা বেডিংয়ের স্তুপ। নিশ্চয় জামাত এসেছে। 

হাসিমুখে এগিয়ে গেলেন খতীব সাহেব। আমীর সাহেবকে তালাশ করে বের করলেন। খুতবার আগের বয়ানটা অবলীলায় আমীর সাহেবের কাছে সোপর্দ করলেন। আর দু'জানু বসে বড়ই আদবের সাথে বয়ান শুনতে থাকলেন। আজ খতীব সাহেবের মিম্বরে বসে বয়ান করছেন সওদাগর সাহেব। 

চেয়ারম্যান সাহেব পাঁচ বছরের সাধনার পর এবার নির্বাচিত হয়েছেন। একটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারটাতে এখন একমাত্র তারই অধিকার। এই চেয়ারটি কখনও কারও সম্মানে তিনি ছাড়েন না। ছাড়তে পারেন না। এ তার অনেক কষ্টের অর্জন।

খতীব সাহেব বারো-চৌদ্দ বৎসরের মেহনতের পর অর্জন করেছেন এ যোগ্যতা। আজ এই মিম্বরে বসার অধিকার তার। মসজিদের সভাপতির জন্যও ছাড়েন না। সেক্রেটারির জন্যও না। কেবল অবলীলায় ছেড়ে দেন তাবলীগওয়ালাদের জন্য। যদিও বয়ানকারী বয়ানে শত ভুল করে, তেলাওয়াতকৃত আয়াতের তাজবীদে গন্ডগোল লাগিয়ে দেয়। কিন্তু খতীব সাহেব মা শা আল্লাহ বলে সবাইকে জামাতের আমলে শরীক হওয়ার দাওয়াত দিয়ে দেন। এভাবেই ওলামায়ে কেরামের আন্তরিক সহযোগিতায় তাবলীগ জামাতের মর্যাদা মানুষের অন্তরে বাড়তে থাকে।

মাওলানা শাহ জমির উদ্দীন নানুপুরী। রহমাতুল্লাহি আলাইহি। মাদ্রাসায় জামাত এলে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকেন, মাদ্রাসার ছাত্ররা! ইনারা আল্লাহর রাস্তার মেহমান। দ্বীনের জন্য কুরবানি করছেন। ওনাদের মাথায় তেল লাগিয়ে দাও। ওনাদের কাপড় ধুয়ে দাও। আমার মাদ্রাসায় তিনকাজ তালীম-আমাল-দাওয়াত।

আমাদের এক সাললাগানো আলিমের ভাষায়, নানুপুর মাদ্রাসায় জামাত এলে এমন কদর যেন শাশুড়বাড়িতে এসেছে।

হজরত আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী। রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তাবলীগের সাথীরা কি যে ভুল-ভাল বয়ান করে -এ অভিযোগের জবাবে বললেন, ছোট বাচ্চা যখন কথা শেখে, কত ভুলই না করে। কিন্তু সে ভুলে ভরা উচ্চারণ বাপ-মায়ের কতই না ভালো লাগে। এই সাধারণ মানুষগুলো দ্বীন শেখার চেষ্টা করছে। তাদের এই ভুলে ভরা বয়ান না জানি আল্লাহ তায়ালার কত পছন্দ!

এভাবেই! ওলামায়ে কেরামের আন্তরিক ভালবাসায়, পরিপূর্ণ সহযোগিতায় এই মেহনত এই পর্যায়ে উঠে এসেছে। 

ছয়নম্বর নিয়ে কত প্রশ্ন! এরা ইসলামের মুল ভিত্তি পাল্টে দিয়েছে। জবাব দিয়ে পরিস্থিতি ঠান্ডা করেন ওলামায়ে কেরাম। চিল্লা নিয়ে কত কথা! মসজিদে থাকা নিয়ে কত প্রশ্ন! সব অভিযোগের জবাব ওলামারা দিয়ে যান। 

এভাবেই ওলামা হজরতগন বরাবরই তাবলীগ জামাতের পাশে। 

আমরা যোগ্য ছিলাম না। তাঁরা তাঁদের সেই মিম্বর আমাদের মতো অযোগ্যদের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের সেই সহযোগিতা না থাকলে মসজিদের রগচটা মুসল্লিরা কবেই আমাদের টেনে হিঁচড়ে মিম্বর থেকে নামিয়ে ফেলতো। 

আশ্চর্য! সময়ের ব্যবধানে তাঁরাই আজ আমাদের নজরে তাবলীগবিরোধী! আমরা চিৎকার দিয়ে চলেছি 'আমাদের মিম্বর দখল করতে চায়! আমাদের মারকাজ দখল করতে চায়!'

খুসূসী গাশত মানেই দ্বীনের বড়দের তালাশ। তাঁদের প্রথমে লাগবে। তাঁদের সমর্থন লাগবে। তাঁরা মসজিদ কমিটির রক্তচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে জামাতের সাথে বসেন। মশকের সময় সুরা ফাতেহা ঠিক করে দেন। চুপিচুপি টয়লেটের চাবিটা আমীর সাহেবের হাতে গুঁজে দেন। সেই তারাই আজ আমাদের বড় প্রতিপক্ষ। আজ আমাদের কারও কারও মুখ দিয়ে অহরহ এ কথাই বের হচ্ছে ' আলিমরা দ্বীনের জন্য কি করেছে।' যিনি বলছেন, তিনি তাঁর ব্যস্ততম চেম্বার বন্ধ করে বছরে একবার চিল্লা দেন। লক্ষটাকার ইনকামের কুরবানি হয়। দ্বীনের জন্য এ যে মহা কুরবানি! যারা দুনিয়াকে তিন তালাক দিয়ে দ্বীনি ইলমের চর্চা ও দ্বীনের হেফাজত করার জন্যে সারাজীবন দিয়েছে, তা তো একটা চিল্লার সামনে 
সামান্যই !
 

হে মাওলা! আমরা অন্ধ। প্রকৃত কল্যাণকামীদের চেনার তৌফীক আমাদেরকে দাও।

২… হজরতজী ইলিয়াস রহঃ প্রথমেই বুঝেছিলেন, যদি ওলামায়ে কেরাম আমার এই মেহনত নিয়ে আপত্তি করেন, তাহলে এই কাজ চলবে না। তাই এই 

মেহনতের রূপরেখা তিনি সর্বপ্রথম ওলামায়ে কেরামের কাছে পেশ করেছিলেন।
হজরত মুফতি কেফায়াতুল্লাহ রহঃ ছিলেন দেওবন্দের প্রধান মুফতি। তাকে বলা হতো মুফতিয়ে আজম হিন্দ। তিনিই ছিলেন হজরতজী ইলিয়াস রহঃ এর প্রথম সহযোগী। কুরআন-সুন্নাহর সাথে মিলিয়ে তিনিই সর্বপ্রথম মেহনতের রূপরেখার প্রতি ইতমিনান প্রকাশ করেছিলেন।
 

উপমহাদেশের দ্বিতীয় ব্যক্তি হজরতজী যার সমর্থন মেহনতের জন্য অত্যাবশ্যক মনে করেছিলেন, তিনি হচ্ছেন হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহঃ। থানবী রহঃ এর সমর্থন আদায়ের জন্য এক জামাতকে তিনি বিশেষ হেদায়াত দিয়ে থানাভবন এলাকায় রোখ করেছিলেন। হজরত সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী রহঃ ' হজরত ইলিয়াস রহঃ ও তাঁর দ্বীনি দাওয়াত' কিতাবে সবিস্তারে এ ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন। থানবী রহঃ জামাতের কারগুজারী শুনে জামাতকে কিছু হাদিয়া দিয়েছিলেন। জামাতের জিম্মাদার সেই হাদিয়া হজরতজীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। হজরতজী সেই হাদিয়া দেখে এত খুশী হয়েছিলেন, তার জবান দিয়ে এই কথা বের হয়েছিলো, ' এই মেহনতের সাথে যখন হজরত থানবীর হাতের বরকত যোগ হয়েছে, ইন শা আল্লাহ এই মেহনত চলবে।
সেই প্রথম সারির ওলামায়ে কেরাম, যাদের দোয়া, সমর্থন এই মেহনতের ভিতকে মজবুত করে দিয়েছিলো।
 

আরবদের কাছে এই মেহনতকে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম যাকে নির্বাচন করা হয়েছিলো, তিনি সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী রহঃ। নিঃসন্দেহে সে সময় মেহনতকে আরবদের কাছে পেশ করার জন্যে তিনিই যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলেন। 

মেহনতের সাথে ওলামায়ে কেরামের সমর্থন এভাবে পাশাপাশি এগিয়ে চলেছে।
'তাবলীগে তো ভালো আলিম নেই ' - অভিযোগের জবাবে দেওবন্দের তৎকালিন প্রধান মুফতি মুফতি মাহমুদ হাসান গঙ্গুহী রহঃ এ জবাব দিয়েছিলেন, আমি তাবলীগেরই মুফতি। তাবলীগই আমাকে মুফতি বানিয়েছে।
 

তাবলীগের দ্বারা ইসলাহে নফস কতটুকু হবে এ সংশয়ের জবাবে দেওবন্দের তৎকালিন মুহতামিম হজরত ক্বারী তৈয়ব সাহেব রহঃ এই জবাব দিয়েছিলেন, ' নিশ্চয় দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের মধ্যে ইসলাহে নফস আছে। '

তাবলীগের কাজের সমালোচনার জবাবে ওলামায়ে কেরাম বার বার কলম ধরেছেন। তাঁদের কিতাবাদি এর পক্ষে সাক্ষী হয়ে আছে। শায়খুল হাদীস রহঃ এর ' তাবলীগ জামাতের সমালোচনা এবং এর জবাব' এই বিষয়ে প্রথম বই। 
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর হজরত আল্লামা শাহ আহমদ শফী দামাত বারাকাতুহুম একদম তরুন বয়সে দাওয়াতের মেহনতের পক্ষে কলম ধরেছেন। তাঁর রচিত 'দাওয়াত ও তাবলীগ-একটা জিহাদ ' এ বিষয়ে একটা মাইলফলক। আফসোসের সাথে বলতে হয়, চট্টগ্রামের কিছু অবুঝ সাথী 'হেফাজতে ইসলাম লাভলেইন মারকায দখল করতে আসছে ' জানিয়ে থানায় জিডি করে এবং মারকাযে পুলিশ মোতায়েন করে, যা তাবলীগের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। অথচ সেদিন পুলিশ মারকাযে এক অভাবনীয় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে অবাক হয়। হাজার হাজার তালেবে ইলম ও শীর্ষ স্হানীয় ওলামায়ে কেরামের সেদিন বেডিং কাঁধে শান্তিপূর্ণ উপস্থিতি পুলিশকেও এ-কথা বলতে বাধ্য করে, ' এর নাম মারকায দখল করতে আসা?'

হজরত মুফতিয়ে আজম রহঃ 'তাবলীগ করা কি ফরজ? '- এর এমন এক হিকমতপূর্ণ জবাব দিয়েছেন, যা তাবলীগের সাথীদের মুখে মুখে এখনও শোনা যায়। তিনি বলেছেন, তাববলীগ হলো উম্মুল ফারায়েজ -সব ফরজের মা। একজন বিজ্ঞ আলিমের একটা উক্তিই দাওয়াতের মেহনতকে হাজারগুন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমানিত হয়েছে। 

পটিয়ার মুফতি সাহেব রহঃ এর এই উক্তিটিও মেহনতের কার্যকারিতা বুঝানোর জন্যে প্রবাদবাক্য তুল্য -' তাবলীগ হলো চলতি-ফিরতি মাদ্রাসা।'

মুফতিয়ে আজম রহঃ একদিনের জন্যও তাবলীগে যাওয়ার সুযোগ করতে পারেন নি, কিন্তু

তাঁর লিখনী, তাঁর বক্তব্য চট্টগ্রামের মতো বৈরী এলাকায় দাওয়াতের মেহনতের গ্রহনযোগ্যতা তৈরিতে বিশাল ভূমিকা রেখেছে। 

বাংলাদেশে দাওয়াতের মেহনতের রূপকার হচ্ছেন হজরত আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহঃ। তিনিই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে তাবলীগের কাজ শুরু করার জন্য হজরত মাওলানা আব্দুল আজিজ খুলনাবী রহঃকে, যিনি বড় হুজুর রহঃ নামে প্রসিদ্ধ, দাওয়াতের কাজ শিখে আসার জন্য নিজামুদ্দিন পাঠান এবং মানুষের কাছে দাওয়াতের কাজের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য স্বয়ং নিজে নিজের শত দ্বীনি ব্যস্ততার মাঝেও প্রতি বছর চিল্লা দিতেন। 

যে সাথী এ ইতিহাস মনে রাখবে, সে কখনও ওলামার বিরুদ্ধে, মাদ্রাসার বিরুদ্ধে জবান খুলবে না। মাদ্রাসা ও ওলামাদের বিরুদ্ধে যে সব প্রোপাগান্ডা বামপন্থি ও নাস্তিকেরা চালিয়ে আসছে, সে কথাগুলি কিভাবে একজন তাবলীগওয়ালার মুখ দিয়ে উচ্চারিত হতে পারে? ' তারা হেফাজত, তারা পাকিস্তানপন্থী, তারা জঙ্গি' - এ সব বাক্য পাগড়ি পরিহিত একজন তাবলীগওয়ালার মুখে কিছুতেই মানায় না, মানাতে পারে না। 

বরং আলিম-ওলামাই এই মেহনতের প্রাণ। ওলামাদের অান্তরিক রাহবারিই এই মেহনতের আসল চালিকাশক্তি।

মারকাযের বাইরের ওলামাদেরও আক্রমন করবো, আবার মারকাযের সাথে সংশ্লিষ্ট ওলামাদেরও চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করবো- এ কিছুতেই একজন প্রকৃত তাবলীগওয়ালার কাজ হতে পারে না। আমরা যদি তাবলীগি পরিচয়ে পরিচিত কারও মুখ থেকে এ ধরনের কথা শুনি, তাহহলে আমাদের মনে করতে হবে এ বর্ণচোরা, ইসলামেরই কোন দুশমন বদ মতলবে তাবলীগের বেশ ধরেছে। ইলিয়াসী ফিকরে যে ফিকরবান, তার মুখ দিয়ে কখনোই এমন বাক্য বের হতে পারে না। সময় এসেছে প্রকৃত তাবলীগওয়ালা চেনার।
আর যে ভাইটি একান্তই অবুঝ, না বুঝে এ সব বাক্য উচ্চারণ করছে, আমাদের সবার দায়িত্ব তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনার। হজরত গঙ্গুহী রহঃ এর বাক্য, যা আমার হৃদয়ে সদা ভীতির সঞ্চার করে, " যারা ওলামাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতো, তাদের কবর খুলে দেখো, তাদের চেহারা কিবলা থেকে ফিরিয়ে উল্টোমুখী করে দেয়া হয়েছে।"

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।


তাবলীগ ইস্যুতেমাওলানা সাদদেওবন্দ ও নিজামুদ্দীনকেমুখোমুখি দাঁড় করালেন-তাহলে কিতিনি সালাফ্যিাতেরসঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন?



ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ

হজরতজি মাওলানা সাদ কান্ধলভি আমার কাছে একজন দক্ষ মুবাল্লিগ ও যোগ্যতম ব্যক্তিত্ব এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তার ভেতর দুটি জিনিস না থাকলে আমি খুশি হতাম।

তাহলো,

তার কথা, কাজ, কর্মপদ্ধতি ইত্যাদি থেকে আমার ও আমার মতো অনেকের মনে হয় তিনি আহলে হক আলেমদের মতবাদ ও চিন্তার বাইরে একটি মতবাদ গ্রহণ করেছেন।

এখানে তার উচিৎ ছিলো অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বিষয়গুলো হ্যান্ডেল করা। কিন্তু তার বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে কমতি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাকে আবারও ভেবে দেখার দরকার। নতুবা সমস্যার সমাধান হবে না।
আমার মনে হয়, দাওয়াত  তাবলীগের কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে মাওলানা সাদ নিজেকে শুধু আনাফিয়্যাতের মধ্যে আটকে না রেখে সালাফ্যিাতের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। কারণ, আরব বিশ্বসহ সারা পৃথিবীতে সালাফি অনুসারী অনেক লোক রয়েছে যারা তাবলীগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

ওনার আরেকটি বিষয় আমাকে ব্যথিত করেছে, তা হলো কুরআনের শিক্ষকদের রোজগারকে তিনি বেশ্যাবৃত্তির উপার্জনের চেয়ে নিকৃষ্ট বলেছেন। এটা তার ভুল। এ ভুল তাকে ও তার অনুসারীদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

আমরা উৎসাহিত করি মাদরাসা শিক্ষাকে, এর সঙ্গে লেগে থাকাকে, মাদরাসায় পড়া ও পড়ানোকে। কেনো করি? করি ইসলামি শিক্ষাকে টিকিয়ে রাখতে। মাদরাসায় পড়িয়ে যদি অর্থ উপার্জন না করা যায় তাহলে দীনি শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ হারিয়ে যাবে। হুমকির মুখে পড়বে।

ফিকহি বিবেচনায়ও বিষয়টি ঠিক নয়। আমরা জানি, কোনো বিষয়ে যখন কোনো মত প্রত্যাখ্যাত হয়, তখন দ্বিতীয়বার তা টেনে আনা যায় না। যেমন, ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন, ফার্সিতে কেরাত পড়লে নামাজ হবে। কিন্তু আহনাফ মতটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

রাসুল সা. এর যুগে নামাজে কথা বলা বৈধ ছিলো পড়ে তা পরিহার করার নির্দেশ এসেছে। ইমাম আবু হানিফা বাদে বাকি অন্য তিন ইমাম (শাফেয়ি, মালেক ও আহমদ রহ.) কুরআন শিক্ষকের উপার্জনকে উত্তম হালাল বলেছেন। ইমাম আবু হানিফা রহ. বিষয়টি মাকরুহ বলেছেন। কিন্তু আহনাফের ফতোয়া তার মতের উপর দেন নি।

এখন একটি মাতরুক (প্রত্যাখ্যাত) মত গ্রহণ করে আলেম-উলামা উপার্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কি ঠিক হলো?

হজরতজি সাদ কান্ধলভি রহ. এর রুজু ও দারুল উলুমের ভূমিকা নিয়ে আমি দুটি কথা বলবো।

এক. রুজুর ব্যাপারে মাওলানা সাদ কান্ধলভির যে ভূমিকা গ্রহণ করা দরকার ছিলো তা তিনি করেন নি। তিনি পারতেন দারুল উলুম দেওবন্দ যেতে। তিনি সেখানের ছাত্র-শিক্ষকদের সামনে নিজের ভুল স্বীকার করলে তার কি এমন ক্ষতি হতো? দারুল উলুম দেওবন্দ তো তার পরজন কেউ নন। তিনি কখনো দেওবন্দ যান না। এটা দৃষ্টিকটূ।

কেনো তাকে বার বার আলেমদের বলতে হবে প্রকাশ্যে রুজু করুন? শরিয়তের মূলনীতি হলো, প্রকাশ্য ভুলের তওবা প্রকাশ্যে এবং গোপন ভুলের তওবা গোপনে হবে। নতুবা তা খেয়ানত হিসেবে গণ্য হবে। এটা আলেম হিসেবে তার অজানা থাকার কথা নয়।

দুই. মাওলানা সাদের রুজুর বিষয়ে দেওবন্দের বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে লোকেরা যেভাবে টানাটানি শুরু করেছে তা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। তাদের অবস্থা দেখে মনে হয়, দেওবন্দই সবকিছু। দেওবন্দের কথা না বললে সব আটকা পড়ে যাবে। কিন্তু দেওবন্দ তো কুরআন-হাদিস নয়। দলিল হলো কুরআন-সুন্নাহ।

দেওবন্দের উপর আমাদের আলেমদের আস্থা এবং দেওবন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ভিন্ন বিষয়। কিন্তু দেওবন্দ তাকে না মানলে আমরা মানবো না, বিষয়টি এভাবে ভাবলে চলবে না।

কুরআন-সুন্নাহর তার পক্ষে থাকলেই হবে। তার মতের পক্ষে কুরআন-সুন্নাহর দলিল থাকলে তিনি একটি গণমাধ্যমে তা তুলে ধরতে পারেন। আর না থাকলে গণমাধ্যমে তওবার ঘোষণা দিক। কোনো সমস্যা নেই।

মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিষয়টি উপলক্ষ্য করে মানুষের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করা হচ্ছে। এটা অনেক ভয়ের। আমাদের দুটি মারকাজ ছিলো দেওবন্দ ও নিজামুদ্দিন। এখন দুটিকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর একটি পায়তারা দেখা যাচ্ছে। এটা সুখকর নয়। এতে উভয়টিই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

তাহলে প্রশ্ন থাকে আমাদের দেশের উলামায়ে কেরাম কেনো দেওবন্দের উপর নির্ভর করছেন? উত্তর সম্ভবত এটাই, পূর্ব থেকে চলে আসা সম্মানপ্রদর্শনের ধারাবাহিকতায় তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অধিকতর নির্ভরতা। নতুবা শরয়ি সিদ্ধান্ত দেয়ার মতো আলেম আমাদের দেশেও অনেক রয়েছে।

আরেকটি বিষয় আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, তাবলিগের কাজ পরিচালিত হবে যোগ্য অভিজ্ঞ আলেমদের তত্ত্বাবধানে। দিকনির্দেশনা উলামারা দেবে। হজরতজি ইলিয়াস রহ. এর শতভাগ খেয়াল দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এটিই।

এ ক্ষেত্রে আমার জোর দাবি থাকবে, যেসব আলেমকে উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়েছে তাদের পুতুল বানিয়ে না রেখে নির্দেশনা অনুসরণ করা হোক। নতুবা এসব আলেমের অবমাননা হবে। আলেম উলামাকে পাশ কাটিয়ে কাকরাইল যদি অন্য পথে সমাধান খুঁজে তবে দিনে দিনে তা বাতিল সম্প্রদায়ে পরিণত হবে।

আমি মনে করি, দাওয়াত তাবলীগে মাওলানা সাদ কান্ধলভির প্রয়োজন আছে। তিনি একজন যোগ্য ও দক্ষ মানুষ। তিনি হজরতজি ইলিয়াস রহ. এর নিসবতের মানুষ। তাবলীগ জামাতের জন্য তার নেতৃত্বের প্রয়োজন আছে।
তবে তাকে অবশ্যই হক্কানি-রব্বানি আলেমদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, তাসাওফের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা যাবে না, দীনি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও তার ধারকদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা যাবে না। আর যদি তিনি তার পিতৃপুরুষদের পথ পরিহার করে এসব বিষয়ের প্রতি অবজ্ঞা অবহেলা প্রদর্শন করেন তাহলে হোঁচট খাবেন। চলতে পারবেন না।

এসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল করলে গোটা দুনিয়ার তাবলীগের কাজের নেতৃত্বের জন্য মাওলানা সাদ কান্ধলভির ব্যক্তিত্বের কোনো বিকল্প নেই।

তাকে কেনো এসব বিষয় মানতে হবে? কারণ, তার একটি ভুলের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভুলে পতিত হবে। তার ভুল ব্যক্তির ভুল না; জাতির বৃহৎ অংশের ভুল। সুতরাং তাকে সতর্ক হতেই হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহর রাসুল আলেমদের তার উত্তরসুরি ঘোষণা করেছেন। কোনো মুবাল্লিগকে নয়। আল্লাহও দীনের কথা বলার দায়িত্ব উলামায়ে কেরামকে দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেছেন, ‘কেনো তাদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র দল বের হয় না যারা দীনি শিক্ষা অর্জন করবে এবং ফিরে এসে স্বজাতিকে সতর্ক করবে।

কুরআন হলো এমন একটি সংবিধান যা প্রয়োগ করার জন্য বিজ্ঞ আইনবিদের প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিলে সংবিধান তারা কচুকাটা করে ছাড়বে।

*************************************
লেখক: বিশিষ্ট আলেম, লেখক, গবেষক ও মুহাদ্দিস


শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮


আলমি শূরার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েহযরতের আজীবনের মামুল

***********************************আলমি শূরা সম্পর্কে এই বিশদ আলোচনার অধীনে একটি তথ্য পাঠকবর্গের সামনে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করছি।তাহলো, মাওলানা যুবায়রুল হাসান রহ. সেই আলমি শূরার প্রতি শুধু মৌখিক সম্মানই দেখাননি; বরং তিনি সর্বোতভাবেসেই শূরার প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওপর আমলও করতেন।নিম্নে আমরা কয়েকটি উদাহরণ পেশ করছি-

১. শূরার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাইআত স্থগিত করা
-----------------------------------------------------------
শূরা সর্ব প্রম এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, এখন থেকে নিযামুদ্দিন মারকাযে বাইআতের সিলসিলা বন্ধ থাকবে। কাজেই যেসকল সাথী যেই মাশায়েখ বা আকাবিরের কাছে বাইআত হতে চান, তারা তাঁদের নিজ নিজ অবস্থানস্থলে গিয়ে এই সিলসিলা জারি রাখতে পারেন।

মাওলানা যুবায়রুল হাসান রহ.-কে আল্লাহ তাআলা রহমতের প্লাবনে সিক্ত করুন। তিনি তৃতীয় হযরতজি রহ. এর ইনতিকালের পর আলমি শূরার এই সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাইআত করার ক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। অথচ ওই যুগের অসংখ্য আকাবির বাইআত হতে ইচ্ছুক তালিবদেরকে আত্মশুদ্ধির জন্যে হযরতের শরণাপনড়ব হওয়ার ও হযরতের সঙ্গে রূহানি সম্পর্ক গড়ে তোলার নসিহত করতেন। কিন্তু হযরত রহ. এই মামুল বানিয়ে নিয়েছিলেন যে, যখন কেউ তাঁর হাতে বাইআত হওয়ার জন্যে জোরাজুরি করত তখন তিনি এ কথা বলতেন যে, ‘আব্বাজান রহ. এর বাইআতই যথেষ্ট। আপনি এখন তাঁর বাতলানো মামুলাতের ওপর আমল করুন। হ্যাঁ, কোনো কিছু জানার প্রয়োজন বোধ করলে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

আমি নিজে তাঁর মজলিসে অজস্রবার এ দৃশ্য দেখেছি যে, দাওয়াতের অনেক সাথী ও উলামায়ে কেরাম তাঁর হাতে বাইআত হওয়ার জন্যে উপর্যুপরি অনুরোধ করতো; কিন্তু তিনি এ কথা বলে অসম্মতি জানিয়ে দিতেন যে, ‘শূরার পক্ষ থেকে নিষেধ রয়েছে। যেই শূরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার মাঝে আমি নিজেও আছি। কাজেই আমি নিজেই আবার বাইআত করিয়ে কীভাবে সেই ফয়সালা অমান্য করি’! অনেক ভাই সরাসরি বা চিঠির মাধ্যমে আমাকে দিয়ে তাঁর কাছে সুপারিশ করিয়েছেন; কিন্তু হযরত রহ. জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তের ওপর অবিচল ছিলেন। এক্ষেত্রে আমি সর্ব প্রম সুপারিশ করেছিলাম মাওলানা মুহাম্মদ সুলায়মান ঝাঞ্ঝি ভাইয়ের জন্যে। তিনি আমাকে বারবার জোরাজুরি করে তার জন্যে সুপারিশ করার অনুরোধ করেন; কিন্তু হযরত রহ. শূরার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিষ্কার অমত জানিয়ে দেন। সুরাটের সম্ভ্রান্ত পরিবার মুনিয়ার বংশের দুজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব জনাব আলহাজ শেখ মাহমুদ মুনিয়ার ও জনাব শেখ আবদুল হাফিয মুনিয়ার সম্পর্কে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানতে পেরেছি যে, এ দুজনও হযরত রহ. এর কাছে বাইআত হওয়ার জন্যে প্রবল অনুনয়-বিনয় করেছিলেন; বরাবরের মত এদেরকেও হযরত শূরার সিদ্ধান্তের ওজর পেশ করে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। 

হযরতের বাইআতের অস্বীকৃতির কথা প্রফেসর খালেদ সিদ্দিকি সাহেব তাঁর পত্রে লিখেছেন-

আমার মনে পড়ে, একবার আমি নির্জনে মরহুম মৌলভি যুবায়র সাহেবের কাছে আবেদন করেছিলাম, ‘আপনার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমাকে বাইআত করে নিন। আমি পূর্বে মাওলানা ইউসুফ সাহেব রহ. এর কাছে বাইআতাবদ্ধ ছিল। তাঁর ইনতিকালের পর মাওলানা মুহাম্মদ ইনআমুল হাসান রহ. এর কাছে বাইআত হয়েছি। এখন তাঁর ইজাযতপ্রাপ্ত খলিফাদের মধ্যে শ্রেফ আপনি একাই আছেন। কাজেই আপনি আমাকে বাইআত করে নিন, যেন আমি শূন্য না থাকি।

কিন্তু আমার সেই অনুরোধে মৌলভি যুবায়র রহ. সায় দেননি। অথচ ওই মুহূর্তে সেই হুজরায় শুধু আমরা দুজনই ছিলাম। আমার অনুরোধের উত্তরে তিনি বলেন, ‘হযরতের ইনতিকালের পর শূরা মাশওয়ারা করে কোনো কল্যাণ সামনে রেখে বাইআত স্থগিত রেখেছে। আমি সেই শূরার একজন সদস্য। ওই মাশওয়ারায় আমি শরিক ছিলাম। শূরার সেই সিদ্ধান্তের কারণে বাইআত স্থগিত করে দিয়েছি। শূরার সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা ঠিক হবে না। তুমি হযরতের কাছে বাইআত হয়েছিলে। হযরত পড়ার জন্যে যেই অযিফা দিয়েছেন, তা আদায় করতে থাকো। অবশ্য এক্ষেত্রে কোনো রাহবারি চাইলে আমি হাজির আছি। কিন্তু শূরার মাশওয়ারার বিরোধিতা করে বাইআত নেওয়া আমার জন্যে সমীচীন হবে না।

আমি যদ্দূর জানি, তিনি আজীবন কাউকে বাইআত করেননি। খুব দ্রুত পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

২. শূরার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আরেকটি নজির
----------------------------------------------------------
শূরার আরেকটি বড় ধরনের সিদ্ধান্ত ছিল, এখন থেকে এই আলমি মেহনতে কোনো আমির থাকবে না। সব জায়গায় এই মেহনত জামাতি শূরার বুনিয়াদের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। মাওলানা যুবায়রুল হাসান রহ.কে আল্লাহ তাআলা রহমতের প্লাবনে সিক্ত করুন। তাঁর হাশর-নশর তাঁর মহান পিতৃপুরুষদের সঙ্গে করুন। তিনি শূরার এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ হাসিমুখে, আন্তরিক সৌহার্দ্যরে সঙ্গে গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। নিজের জীবনের শেষ বিশ বছরের মুবারক মুদ্দতে তিনি সবসময় নিজেকে জামাতি ফয়সালা ও সর্বসম্মিলিত মাশওয়ার অনুগত বানিয়ে রেখেছিলেন। তিনি যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা থেকে নিজেকে সর্বোতভাবে নিষ্কলুষ রেখেছেন। যার ফলে এই দাওয়াতি মেহনত গোটা দুনিয়াতে নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থেকেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়নি। এটি নিঃসন্দেহে তাঁর ওপর মহান আল্লাহর অপরিসীম দয়া ও করুণা যে, তিনি তাঁর শ্রদ্ধেয় আব্বাজান তৃতীয় হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. এর ইনতিকালের পর আরো বিশ বছর জীবিত ছিলেন। এই দীর্ঘ মুদ্দতে মেহনত আলমি শূরার অধীনে পরিচালিত হয়েছে। ইতিহাসের এই প্রলম্বিত সময়ে একটিবারের জন্যেও তিনি আমির হওয়ার খায়েশ কারো কাছে ব্যক্ত করেননি। বা কোনো ধরনের হিলা-বাহানা-কৌশল অবলম্বন করে নিজের আমিরত্বের দাবি তোলেননি।
এক্ষেত্রে তিনি তাঁর মহান দুঅগ্রপথিক মনীষা দ্বিতীয় হযরতজি রহ. ও তৃতীয় হযরতজি রহ. এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। কারণ, হযরত মাওলানা ইয়াকুব সাহেবের ভাষায়, ‘এ দুহযরতজি যদিও সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে আমির ছিলেন; কিন্তু কখনই তারা নিজেদেরকে আমির দাবি করেননি। কখনই কোনো কথা আমিরসুলভ ঢঙে বলেননি। কখনই নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি। আমির হওয়া সত্তে¡ও তাঁরা সবসময় নিজেদেরকে মাশওয়ারার অনুগত বানিয়ে রাখতেন। [২৩ যিলক্বদ ১৪৩৭ হি./১৩ আগস্ট ২০১৬ তারিখে লেখা চিঠি]

বইয়ের কলেবর সংক্ষিপ্ত রাখার উদ্দেশ্যে শুধু দুটি উদাহরণ পেশ করলাম, যেখানে শূরার সিদ্ধান্তের প্রতি হযরত রহ. এর পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। নয়তো এ ধরনের উদাহরণের তালিকা খুবই দীর্ঘ।

********************************************************

মাওলানা যুবায়রুল হাসান কান্ধলভি রহ. / অব্যক্ত বেদনার বিস্মৃত ইতিহাস- পৃষ্ঠা নম্বর ২২-২৪


ব্লগ ব্যাংক

((( অনুসরণকারী )))

অবদানকারী

((( মোট পৃষ্ঠাদর্শন )))

দৃষ্টি আকর্ষন ( ATTENTION )

পবিত্র কোরআন হাদীস এর সম্মান রক্ষার্থে, এই ব্লগের যে কোন লেখা পড়ার পূর্বে দয়া করে আপনার চারপাশের পবিবেশ এর পবিত্রতা বজায় রাখুন

Before you Play/Read any of this blog content, please ensure that you and your environment are in proper form for the honor of The Holy Quran & Hadith.

((( বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট )))

তাহাজ্জুদের নামাজ ।।। আল্লাহ তা'লার সাথে ভালবাসার কথোপকথন

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক তৈরির প্রধান মাধ্যম নামাজ। নামাজের মাধ্যমে মহামহিম স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার ভালবাসার কথোপকথোন । হাদিসে বর্ণি...

৬ সিফাতের ভিত্তিতে লেখা