*************************************************

*এলান নয় হেদায়েত মনেকরে পড়ি*

************************************************

আসসালামু আলাইকুম

১- ফিতনা হত্যার চেয়ে মারাত্মক। (২:১৯১ আল কোরান)
২-
হজরত আবু উমামাহ আল বাহিলী রাঃ বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করেছেন "আমি তার জন্য বেহেস্তের কিনারায় একটি ঘরের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে ঝগড়া/বিতর্ক ছেড়ে দেয়, যদিও সে হকের উপরে। (আবু দাউদ)
৩-
হজরত হোযাইফা ইবনে ইয়ামান রাঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ এরশাদ করিয়াছেন, সেই জাতের কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করিতে থাক। নতুবা অতিসত্বর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর আপন আযাব পাঠাইয়া দিবেন। অতঃপর তোমরা দোয়া করিলেও আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দোয়া কবুল করিবেন না। (তিরমিযী)

সমাধান/সমঝোতা - সবাই সমস্যার কথা জানেন বা সমস্যার কিছু নিশানা খবরে পড়েছেন। এই লেখা শুধুমাত্র সমাধানের একটি রাস্তা। এ বেপারে আমাদের বলার কারণ সমস্যার ফলাফল উম্মতের আখেরাতের ও হেদায়েতের মেহনতের ক্ষতি। শয়তান জিতে যাচ্ছে। উম্মত ওরাসাতুল আম্বিয়া, নবীদের বংশধর, আলেমদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এতে জিহালত বাড়তে থাকবে। আমাদের প্রস্তাবিত ও অনুরোধকৃত সমাধানের দুটি অংশ, এবং একটি ছাড়া অপরটির দ্বারা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এবং একটির চেয়ে অপরটি বেশি জরুরি নয়। এই সমাধান স্বাভাবিক মনে হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো না হওয়ার কারণে সমস্যা বেড়ে চলছে।

১+২=৩. আলেমদের মতপার্থক্য/মতবিরোধ আলোচনা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। যেসব মুরুব্বি আলেমরা মতপার্থক্য/মতবিরোধের সমাধানে সরাসরি জড়িত শুধু সেসব মুরুব্বি আলেমরা এ বেপারে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। উম্মতের দ্বীনি বেপারে ঝগড়া করার ও ফেতনা বাড়ানোর অধিকার নেই। আলেমদের ঝগড়া সমাধান করা দায়িত্ব, বাড়ানো নয়।আলেমদের এবং উম্মতকে ঝগড়া ছেড়ে মানুষকে আল্লাহর হুকুম ও নবী সাঃ এর জীবন পদ্ধতিতে আনার মেহনতে মনোযোগ দিতে হবে।আপনার কাছে কি ঝগড়া করা জরুরি না ফেতনা ছেড়ে নবী সাঃ এর মেহনত জরুরি?

১. উম্মতকে প্রথমত পূর্ণ সন্মান এবং দ্বিতীয়ত খেদমত করতে হবে ওরাসাতুল আম্বিয়া, নবীদের বংশধর, আলেমদের। আলেমদের সন্মান ও খেদমত করা উম্মতের উপরে আলেমদের অধিকার। উম্মতের এই দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আলেমদেরও সংসারিক ও দ্বীনি প্রয়োজনের খরচ আছে। কোনো আলেমকে বা কোনো আলেমের কোনো দীনি মেহনতকে ছোটো করে দেখার বা অসম্মান করার কোনো অধিকার উম্মতের নেই।

২. আলেমদের ওরাসাতুল আম্বিয়া পদবীর পূর্ন হক আদায় করতে প্রথমত সমস্ত উম্মতকে সঠিক ইসলাম শিখাতে হবে,মাদ্রাসার ভিতরে ও বাহিরে, এবং দ্বিতীয়ত উম্মতের খেদমতের মালকে শুধুমাত্র হাদিয়াবা উপহার হিসেবে নিতে হবে বা মনে করতে হবে, পারিশ্রমিক নয়। তাবলীগ, ওয়াজ, বয়ান, এসো দীন শিখি অনুষ্টান বা প্রশ্ন উত্তর সহ মাসায়েলের এলেমের নিয়মিত মজলিস, মাদ্রাসা ও অন্যান্য মাধ্যমে উম্মতের ও ওরাসাতুল আম্বিয়া পদবীর হক আদায় করা।

জরুরি বিজ্ঞপ্তি - মুসলমানদের মধ্যে এখন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, যিনা, ধর্ষণ, সুদ, ঘুষ, শিরিক, বিদাত,অপবাদ, গীবত সহ বিভিন্ন অত্যাচার ও গুনাহের কাজ ছড়িয়ে পড়েছে ও বিস্তারিত হচ্ছে।এই ফেতনার সময় নিজের জীবনের সীমিত সংক্ষিপ্ত সময় আখেরাতের প্রস্তুতি ও মানুষকে আল্লাহের বড়ত্বের দিকে ডাকার ও অন্যায়/গুনাহ থেকে বিরত করারবদলে আলেমদের (তাবলীগ/মাওলানা সাদ/ইব্রাহিম/আহমদ লাট, মাযহাব/হানাফী/শাফি/মালিকি/হাম্বলী, কওমি) সমালোচনা করা কি বুদ্ধিমানের কাজ না চরম বোকামি? কবরে আলেমদের বেপারে জিজ্ঞেস করা হবে না, তাহলে যে সময়ে নিজেকে ও অন্যদের দোজখ থেকে বাঁচানোর মেহনত করা আল্লাহের দেয়া ঈমানী দায়িত্ব, সে সময়ে আলেমদের সমালোচনা/গীবত করে সময় নষ্ট করা কি চরম বোকামি নয়? আপনি কি বোকা না চালাক তার বিচার হচ্ছে, আল্লাহের কাছে আপনার সময়, অর্থ ও শরীর ব্যবহারে আল্লাহের হুকুম মানার হিসাব দিতে পারবেন?

****************************************

রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১৮

২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্টিত হবে ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব হবে ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি। এছাড়া মাওলানা সাদ নির্ধারিত দিল্লির নিজামুদ্দিনে বাংলাদেশের সাথীদের জোড়ের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাতিল করেছে কাকরাইল মারকাজের শুরা। 

কাকরাইল মারকাজ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে তাবলিগের মুরব্বি ও শুরার সদস্য মাওলানা রবিউল হক, মাওলানা মুহাম্মদ হোসেন, মাওলানা ফারুক, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা মুজাম্মিলুল হক, মাওলানা ওমর ফারুক ও মাওলানা মোশাররফ হোসাইনের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে মাওলানা সাদ কান্ধলভি আগামী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি ও ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি। বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে আসা দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা সাদ কান্ধলভি ইজতেমায় না যেতে পারায় কাকরাইল মারকাজে বসেই ২০১৯ সালের ইজতেমার ফয়সালা দিয়ে যান।

তিনি ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্বের প্রথম দিন রাতে কাকরাইলে এক বৈঠকে তারিখ নির্ধারণ করেন।

সে বৈঠকে তাবলিগের মুরব্বি ও শুরার সদস্য মুহা. শিহাবউদ্দীন নাসিম, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন ও মাওলানা জিয়া বিন কাসেম উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

কাকরাইল মারকাজ থেকে গতকাল পাঠানো চিঠিতে জানা হয় আগামী ইজেতেমার আগে ৫ দিনের জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ৭ থেকে ১১ ডিসেম্বর ২০১৮। মাসিক মশওয়ারার তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৩-২৪ মার্চ ২০১৮। চিঠিতে বলা হয়, প্রতি বছরের মতো বিশ্ব ইজতেমা শেষের দিকে দুআর আগে সব জেলা ও খিত্তার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আগামী ইজতেমা ও জোড়ের তারিখ উপস্থাপন করা হলে সবাই সম্মাতি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ইতোপূর্বে কাকরাইল থেকে যে চিঠি নিজামউদ্দিনের জোড়ের উদ্দেশ্যে যাওয়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উমুরে বাংলাদেশ নামে আপনাদের কাছে পৌঁছেছে তা মূলত শুরার সাথীদের সম্মতিতে প্রেরণ করা হয়নি।

বরং ইজতেমা চলাকালীন মাত্র তিনজন শুরার সাথী ইজতেমা ছেড়ে কাকরাইল চলে আসেন এবং তারা বাকি সাতজন শুরার সাথী যারা ইজতেমায় লক্ষ লক্ষ দেশি ও বিদশি মেহমানদের নিয়ে মশগুল ছিলেন, তাদের অনুপস্থিতিতে এ সমস্ত উমুর হজরত মাওলানা সাদ সাহেবের সামনে পেশ করা হয়।

উপরন্তু পরবর্তীতে ইজতেমায় অবস্থানকারী শুরাদের মতামত না নিয়েই তা প্রচার করা হয়।

অতএব আমরা এ সকল সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নই বিধায় আপনাদের খেদমতে দরখাস্ত করছি, আপনারা এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকবেন।

চিঠিতে মাওলানা সাদকে সরকারই বাংলাদেশে আসার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করেছেন বলে যে বক্তব্য তারা দিয়েছেন তা নাকচ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সরকারি নিয়মের বহির্ভূতভাবে তাবলিগের জন্যনির্ধারিত TI (তাবলিগ-ইজতেমার ভিসা) ভিসা গ্রহণ না করে T (টুরিস্ট ভিসা) ভিসা ব্যবস্থা করেন এবং উলামা পরিষদের উপদেষ্টামন্ডলীর সভার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে, মাওলানা সাদকে বাংলাদেশের মাদরাসা ও আলেমদের কঠোর সিদ্ধান্তের কথা গোপন করে, তাকে আনার ব্যাপারে একজন শুরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন এবং কাউকে অবহিত না করে চুপিসারে দুইজন সাথীকে ইস্তেকবারের জন্য হিন্দুস্থানে পাঠিয়েছেন।

এছাড়াও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে আড়াল করে ও সর্ব সাধারণকে ধোকা দেয়ার নিমিত্তে তার জামাতকে দিল্লি-ঢাকা ফ্লাইটে না এনে, দিল্লি-ব্যাংকক-ঢাকা দীর্ঘপথ ঘুরিয়ে এনে শুধুমাত্র তাকে অপদস্ত করা হয়নি বরং সরকাকে বিব্রত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে দাওয়াতের এই মহান কাজকে হেয় করা হয়েছে। এহেন গর্হিত কাজের জন্য দায়ী কে? চিঠিতে আরও বলা হয়, বিগত ইজতেমায় সব জেলা অংশ নিয়েছে এবং ১৪ হাজার বিদেশি মেহমান অংশ নেন। কিন্তু এর বিপরীতে ৩ জন শুরা সদস্য কাকরাইলে বসে ইজতেমাকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেন এবং কাকরাইলেই ইজতেমা হবে বলে অপপ্রচারকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে তাবলিগের শুরার সদস্য ও মুরব্বি মাওলানা জুবায়ের আহমদের ছেলে মাওলানা হানজালাআওয়ার ইসলামকে জানান, মুরব্বিরা মশওয়ারা করে ইজতেমা ও জোড়ের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

চিঠির পক্ষে সত্যতা স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুরব্বি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনি সেসময় প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় পার করবেন তাই জানুয়ারির শুরুতে ইজতেমা করা সম্ভব নয়।

তাই সরকারের সঙ্গে কথা বলে ইজতেমার তারিখ কিছুটা পেছানো হয়েছে।

দিল্লির নিজামুদ্দিনে বাংলাদেশ সাথীদের জোড়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথীদের জন্য এখন জোড়ের কোনো প্রয়োজন নেই। অতীতে এরকম কোনো জোড়ের নজির নেই।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু নিজামুদ্দিন মারকাজ এখন দুইভাগে বিভক্ত এবং সারা দুনিয়ার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উলামায়ে কেরাম তথা দেওবন্দের উলামা হাজরাতগণ সাদ সাহেবের বিভিন্ন বক্তব্য ও বয়ানের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং উনার ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত নন। তাই এমতাবস্থায় নিজামুদ্দিনে বাংলাদেশের ৩ হাজারের অধিক তাবলিগের সাথীদের নতুন করে এহেন জোড়ের প্রক্রিয়া শুরু করা সঠিক নয়।

একই বিষয়ে অপর পক্ষ তাবলিগের শুরার সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি আওয়ার ইসলামকে বলেন, তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে নতুন করে কোনো মশওয়ারা হয়নি। হজরতি মাওলানা সাদ সাহেব যে তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন তা সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি একাধিক মুরব্বির স্বাক্ষর নিয়েও সন্দেহ আছে।

মাওলানা সাদ কান্ধলভি নির্ধারিত তারিখ শুরার সবার সঙ্গে মশওয়ারা করে চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও আপনারা এককভাবে নির্ধারণ করে প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ আছে, এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, হজরতজি মাওলানা সাদ ফয়সালার সময় অন্যান্য সদস্যকে তিনি কাকরাইলে ডেকেছেন কিন্তু তারা আসেনি। তাই ফয়সালাটি চূড়ান্ত করে প্রচার করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি তিনি বিস্তারিত চিঠির মাধ্যমে জানাবেন বলে আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।


সৌজন্যে-আওয়ার ইসলাম.কম




0 কমেন্টসগুলো:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ব্লগ ব্যাংক

((( অনুসরণকারী )))

অবদানকারী

((( মোট পৃষ্ঠাদর্শন )))

দৃষ্টি আকর্ষন ( ATTENTION )

পবিত্র কোরআন হাদীস এর সম্মান রক্ষার্থে, এই ব্লগের যে কোন লেখা পড়ার পূর্বে দয়া করে আপনার চারপাশের পবিবেশ এর পবিত্রতা বজায় রাখুন

Before you Play/Read any of this blog content, please ensure that you and your environment are in proper form for the honor of The Holy Quran & Hadith.

((( বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট )))

তাহাজ্জুদের নামাজ ।।। আল্লাহ তা'লার সাথে ভালবাসার কথোপকথন

আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক তৈরির প্রধান মাধ্যম নামাজ। নামাজের মাধ্যমে মহামহিম স্রষ্টার সঙ্গে বান্দার ভালবাসার কথোপকথোন । হাদিসে বর্ণি...

৬ সিফাতের ভিত্তিতে লেখা