*************************************************

*এলান নয় হেদায়েত মনেকরে পড়ি*

************************************************

আসসালামু আলাইকুম

১- ফিতনা হত্যার চেয়ে মারাত্মক। (২:১৯১ আল কোরান)
২-
হজরত আবু উমামাহ আল বাহিলী রাঃ বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন "আমি তার জন্য বেহেস্তের কিনারায় একটি ঘরের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে ঝগড়া/বিতর্ক ছেড়ে দেয়, যদিও সে হকের উপরে। (আবু দাউদ)
৩-
হজরত হোযাইফা ইবনে ইয়ামান রাঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করিয়াছেন, সেই জাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করিতে থাক। নতুবা অতিসত্বর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর আপন আযাব পাঠাইয়া দিবেন। অতঃপর তোমরা দোয়া করিলেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দোয়া কবুল করিবেন না। (তিরমিযী)

সমাধান/সমঝোতা - সবাই সমস্যার কথা জানেন বা সমস্যার কিছু নিশানা খবরে পড়েছেন। এই লেখা শুধুমাত্র সমাধানের একটি রাস্তা। এ বেপারে আমাদের বলার কারণ সমস্যার ফলাফল উম্মতের আখেরাতের ও হেদায়েতের মেহনতের ক্ষতি। শয়তান জিতে যাচ্ছে। উম্মত ওরাসাতুল আম্বিয়া, নবীদের বংশধর, আলেমদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এতে জিহালত বাড়তে থাকবে। আমাদের প্রস্তাবিত ও অনুরোধকৃত সমাধানের দুটি অংশ, এবং একটি ছাড়া অপরটির দ্বারা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এবং একটির চেয়ে অপরটি বেশি জরুরি নয়। এই সমাধান স্বাভাবিক মনে হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো না হওয়ার কারণে সমস্যা বেড়ে চলছে।

১+২=৩. আলেমদের মতপার্থক্য/মতবিরোধ আলোচনা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। যেসব মুরুব্বি আলেমরা মতপার্থক্য/মতবিরোধের সমাধানে সরাসরি জড়িত শুধু সেসব মুরুব্বি আলেমরা এ বেপারে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। উম্মতের দ্বীনি বেপারে ঝগড়া করার ও ফেতনা বাড়ানোর অধিকার নেই। আলেমদের ঝগড়া সমাধান করা দায়িত্ব, বাড়ানো নয়।আলেমদের এবং উম্মতকে ঝগড়া ছেড়ে মানুষকে আল্লাহর হুকুম ও নবী সাঃ এর জীবন পদ্ধতিতে আনার মেহনতে মনোযোগ দিতে হবে।আপনার কাছে কি ঝগড়া করা জরুরি না ফেতনা ছেড়ে নবী সাঃ এর মেহনত জরুরি?

১. উম্মতকে প্রথমত পূর্ণ সন্মান এবং দ্বিতীয়ত খেদমত করতে হবে ওরাসাতুল আম্বিয়া, নবীদের বংশধর, আলেমদের। আলেমদের সন্মান ও খেদমত করা উম্মতের উপরে আলেমদের অধিকার। উম্মতের এই দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আলেমদেরও সংসারিক ও দ্বীনি প্রয়োজনের খরচ আছে। কোনো আলেমকে বা কোনো আলেমের কোনো দীনি মেহনতকে ছোটো করে দেখার বা অসম্মান করার কোনো অধিকার উম্মতের নেই।

২. আলেমদের ওরাসাতুল আম্বিয়া পদবীর পূর্ন হক আদায় করতে প্রথমত সমস্ত উম্মতকে সঠিক ইসলাম শিখাতে হবে,মাদ্রাসার ভিতরে ও বাহিরে, এবং দ্বিতীয়ত উম্মতের খেদমতের মালকে শুধুমাত্র হাদিয়াবা উপহার হিসেবে নিতে হবে বা মনে করতে হবে, পারিশ্রমিক নয়। তাবলীগ, ওয়াজ, বয়ান, এসো দীন শিখি অনুষ্টান বা প্রশ্ন উত্তর সহ মাসায়েলের এলেমের নিয়মিত মজলিস, মাদ্রাসা ও অন্যান্য মাধ্যমে উম্মতের ও ওরাসাতুল আম্বিয়া পদবীর হক আদায় করা।

জরুরি বিজ্ঞপ্তি - মুসলমানদের মধ্যে এখন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, যিনা, ধর্ষণ, সুদ, ঘুষ, শিরিক, বিদাত,অপবাদ, গীবত সহ বিভিন্ন অত্যাচার ও গুনাহের কাজ ছড়িয়ে পড়েছে ও বিস্তারিত হচ্ছে।এই ফেতনার সময় নিজের জীবনের সীমিত সংক্ষিপ্ত সময় আখেরাতের প্রস্তুতি ও মানুষকে আল্লাহের বড়ত্বের দিকে ডাকার ও অন্যায়/গুনাহ থেকে বিরত করারবদলে আলেমদের (তাবলীগ/মাওলানা সাদ/ইব্রাহিম/আহমদ লাট, মাযহাব/হানাফী/শাফি/মালিকি/হাম্বলী, কওমি) সমালোচনা করা কি বুদ্ধিমানের কাজ না চরম বোকামি? কবরে আলেমদের বেপারে জিজ্ঞেস করা হবে না, তাহলে যে সময়ে নিজেকে ও অন্যদের দোজখ থেকে বাঁচানোর মেহনত করা আল্লাহের দেয়া ঈমানী দায়িত্ব, সে সময়ে আলেমদের সমালোচনা/গীবত করে সময় নষ্ট করা কি চরম বোকামি নয়? আপনি কি বোকা না চালাক তার বিচার হচ্ছে, আল্লাহের কাছে আপনার সময়, অর্থ ও শরীর ব্যবহারে আল্লাহের হুকুম মানার হিসাব দিতে পারবেন?

****************************************

বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮


২. আলমি শূরার শূন্য
পদ পূরণের উদ্যোগ
================================যে সকল সৌভাগ্যবান সাথী তৃতীয় হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. এর নৈকট্য পেয়েছেন এবং দেশ-বিদেশের সফরে তাঁর সংস্পর্শ পেয়েছেন, তারা অবশ্যই এ কথা ভালোভাবে জেনে থাকবেন যে, হযরতজি রহ. এই দাওয়াতি মেহনত নিয়ে সবসময় গভীর চিন্তামগড়ব থাকতেন। তিনি সর্বক্ষণ এই মেহনতের বিভিন্ন কলাকৌশল সম্পর্কে নিজেও যেমন ভাবতেন, তেমনই তাবলীগের প্রথম সারির নির্ভরযোগ্য সাথীদেরকে সবসময় চিন্তা-ভাবনার দাওয়াত দিতেন। একটি দুশ্চিন্তা তাঁকে ভীষণ ভাবে তাড়িয়ে বেড়াতো যে, আলমি মেহনতের এই মুবারক কাজটি যেন আগামীতে কোনো ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। এই মেহনতের ঐক্যের ওপর কোনো অশুভ শক্তির বদনজর লেগে এই মেহনত যেন তার অতীত ও বর্তমান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো বিপরীত গতিমুখের দিকে ছুটতে শুরু না করে। হযরতজি রহ. তাঁর সাধারণ বৈঠক থেকে শুরু করে খাস মসলিসগুলোতে বারবার নানা কায়দায়, নানা বাক্যে বিষয়টির ওপর সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। 

এই উদ্বেগের কারণে হযরতজি রহ. আগামীতে দাওয়াতি মেহনতের মানহাজ ও কর্মপন্থা সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে মেহনতের চারপাশে অনেকগুলো নিরাপত্তাপ্রাচীর দাঁড় করিয়েছিলেন। সেলক্ষ্যে তিনি পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশে সফর করেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রে অজস্রবার সফর করেছেন, সারা বছর হিন্দুস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট-বড় শহরগুলো নিয়মিত চষে বেরিয়েছেন; শারীরিক দুর্বলতা ও কর্মক্লান্তি সত্ত্বেও তিনি সেই ইজতিমাগুলোতে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর বয়ান করেছেন; প্রতিবছর পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভুপালের তাবলীগি ইজতিমায় পূর্ণ গুরুত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতেন; পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রে দাওয়াত ও তাবলীগের চলমান কার্য ক্রমে কোনো ধরনের ব্যত্যয় বা জটিলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক উদ্যোগে তার সমাধানে সচেষ্ট ছিলেন; হারামাইন শরিফাইন-সহ আরবের বিভিন্ন রাষ্ট্রের দাওয়াতি মেহনতের সাথীদের সঙ্গে সুনিবীড় সম্পর্ক রেখেছেন; আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলোর মেহনতের হাজার হাজার সাথীদেরকে প্রতিবছর দলে দলে নিযামুদ্দিনে ডেকে এনে তাদেরকে দাওয়াতি মেজাযের অভিন্নতা, দাওয়াতের সাথীদের ওয়াহদাত বা সামগ্রিক ঐক্য এবং সাথীদের পরস্পরে চৈন্তিক ও আদর্শিক বোঝাপোড়া সম্পর্কে হৃদয় বিগলিত ভাষায় বোঝাতেন; দাওয়াতি মেহনতের পাশাপাশি দুআর ইহতিমাম (পূর্ণ গুরুত্বের সঙ্গে পালন) এবং দিনভর উমুমি মেহনতের পাশাপাশি গভীর রজনীতে কাতর কণ্ঠে আল্লাহর দরবারে অবনত মস্তকে দুআ ও রোনাযারি করে দ্বীনের এই বিশেষ মেহনতের সর্বস্তরে আল্লাহর কুদরতি হিফাযত, অনাগত ভবিষ্যতে এই মেহনতের হিফাযত ও অক্ষুন্নতার দুআ করতেন। তৃতীয় হযরতজি রহ. এর ৩২ বছরের ইমারতের এটাই চিরন্তন আদর্শ।

হযরতজি রহ. এর এ ধরনের আরেকটি আদর্শ হলো, আলমি শূরা। যা তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইখলাসদীপ্ত উদ্যোগের অংশ হিসেবে উম্মতকে উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর সেই অনন্য উপহারকে পৃথিবী এখন আলমি শূরাহিসেবে জানে।

তৃতীয় হযরতজি রহ. তাঁর জীবনসায়াহ্নে এসে একটি আলমি শূরাগঠন করেন। যা তিনি হিন্দুস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ- এই তিন দেশের দশজন পুরনো সাথীকে নিয়ে গঠন করেছিলেন। হযরত রহ. ইচ্ছে করলে নিজের প্রিয় সন্তান মাওলানা যুবায়রুল হাসান রহ.কে নিজের স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করে যেতে পারতেন। তাঁকে তিনি তাঁর অবর্তমানে এ জামাতের আমির ঘোষণা করে যেতে পারতেন। কিন্তু তা না করে কুরআন, হাদিস, ইসলামি শরিয়াতের অন্যান্য উৎস, সীরাতে রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের সোনালি যুগের আদর্শ ঘটনাবলি গভীর মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করে তিনি একটি আলমি শূরাগঠন করে সেই শূরার নেতৃত্ব দেন। হযরতজি রহ. এর ইনতিকালের পর সেই শূরা নিযামুদ্দিন মারকাযের জন্যে মাওলানা ইযহারুল হাসান কান্ধলভি, মাওলানা উমর পালনপুরি, হযরত মিয়াঁজি মেহরাব (মেওয়াত), মাওলানা যুবায়রুল হাসান কান্ধলভি ও মৌলভি মুহাম্মদ সাদ সাহেবকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি পাঁচ সদস্যের শূরা গঠন করে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন যে, এই পাঁচ হযরত আরবি বর্ণমালার ধারাক্রম অনুসারে ফয়সাল-সিদ্ধান্তদাতা হয়ে নিযামুদ্দিন মারকাযের যাবতীয় উমুরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আল্লাহর অমোঘ বিধান অনুসারে মাত্র দুবছরের মাথায় এই শূরার তিন সদস্য ইনতিকাল করেন। তখন মেহনতের পুরনো সাথীদের পক্ষ থেকে এই শূন্য স্থানগুলো পূরণ করার অনুরোধ আসতে থাকে। মাওলানা যুবায়রুল হাসান রহ. সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে এ ইচ্ছে ব্যক্ত করেছিলেন যে, সবার সম্মতি নিয়ে শূন্য স্থানগুলোতে অন্য হযরতদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কিন্তু একটি মহল ভবিষ্যতের কিছু গোপন পরিকল্পনার কথা সামনে রেখে অন্যান্য বিষয়গুলোর মতো এ বিষয়েও তার বিরোধিতা করে। মহলটি কোনোভাবেই হযরতের সেই সদিচ্ছার প্রতি বিন্দু পরিমাণ সম্মান দেখায়নি।ইনতিকালের কয়েক দিন পূর্বেও মাওলানা যুবায়রুল হাসান রহ.কে হযরত মাওলানা ইবরাহিম দেওলা সাহেবের মত পুরনো মুখলিস আকাবির শূরার শূন্যপদ পূরণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। সেই ঘটনা তিনি তার লেখা পত্রে উল্লেখ করেছেন-

এ জন্যেই হযরত মাওলানা যুবাইরুল হাসান সাহেব রহ. এর জীবদ্দশাতেই বেশ কিছু অতীব গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সামনে চলে আসায় কয়েকবার হজরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহ. কর্তৃক গঠিত শূরার মাঝে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কয়েকজন সদস্যকে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা পেশ করা হয়েছিলো। তখন এ দরখাস্ত পেশ করা হয়েছিলা যে, এর মাঝেই আগামীর সকল সমস্যার সমাধান নিহিত। জীবনসায়াহ্নে হযরত মরহুম এর জন্যে মানসিকভাবে প্রস্তুতও হয়েছিলেন। কিন্তু অকস্মাৎ তাঁর আখেরাতের ডাক এসে পড়ে। মহান আল্লাহ তাঁকে মাগফিরাত দান করুন। তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।

এ নিয়ে টানাপোড়েন চলতে থাকে। সেই টানাপোড়েনের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি যখন বিপদসীমার বাইরে চলে যায় এবং শঙ্কাগুলো বাস্তব হয়ে সবার চোখের সামনে বিস্ফোরিত হতে থাকে তখন নভেম্বর ২০১৫ ঈ. / মুহাররম ১৪৩৭ হিজরিতে রায়ভেন্ড (পাকিস্তান)-এ অনুষ্ঠিত সালানা ইজতিমায় হিন্দুস্তান-সহ বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোর অসংখ্য সাথী একত্র হয়ে শূরার শূন্যপদগুলো পূরণ করার প্রচন্ড  প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
যার প্রেক্ষিতে দু’-তিন দিনের অক্লান্ত চেষ্টা-সাধনা ও পারস্পরিক পরামর্শের পর নিযামুদ্দিন মারকাযের জন্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট শূরা গঠন করা হয়। সেই শূরার সদস্যগণ হলেন,

১. মাওলানা ইয়াকুব সাহারানপুরি, মুকিম নিযামুদ্দিন দিল্লি ২. মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, মুকিম নিযামুদ্দিন দিল্লি ৩. মাওলানা আহমদ লাট, মুকিম নিযামুদ্দিন দিল্লি ৪. মৌলভি মুহাম্মদ সাদ, মুকিম মারকায দিল্লি ৫. মৌলভি যুবায়রুল হাসান, মুকিম মারকায দিল্লি

আলমি শূরার জন্যে উল্লেখিত হযরতদের সঙ্গে আরো কিছু ব্যক্তিকে যুক্ত করে অবশিষ্ট শূন্য স্থানগুলো পূরণ করা হয়।তাদের নামের তালিকা সামনে আসবে।

প্রকৃত বিচারে শূরার সদস্যপদ পূরণের এই উদ্যোগ একটি সাধারণ মামুলি বিষয়। পৃথিবীর সব জায়গায় বিভিন্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নিজেদের জন্যে নিয়মিত এই কার্য ক্রম বেশ সহজেই আঞ্জাম দিয়ে আসছেন; কিন্তু এখানে যেহেতু ব্যক্তিগত স্বার্থ ও মুনাফার হিসেব-নিকেশ ঢুকে পড়েছিল, এজন্যে বিষয়টি এখানে মারাত্মক জটিল আকার ধারণ করে ফেলে।

সীমাহীন নাজুক পরিস্থিতির কারণে সারা পৃথিবীর মুবাল্লিগ ও দাঈ ভাইদের চোখের সামনে কী-সব কান্ড কারখানা একটার পর একটা ঘটে চলেছে; যেই কান্ডগুলো দেখে মানুষ হাসাহাসি করছে, সেগুলোকে কাগজের পাতায় তুলে আনাটা কখনই সুখকর নয়। বিদঘুটে কান্ড-কারখানাগুলো দেখে দাওয়াত ও তাবলীগের সাধারণ সাথী থেকে শুরু করে দাওয়াত ও তাবলীগের রূহানি পৃষ্ঠপোষক ও মুরুব্বি শায়খুল হাদিস যাকারিয়া মুহাজিরে মাদানি রহ. এর আধ্যাত্মিক সন্তান ও তাঁর পরিবারের সদস্যগণ (যারা সেসময় রায়ভেন্ডে শূরার শূন্যপদ পূরণের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন) অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে চলেছেন। তাদের সজাগ অনুভূতি প্রতিমুহূর্তে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে চলেছে।

ওই ঘটনাগুলো এখানে কাগজের পাতায় পুনরায় তুলে ধরার প্রয়োজন এ কারণে নেই যে, হোয়াটস-অ্যাপ ও ইউটিউবেরমত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে সেই অরুচিকর কাÐ-কারখানা এখন হাতে হাতে পৌঁছে গেছে।
শূরার শূন্য পদ পূরণের পর রায়ভেন্ড তাবলীগি মারকায থেকে ৪ঠা সফর ১৪৩৭ হি. মুতাবেক ১৬ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে পুরো দুনিয়ার মেহনতের সাথীদের উদ্দেশে যেই ঘোষণা জারি করা হয়েছিল, সেই ঘোষণার পূর্ণ বিবরণ এখানে তুলে ধরা হলো,
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
আল্লাহ তাআলা এ যুগে মাওলানা মুহাম্মদ ইলয়াস সাহেব রহ. এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে দ্বীনের পুনর্জাগরণের জন্যে বাহ্যিক মাধ্যম-উপকরণ ব্যতিরেকে নববি পদ্ধতি অনুসারে ব্যক্তিগত মুজাহাদা ও কুরবানির মাধ্যমে দ্বীনের মেহনত যিন্দা করার পদ্ধতি প্রবর্তন করিয়েছেন। তাঁর ইনতিকালের পূর্বে খোদ মাওলানারই নির্দেশে তৎকালীন মুরুব্বিগণ পরস্পরে শলা-পরামর্শ করে মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ সাহেবকে যিম্মাদার নির্ধারণ করেন। তিনি মাওলানা মুহাম্মদ ইলয়াস সাহেব রহ.-এর পদ্ধতি অনুসারে কুরআন কারিম, হাদিসে রাসূল, সীরাতে নববি ও সীরাতে সাহাবা রাদি.-এর বরকতময় জীবনের আলোকে এই মেহনতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি বিশ্ববাসীর সামনে সুস্পষ্টাকারে মেলে ধরেন। তিনি সার্বিক ভারসাম্য বজায় রেখে মেহনতের বিশদ বিবরণ ও চিত্র উম্মাহর সামনে উপস্থাপন করেন। তখন এই মেহনত সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। 

হযরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব রহ.-এর ইনতিকালের পর শায়খুল হাদিস মাওলানা যাকারিয়া রহ. তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শে মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহ.-এর হাতে এই বরকতময় মেহনতের দায়িত্বভার তুলে দেন। তিনি মেহনতের এই তরিকার সর্বোতভাবে হিফাযত করেছেন। তিনি ক্রমসম্প্রসারমান মেহনতের মাঝে আসল তরিকা অক্ষুন্ন রাখার জন্যে সঙ্গীদের পরামর্শে বিভিন্ন দেশে শূরার তরতিব চালু করেন। কোথাও আমিরের সঙ্গে শূরা, কোথাও শূরার সদস্যবর্গের পালাবদল করে ফয়সাল সিদ্ধান্তদাতা হওয়ার তরতিব জারি করেন। এর পাশাপাশি পৃথিবীর দেশে দেশে দ্রুত বর্ধনশীল মেহনতকে পর্যবেক্ষণ ও মেহনতের মান উন্নত করার জন্যে নিজের সঙ্গে দশ সদস্য বিশিষ্ট একটি শূরা যুক্ত করে নেন। যেই শূরা হযরতজি রহ. এর তত্ত্বাবধানে সব জায়গার শূরা ও মেহনতের সাথীদের আস্থা অর্জন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতো। হযরতজি রহ.-এর ইনতিকালের পর এই শূরা পূর্বের সেই কর্মপন্থা অক্ষুন্ন রেখে মেহনত অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়, যেই কর্মপন্থার ওপর পূর্বের তিন আকাবির মেহনত পরিচালনা করে এসেছেন।

২০১৫ সালের নভেম্বরে নিযামুদ্দিন, রায়ভেন্ড, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পুরনো যিম্মাদার সঙ্গীরা এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন যে, হযরতজি রহ. কর্তৃক গঠিত শূরার শূন্য পদগুলো পূরণ করা দরকার। কেননা এই শূরার আট সদস্য ইতোমধ্যে ইনতিকাল করেছেন। স্রেফ দুজন বাকি আছেন। তাহলে এই মেহনতের পথ ও পদ্ধতি নিরাপদ থাকবে। যখনই শূরার মাঝে কোনো সংযোজন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভূত হবে তখন তা এই শূরার পূর্ণ সম্মতিতে হতে হবে। যেন, সবার ঐক্য অক্ষুন্ন থাকে। নিযামুদ্দিন, রায়ভেন্ড ও কাকরাইলে এই শূরার সম্মতি ব্যতিরেকে কোনো নতুন তরতিব চালু করা যাবে না। কখনো শূরার কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে শূরার অবশিষ্ট সঙ্গীগণের মধ্য হতে কমপক্ষে দু-তৃতীয়াংশ সদস্যের মঞ্জুরিসাপেক্ষে সেই শূন্যতা পূরণ করা যাবে। যেন, শূরার অস্তিত্ব বহাল থাকে এবং এই মুবারক মেহনত উম্মতের মেহনত ও সর্বমিলিত মেহনত হিসেবে বাকি থাকে।

সব জায়গার পুরনো যিম্মাদারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও অভিমত নেওয়ার পর এই শূরার মাঝে মুহতারাম হাজি আবদুল ওয়াহহাব সাহেব মাদ্দা যিল্লুহু ও মাওলানা সাদ সাহেব মাদ্দা যিল্লুহুর সঙ্গে নিম্নের সাথীদেরকে যুক্ত করা হলো। ইনশাআল্লাহ, এখন থেকে আগামীতে এই শূরা তেরোজন সঙ্গী নিয়ে গঠিত থাকবে

১. মাওলানা ইবরাহিম দেওলা সাহেব [নিযামুদ্দিন] ২. মাওলানা ইয়াকুব সাহেব [নিযামুদ্দিন] ৩. মাওলানা আহমদ লাট সাহেব [নিযামুদ্দিন] ৪. মাওলানা যুহায়রুল হাসান সাহেব [নিযামুদ্দিন] ৫. মাওলানা নযরুর রহমান সাহেব [রায়ভেন্ড] ৬. মাওলানা আবদুর রহমান সাহেব [রায়ভেন্ড] ৭. মাওলানা আবদুল্লাহ খুরশিদ সাহেব [রায়ভেন্ড] ৮. মাওলানা যিয়াউল হক সাহেব [রায়ভেন্ড] ৯. কারি যুবায়র সাহেব [কাকরাইল] ১০. মাওলানা রবিউল হক সাহেব [কাকরাইল] ১১. ভাই ওয়াসিফুল ইসলাম সাহেব [কাকরাইল]

এই শূরার মাঝে নিযামুদ্দিনের যেই পাঁচ সাথী রয়েছেন, তারা নিযামুদ্দিনের শূরার মাঝে থাকবেন। এই শূরা নিযামুদ্দিনের যাবতীয় বিষয় পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে নিষ্পনড়ব করবেন। ৪ ঠা সফর ১৪৩৭ হি./ ১৬ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে এই সিদ্ধান্তের ওপর যারা স্বাক্ষর করেছেন,
* মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব সাহেব
* মাওলানা নযরুর রহমান সাহেব
* মাওলানা আহমদ লাট সাহেব
* মাওলানা ইহসানুল হক সাহেব
* মাওলানা ইবরাহিম দেওলা সাহেব
* মাওলানা ইসমাঈল গোধরা সাহেব
* ড. মুহাম্মদ খালেদ সিদ্দিকি সাহেব
* মাওলানা তারিক জামিল সাহেব
* ভাই ফারুক আহমদ সাহেব
* ভাই বখত মীর সাহেব
* ডক্টর সানাউল্লাহ সাহেব
* ডক্টর রুহুল্লাহ সাহেব
* প্রফেসর আবদুর রহমান সাহেব
* ভাই চৌধুরি মুহাম্মদ রফিক সাহেব

আলমি শূরার শূন্যপদগুলো পূরণ করার পর যেই পাঁচ হযরততে নিযামুদ্দিন মারকাযের যাবতীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল গঠন করা হয়, তাদের পক্ষ থেকে একটি জরুরি বিশ্লেষণাত্মক চিঠি তাবলীগের সকল সাথীর উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হয়। সেই জরুরি চিঠির মাঝে এই বিবরণ লেখা ছিল,
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

১. আল্লাহ তাআলা হযরতজি মাওলানা মুহাম্মদ ইলয়াস সাহেব রহ. এর অন্তরে দাওয়াতের এই মেহনত ইলকা করেছেন (ঢেলে দিয়েছেন)।

২. হযরত মাওলানা সুহায়বুল হাসান সাহেব এই মেহনতের মানহাজ, উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা বিশদাকারে বিশ্লেষণ করেছেন।

৩. হযরত মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. সেগুলোকে সুবিন্যস্ত আকারে, সুসংবদ্ধভাবে সংকলন করেছেন।

৪. আমরা জানি, মেহনত সেই মানহাজের রাজপথের ওপর চলমান থাকবে। এর মাঝে সংযোজন অথবা পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে যতক্ষণ পর্যন্ত (নিযামুদ্দিন, রায়ভেন্ড ও কাকরাইল) এই তিন মারকায সর্বসম্মত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তা শুরু করা যাবে না। এই উদ্দেশ্যেই হযরতজি রহ. শূরা গঠন করেছিলেন। এই শূরার মাঝে নিযামুদ্দিনের যেই পাঁচ হযরত অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, তারা পালাবদল ক্রমে ফয়সাল-সিদ্ধান্তদাতার দায়িত্ব পালন করবেন।

ওয়াস-সালাম

এ দুটি চিঠি পাঠকদের সামনে বিশদাকারে তুলে ধরার কারণ হলো, এ দুটি ছিল আল্লাহর কুদরতের এক অনন্য প্রকাশ। এ চিঠিদুটির মাঝে আমাদের জন্যে দষ্টৃ ান্তমূলক শিক্ষা রয়েছে। রায়ভেন্ড মারকায থেকে ৪ঠা সফর ১৪৩৭ হিজরি, মুতাবেক ১৬ নভেম্বর ২০১৫ ঈ. তারিখে প্র ম যেই ঘোষণামূলক চিঠি জারি করা হয় আর এরপর নিযামুদ্দিন মারকাযের ৫ সদস্যবিশিষ্ট শূরার পক্ষ থেকে পুরো দুনিয়ার মেহনতের সাথীদের উদ্দেশে যেই জরুরি ওয়াদাহাতনামা বা জরুরি অবস্থান জানানো হয়, সেই দুটি চিঠির প্রতিটি লাইনে তৃতীয় হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ.কে যথোপযুক্ত মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে শুধু স্মরণ করাই হয়নি; বরং তাঁর নাম হযরত মাওলানা ইলয়াস সাহেব রহ. ও হযরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব রহ. এর সঙ্গে পরম শ্রদ্ধাভরে একই বৃত্তের তিনটি ফুলের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখান থেকে বুদ্ধিমান লোক খুব সহজেই বুঝে নিতে পারবেন যে, হযরতজির ইনতিকাল দিবস অর্থাৎ ১০ মুহাররম ১৪১৬ হি. থেকে শুরু করে ৪ সফর ১৪৩৭ হিজরি পর্যন্ত দীর্ঘ এই মুদ্দতে হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ.-এর অবদানের গায়ে কালিমা লেপন; এমনকি তাঁর যাবতীয় পদক্ষেপকে অর্থহীন ও নিষ্প্রয়োজনীয় প্রমাণকরণ; চেপে বসা শক্তির ভাষায়তাঁর ৩২ বছরের দীর্ঘ আমলে মেহনতের ওপর জেঁকে বসা বিকৃতি ধীরে ধীরে দূর করারএকুশ বছরের মেহনতকে আল্লাহ তাআলা চোখের পলকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও আল্লাহ তাআলা কুদরতের আরো অনন্য নিদর্শন আমাদের চোখের সামনেই প্রতিভাত করবেন।

পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম ও বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা সলিমুল্লাহ খান সাহেবের পক্ষ থেকে আমার কাছে একটি চিঠি এসেছিল। ওই চিঠির উত্তরে আমি একটি বিশদ বিবরণ সম্বলিত চিঠি পাঠিয়েছিলাম। যেহেতু ওই চিঠির মাঝে আলমি শূরার শূন্যপদ পূরণ, শূরার সূচনা ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরেছিলাম, এজন্যে পাঠকবর্গের খেদমতে সেই চিঠি তুলে ধরা সঙ্গত মনে করছি। সেই চিঠি পড়লে বুঝে আসবে, কতটা শক্ত ও মজবুত বুনিয়াদের ওপর আলমি শূরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

মুহতারাম মাওলানা সলিমুল্লাহ খান যি-দা মাজদুহুম
শায়খুল হাদিস, জামিয়া ফারুকিয়া করাচি
সদর, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়্যা, পাকিস্তান

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আশা করি, ভালো আছেন। অধমও আল্লাহর অনুগ্রহে ভালো আছে। শাবানের মধ্যভাগে আমি যখন গুজরাট, ব্যাঙ্গলোর, বিহার প্রভৃতি অঞ্চলের সফরে ছিলাম তখন বার্মা থেকে একজন শুভাকাঙ্খীর ফোন আসে যে, হযরতওয়ালা অধমকে একটি জরুরি চিঠি পাঠাতে চাচ্ছেন; এজন্যে মেইল এড্রেস লাগবে। সেমতে অধম তাকে জামিয়া মাযাহিরুল উলূমের ইমেইল এড্রেস পাঠিয়ে দিয়েছিলাম; কিন্তু হযরতের কোনো চিঠি অদ্যাবধি পাইনি। সম্প্রতি ১৭ রমাযান দুবাই থেকে একজন হিতাকাক্সক্ষী হযরত মাওলানা মুহাম্মদ তলহা সাহেব ও অধমের নামে হযরতের একটি যৌথ চিঠির ফটোকপি আমার কাছে পাঠিয়েছে।

চিঠিটি ৪ রমাযান ১৪৩৭ হি./১০ জুন ২০১৬ ঈ. তারিখে লেখা। জানি না, দীর্ঘ কাল এ চিঠিটি কোথায় পড়েছিল! কাজেই এ চিঠির জবাব লেখে হযরতের কাছে পাঠানো অধমের নৈতিক দায়িত্ব ও শিষ্টাচারিক কর্তব্য।

হযরত, নিযামুদ্দিন মারকাযের সাম্প্রতিক জটিলতা প্রসঙ্গে আল্লাহ মালুম, কত যে লোক আমার কাছে সঠিক চালচিত্রের বিবরণ লিখিত আকারে জানতে চেয়েছে; কিন্তু নানাবিধ কারণে প্রতিবারই আমি মৌনতা অবলম্বন করেছি। আমি শুধু এতটুকুই বলেছি যে, মারকাযের কোনো বিষয়ে জানতে হলে সেখানে অবস্থানরত শূরার সাথীবর্গ বা দাওয়াতের পুরনো সাথীদের শরণাপনড়ব হোন। কিন্তু হযরতের উচ্চ মর্যাদা ও বুযুর্গসুলভ ব্যক্তিত্ব এবং শায়খুল হাদিস যাকারিয়া মুহাজিরে মাদানি রহ. এর সঙ্গে দ্বীনি বন্ধন ও ইলমি উত্তরাধিকারের অটুট আত্মীয়তার উদ্ধৃতি চলে আসায় আমি অধম এ চিঠির জবাব দিতে বাধ্য। মহান আল্লাহ আমাকে অভিশম্পাতকারী ও সমালোচকের ডর-ভয় এড়িয়ে অকপটে সত্য বলা ও লেখার সাহস দিন।

হযরত নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন যে, আল্লাহ তাআলা এই অধমকে ¯্রফে তাঁর অনুগ্রহে শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা যাকারিয়া মুহাজিরে মাদানি রহ.-এর খেদমতে জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করার তাওফিক দিয়েছেন। মহান আল্লাহ আমাকে এই সৌভাগ্যও দিয়েছেন যে, হযরতের নেগরানি ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় প্রায় দশ বছর মদিনা মুনাওয়ারায় অতিবাহিত করার সুযোগ পেয়েছি। যার কারণে আমি অধম এমন কিছু ঘটনা ও চালচিত্র জানি, যা অন্য কেউ কখনই জানে না। সেখানকার কিছু ঘটনা আমি আমার সদ্য প্রকাশিত বই আলমে আরব মেঁ হযরত শায়খ রহ. কা মাকাম’ (আরববিশ্বে শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ. এর অবস্থান) এর মাঝে তুলে ধরেছি।

এখানে সংক্ষেপে নিবেদন করছি যে, উলামায়ে কেরাম, মেহনতের পুরনো সাথী, মুবাল্লিগ ও যিম্মাদার হযরতদের পর্যালোচনা ও গভীর নিরীক্ষণ হলো, মারকাযের বিদ্যমান হাঙ্গামা ও ফেতনার মূল কারণ শূরা মেনে না নেওয়া। যেই শূরাব্যবস্থা হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহ. গভীর চিন্তাভাবনা ও দূরদর্শী অনুসন্ধানের পর মেহনতের প্র ম সারির হযরতদের সঙ্গে দীর্ঘ পারস্পরিক শলা-পরামর্শের পর দাওয়াতের এই মেহনতের হিফাযত এবং ফেতনা-অনিষ্টতার কবল থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠন করেছিলেন।

হযরত নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন যে, দাওয়াত ও তাবলীগের এই মহান বরকতময় মেহনতের ব্যাপারে হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইলয়াস সাহেব রহ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে স্বপড়বযোগে এ সুসংবাদ পেয়েছিলেন যে, ‘আমি তোমাকে দিয়ে কাজ নেবো।স্বপেড়বর পূর্ণ বিবরণ হযরত শায়খ রহ. এর আপবীতির মাঝে, মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলি নদভি রহ. এর দ্বীনি দাওয়াতগ্রন্থে এবং অধমের লেখা জীবনীগ্রন্থ সাওয়ানেহে মাওলানা মুহাম্মদ ইনআমুল হাসান কান্ধলভি রহ.এর মাঝে সনিড়ববেশিত রয়েছে। তখন পর থেকে পূর্ণ ধারাবাহিকতা ও নিরবচ্ছিনড়ব কার্যμমের মাধ্যমে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্বপড়বযোগেপ্রাপ্ত এই দাওয়াতি মেহনত পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।

হযরত মাওলানা মুহাম্মদ উমর পালনপুরি রহ.-কে আল্লাহ তাআলা রহমতের প্রবল বর্ষণে সিক্ত করুন। তিনি স্বপ্নে অজস্রবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিয়ারত লাভ করেছেন। সেখান থেকে প্রাপ্ত হিদায়াত ও মাশওয়ারা চিঠিতে লিখে হযরত শায়খুল হাদিস রহ. ও হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ.কে অবহিত করতেন। এ দুহযরত যা বাস্তবায়ন করতেন।

হযরত শায়খুল হাদিস রহ. সেই চিঠিগুলো পড়ে অধমের হাতে তুলে দিতেন। সেগুলো আজো সংরক্ষিত রয়েছে।
এ সম্পর্কিত অনেকগুলো ঘটনার আমি নিজেই চাক্ষুষ সাক্ষী। এখানে শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা লিখে জানাচ্ছি।
হযরত শায়খুল হাদিস রহ. তখন মদিনা মুনাওয়ারায় কিয়াম করতেন। একদিন হযরত অনুভব করলেন, হযরত মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. আজকাল দিল্লিতে সবসময় প্রচÐ পেরেশান থাকেন। সারাক্ষণ কোনো গভীর চিন্তায় ডুবে থাকেন। তখন হযরত শায়খ রহ. মাওলানা মুহাম্মদ উমর পালনপুরি রহ.কে বললেন, মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহ.কে জিজ্ঞেস করে আমাকে জানান যে, তিনি আজকাল কী নিয়ে এতো বেশি চিন্তাভাবনা করেন? মাওলানা উমর পালনপুরি রহ. যখন তাঁকে এ নিয়ে জিজ্ঞেস করেন তখন উত্তরে তিনি বলেন, ‘হযরতকে লিখে দিন, আমাদের পরবর্তীতে এই দাওয়াতি মেহনতের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত।

উমর পালনপুরি রহ. এর কাছ থেকে এ সংবাদ জানার পর হযরত শায়খুল হাদিস রহ. তাঁর সবসময়ের অভ্যাসঅনুসারে দরবারে রিসালাত থেকে বিষয়টির সমাধান জানার উদ্দেশ্যে নিজের পক্ষ থেকে আবেদন পেশ করেন।তখন সেখান থেকে উত্তর আসে, ‘এখন থেকে এই দাওয়াতি মেহনত ইমারতের ভিত্তিতে চলবে না; বরং মাশওয়ারার জামাতের অধীনে পরিচালিত হবে।

দরবারে রিসালাতের এই পরামর্শে; বরং সঠিকতম শব্দে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরোক্ষ সিদ্ধান্তে হযরতজি মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. দুনিয়ার সমস্ত তাবলীগি মারকাযে শূরাভিত্তিক নিযাম চালু করেন। যেখানে যেখানে পূর্ব থেকে শূরা চালু ছিল, সেখানে শূরার সদস্য বৃদ্ধি করে মজবুত করেন এবং আরবি বর্ণমালার ধারা ক্রম অনুসারে ফয়সালের দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা জানিয়ে দেন।

হযরত নিশ্চয়ই এই বাস্তবতা সম্পর্কেও সম্যক অবগত আছেন যে, হযরত মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. যেভাবে একদিকে রুহানিয়্যাত, মারেফাত ও আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে উচ্চতম স্থানে সমাসীন ছিলেন, অন্যদিকে অধ্যয়ন ও জ্ঞানগভীরতার বিচারে তিনি সময়ের বিরলপ্রজ আলেম ছিলেন। কুরআন, সুনড়বাহ, সাহাবায়ে কেরামের ইতিহাস ও সীরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর তাঁর গভীর ও শেকড়স্পর্শী অধ্যয়ন ছিল। যার কারণে মাশওয়ারার জামাত, মাশওয়ারার উসূল, শূরার গুরুত্ব ও অনস্বীকার্য প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যাবতীয় আয়াত, হাদিস ও আসার তাঁর দৃষ্টির সম্মুখেই ছিল। যার কারণে তাঁর বয়ানের মাঝে প্রায়সময় কুরআন, হাদিস, উসওয়ায়ে রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনচিত্রের প্রচুর উদ্ধৃতি পাওয়া যায়। আলমি শূরা গঠনের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো নিয়ামক ও অনুঘোটক হিসেবে কাজ করেছিল।

মাওলানা ইনআমুল হাসান রহ. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আহরণ করে, হাদিসের শিক্ষার আলোকে সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিশীলিত করে ১৯৮৩ সালের রায়ভেন্ড ইজতিমায় হযরত কাজি আবদুল কাদের সাহেব ও হযরত মাওলানা মুফতি যাইনুল আবিদিন সাহেবের মতো আকাবিরে তাবলীগের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ করে এমন একটি আলমি শূরা গঠন করার ওপর সর্বসম্মত হন, যা এই দাওয়াতি মেহনতের শতভাগ নেগরানি করবে এবং এই মেহনতকে বড়দের মানহাজ থেকে কোনোমতেই বিচ্যুত হতে দেবে না।
সেসময়কার যতটুকু স্মৃতি অধমের মনে আছে, সেখানে আমাদের সমকালের সবার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক, ভাই হাজি আবদুল ওয়াহাব সাহেবের নাম ছিল না। কিন্তু এ কথার ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি অবশ্যই উপস্থিত ছিলেন।

সেই আলমি শূরার অধিকাংশ সদস্য যখন ইনতিকাল করেন তখন সবাই এ প্রয়োজন অনুভব করেন; বরং পরিবেশ-পরিস্থিতির তাগাদা ও চাপে সকল পুরনো সাথী বাধ্য করেন যে, আখেরাতে পাড়ি জমানো শূরা সদস্যবৃন্দের শূন্য স্থানগুলোতে অন্য হযরতদের স্থলাভিষিক্ত করা হোক। সেমতে আল্লাহর ফয়সালায় রায়ভেন্ড ইজতিমায় সেই শূন্যপদগুলো পূর্ণতা লাভ করে।

বর্তমানে যেই বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, মেহনতের মাঝে যেই অচলাবস্থা ও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, দুনিয়ার বিভিনড়ব মারকাযে দুটি বিপরীত মানসিকতা ও চিন্তা-চেতনার জনবল গড়ে উঠার কারণে যেই 

বিবাদ,বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে, এই যাবতীয় সমস্যার একমাত্র কারণ হলো, মজলিসে শূরা মেনে না নিয়ে নিজের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা।

হযরতওয়ালা অবশ্যই জেনে থাকবেন যে, পৃথিবীর যেসকল প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসায় মজলিসে শূরা রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই ওই সকল প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসার তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং তুলনামূলক অধিক খিদমত আঞ্জাম দিচ্ছে, যেখানে শূরাভিত্তিক নিযাম নেই। তদ্রƒপ যেসকল প্রতিষ্ঠানে শূরাভিত্তিক পরিচালনা পরিষদ রয়েছে এবং শায়খুল ইসলাম হযরত মাদানি ও হাকিমুল উম্মাত হযরত থানভি রহ. এর ভাষায়, যেই মজলিসে শূরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কর্তৃত্ব পেয়ে কাজ করছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিঃসন্দেহে সার্বিক বিবেচনায় সুশৃঙ্খল প্রশাসন, স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ও আইনের নির্বিঘড়ব প্রয়োগ রয়েছে। শূরার বরকত থেকে শূন্য প্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্যই এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে।

আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের সবাইকে মহান আকাবির রহ. এর রেখে যাওয়া পদচিহ্ন অনুসরণ করে এবং তাঁদের রেখে যাওয়া আদর্শ অনুসারে ইখলাস ও লিল্লাহিয়্যাতের সঙ্গে দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দেন তাহলে অবশ্যই কোনো ফেতনা মাথাচাড়া দিয়ে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ পাবে না।

ইসলামের শত্রুরা কীভাবে এই দাওয়াতি মেহনত ধ্বংস করার, নিদেনপক্ষে এই মেহনতের যতবেশি সম্ভব ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কিত একটি ঘটনা নিবেদন করছি।

হযরতজি মাওলানা মুহাম্মদ ইনআমুল হাসান রহ. তখন তাঁর জীবনের সর্বশেষ মেওয়াত-সফরে ছিলেন। আমি অধমও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। নিঃসন্দেহে এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার ওপর অনেক বড় অনুগ্রহ ও পরম সৌভাগ্য যে, হযরতজি রহ. এর জীবনের শেষ সাত-আট বছরের সবগুলো দেশি-বিদেশি সফরে একজন খাদেম হিসেবে সঙ্গে থাকার তাওফিক পেয়েছি।

মেওয়াতের সেই সফরে আমি দেখতে পেলাম, হযরতজি রহ. মাগরিব নামাযের পর নফল ইত্যাদি থেকে ফারেগ হয়ে প্রচন্ড পেরেশান অবস্থায় কেবলার দিকে মুখ করে বসে আছেন। মুখে কোনো শব্দ নেই। বিলকুল খামুশ। 

সাধারণত এ ধরনের নির্জন পরিবেশে আমি এগিয়ে এসে হযরতের খেদমতে এক-দুকথা নিবেদন করি। সেদিন হযরতকে প্রচন্ড চিন্তামগ্ন দেখে আমি এগিয়ে গেলাম এবং প্রমে শারীরিক সুস্থতা ও মেজায-মর্জি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। উত্তরে হযরত বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে আমি পুনরায় মন- মেজায সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তখন তিনি একটি হিম-শীতল নিঃশ্বাস ছেড়ে এ উত্তর দিলেন, ‘ভাই, ইসলামের শত্রুরা ও তাবলীগের বিদ্বেষীরা এখন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, দাওয়াত ও তাবলীগের উঁচু সারির সদস্যদের পরস্পরে ঝগড়া-মতনৈক্য বাধিয়ে দেবে। যেন মেহনত ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি এখন প্রচন্ড চিন্তিত।

বর্তমানে আমি আমার চোখের সামনে যেই হৃদয় বিদারক ও বেদনাদায়ক পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি তাদেখে অনুমান করছি যে, আল্লাহ তাআলা হযরতজি রহ.কে কতটা দূরদর্শী ভাবনাশক্তি দিয়েছিলেন!

আমার মত লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা সমাজের চোখে মূল্যহীন; কিন্তু এই দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে যারা নিজেদের জান, মাল ও গোটা জীবন উৎসর্গ করেছে, তারা এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে পূর্ণ আশ্বস্ত ও প্রশান্ত যে, চলমান সংকটে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি সেই আলমি শূরাই হাসবে, যা নববি ফয়সালা ও অভিপ্রায় অনুসারে গঠিত হয়েছে। যারা এই নববি ফয়সালা ভাঙতে আসবে, তারাই চরম ব্যর্থ হবে। কারণ, বর্তমান পৃথিবীতে যেখানেই যতটুকু আলো আছে, তা স্রেফ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের কল্যাণে আছে; অন্য কারো নামে নয়।

দুআ করুন, মহান আল্লাহ যেন আমাদের প্রত্যেককে মানসিক ও চৈন্তিক বμতা থেকে নিরাপদ রাখেন। কেননা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে ও মেহনতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মহান মনীষীগণ সারাজীবন সাধনা করে যেই মানহাজ দাঁড় করিয়েছেন, সেই মানহাজ থেকে বিচ্যুত হলে লাঞ্ছনা, অবমাননা ও অকল্যাণের পাহাড় ভেঙে পড়বে। যেই দৃশ্য আজ আমি, আপনি ও সারা পৃথিবী অবলোকন করছে। কারণ হলো, কুরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে,
অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে ¯পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।’ [সূরা নূর : ৬৩]
আমি আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর ক্রোধ থেকে, তাঁর রাসূলের ক্রো থেকে এবং তাঁর সকল বুযুর্গানে দ্বীনের
ক্রো থেকে পানাহ চাই।
-নেক দুআর প্রত্যাশী,
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শাহেদ সাহারানপুরি
নাতি, শায়খুল হাদিস যাকারিয়া মুহাজিরে মাদানি রহ.
২ শাওয়াল ১৪৩৭ হি. / ৮ জুলাই ২০১৬ ঈ.

আলমি শূরার শূন্য পদগুলো পূরণ ও সম্প্রসারণের পক্ষে সারা পৃথিবীর মেহনতের সাথী ও মুখলিস যিম্মাদারদের তরফ থেকে যেভাবে সমর্থন ও সহমত জানানো হয়েছে এবং পৃথিবীর অজস্র রাষ্ট্র থেকে যেভাবে সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা কোনো ধরনের অতিরঞ্জন ছাড়াই হাজার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সমর্থন ব্যক্তকারীদের নামই এ কথার নিশ্চয়তা প্রদানে যথেষ্ট যে, তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানের অধিকারী ব্যক্তিত্ব।
========================================
মাওলানা যুবায়রুল হাসান কান্ধলভি রহ. / অব্যক্ত বেদনার বিস্মৃত ইতিহাস- পৃষ্ঠা নম্বর ১৫-২২


0 কমেন্টসগুলো:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্লগ ব্যাংক

((( অনুসরণকারী )))

অবদানকারী

((( মোট পৃষ্ঠাদর্শন )))

দৃষ্টি আকর্ষন ( ATTENTION )

পবিত্র কোরআন হাদীস এর সম্মান রক্ষার্থে, এই ব্লগের যে কোন লেখা পড়ার পূর্বে দয়া করে আপনার চারপাশের পবিবেশ এর পবিত্রতা বজায় রাখুন

Before you Play/Read any of this blog content, please ensure that you and your environment are in proper form for the honor of The Holy Quran & Hadith.

((( বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট )))

তাহাজ্জুদের নামাজ ।।। আল্লাহ তা'লার সাথে ভালবাসার কথোপকথন

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক তৈরির প্রধান মাধ্যম নামাজ। নামাজের মাধ্যমে মহামহিম স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার ভালবাসার কথোপকথোন । হাদিসে বর্ণি...

৬ সিফাতের ভিত্তিতে লেখা