এই মুহূর্তের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়ে লিখছি। চেয়েছিলাম চুপ থাকতে, কিন্তু যে বেহাল অবস্থার তৈরি হয়েছে, চুপ থাকাটাকেও খেয়ানত মনে হচ্ছে।
এখানে দু’টি পক্ষের উদ্দেশ্যে কিছু বলবো, এখান থেকেই বুঝে নেবেন আমার অবস্থান।
বড় আফসোস আর হতাশার সাথেই কিছু বলতে চাচ্ছি। আপনারা এত অন্ধ কেন? একজন মানুষের সিদ্ধান্তই কেন আপনাদের কাছে “অহী” হয়ে গেল? পাকিস্তানসহ পুরো দুনিয়ার মারকাজ কি আপনাদের পক্ষে?
নিজামুদ্দিনের কী অবস্থা? মাওলানা সা’দ সাহেব এবং তার বাবার উস্তাদদের মতও কি আপনাদের কাছে গৌণ?!
তাচ্ছিল্যের সাথে উচ্চারণ করেন দারুল উলূমের নাম, কারণ কি ভাই? দারুল উলূম কি নিজামুদ্দিন দখলে নিতে চায়? নাকি সঠিক পথে চলুক তা চায়?
মনগড়া তাফসীরের প্রশ্রয় দিলে মাওলানা মওদূদী কি দোষ করেছিল?
মাদ্রাসার লেখাপড়ায় গবেট টাইপের কিছু মৌলানাকেও দেখছি দেশের শীর্ষ আলেমদের নিয়ে নোংরা ইঙ্গিত করতে! শেকড় বিচ্ছিন্ন ওসব মৌলানাদের প্রতি কেবলই ঘৃণা।
উফ এত মহান ব্যাক্তিরা একদিকে, আর ওয়াসিফ সাহেব, নাসিম সাহেবরা ক’জন একদিকে, দ্বীনী বিষয়ে কিছু সাধারণ মানুষের অনুসারী হয়ে কীভাবে গোটা উম্মতের বিরুধিতা করছেন? তাহলে জাকির নায়েক সাহেবের অনুসারীগণ কী দোষ করলো?
দেখেছেন, এখন কাকরাইলের ওলামা হযরাত, মাদ্রাসার ছাত্ররাও আপনাদের সাথে নেই?
দ্বিতীয় পক্ষ, সা’দ সাহেব বিরুধী পক্ষ
সা’দ সাহেবের বিরোধিতা আমাদের বড়রা যেভাবে করছেন সে পর্যন্ত রাখলে হয় না? আদর্শিক দ্বন্দ্বকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের রূপ কেন দিচ্ছি?
মুরতাদ বলে দেওয়াটা কি এতই সোজা?
হাটাহাজারির হযরত বলেছেন সা’দ সাহেব অহংকারী, এ পর্যায়ে রাখলে হত না?
দারুল উলূম দেওবন্দ তার মানহাজ দেখিয়েছে। দ্বীনের অপব্যাখ্যা নিজ সন্তান করলেও টুটি চেপে ধরাই তার মানহাজ, আবারও তার প্রমাণ রেখেছে। সে জন্যই তো দারুল উলূম আমাদের গর্ব।
কিন্তু এর থেকে আগে বাড়ার অধিকার আপনাকে কে দিল? আপনি কি রাষ্ট্র পরিচালনায় আছেন? তবে বাংলার জমিনে পা রাখতে না দেওয়ার হুমকিটা!? কাকরাইল দখলের হুমকিটাও আমাদের বড়দের বিতর্কিত করেছে।
সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের সিদ্ধান্তটাই হোক সকলের সিদ্ধান্ত।
১. সা’দ সাহেব বাংলাদেশে আসতে হলে দেওবন্দের আস্থা অর্জনের স্বীকৃতি লাগবে;
২. হযরত আহমদ লাট সাহেব ও ইব্রাহীম দেওলা সাহেবসহ মারকাজ থেকে বেরিয়ে যাওয়া মুরুব্বীদের সাথে আনতে হবে।
আপাতত আমরাও এ দাবীতেই থাকি। পরবর্তীতে মাটিতে পা না রাখতে দেওয়া বা কাকরাইল দখলের কর্মসূচী আসলে তখন না হয় শাপলার ভাষণটা চালিয়ে দেবো!
বড়দের যবান কন্ট্রোলের কথা আমি বলবো না, বড়দের বিষয়ে আমার নিজের যবানই কন্ট্রোলে আলহামদুলিল্লাহ।
তবে একটা কথা বলে শেষ করি।
কাপড়ের ব্যবসায়ী বলে উদাহরণটা সেভাবেই দিচ্ছি। আমরা অনেক কাপড়ে স্টিকার লাগিয়ে দিই “Dry Wash Only” মানে হেন্ড ওয়াশে রং জ্বলে যাবার বা কাপড় ফেসে যাবার ভয় আছে। যে কাপড় যেভাবে ওয়াশ করতে হয় সেভাবেই করা উচিত, ভিন্ন পদ্ধতি ক্ষতি ডেকে আনবে।
তাবলীগের সংস্কার তাবলীগী মিজাযেই হোক, এটাই আমার প্রত্যাশা, এটাই আমার অবস্থান।
মা’বূদ দারুল উলূমের এ সন্তানকে তুমি হেফাজত করো।


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন