মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস রহঃ এর মূল্যবান বানী-৪
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
শ্রদ্ধেয় হযরত মাওলানা সাদা সাহেব ।
[মহান আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাকে এমন কাজ করার তাওফিক দিন, যা তিনি ভালোবাসেন ও যার ওপর সন্তষ্ট হন।]
আস-সালামু আলাইকুম ওয়ারহমতুল্লাহি ও বারাকাতুহ।
এই চিঠি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টির জন্যে দাওয়াতের মহৎ মেহনত ও উম্মাহর কল্যাণকামিতা চেয়ে লেখা হচ্ছে।
বিগত কয়েক মাস ধরে নিযামুদ্দিন মারকাযের যেই হালত চলছে, তার কারণে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল সুহৃদ ও উম্মাহর জনে হৃদয়ে অন্তর্জলা পোষণকারী সকল মুসলমান অত্যন্ত ব্যথিত ও পেরেশান । তারা অস্থিরতা বোধ করছেন এবং উত্তরণের দুআ করছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মেহনতের এবং নিযামুদ্দিনের শত বছরের পবিত্রতা পদদলিত হচ্ছে
এ সকল ফ্যাসাদের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, এটি দু’জন ব্যক্তিত্ব ও তার সমর্থকদের মাঝখানে নেতৃত্বের লড়াইয়ের কারণে হচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো, এটি মানহাজ ও দৃষ্টিভঙ্গির মতভিন্নতার মাসআলা । যেই মতভিন্নতা দূর করার অনেকগুলো প্রয়াস আমরা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছি। কিন্তু এখন আপনার সমর্থকেরা এ সমস্যাটি এমন কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছে যারা কঠোরতার মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। এমন ধমকিও ছুড়ে দিচ্ছে যে, যারা মানবে না। তাদের ওপর আমরা হাত তুলবো।
মূল সমস্যা হলো, মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ সাহেব রহ. ও মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহ. এর সময়কার পুরনো সাখীরা চাচ্ছেন যে, এই মেহনত যেভাবে শুরার অধীনের পরিচালিত হয়ে আসছে, এভাবেই পরিচালিত হোক। আর আপনার সমর্থকেরা চাচ্ছে যে, আপনি নেতৃত্ব কায়েম হোক।
আপনি এমন কিছু নতুন কাজ শুরু করে দিয়েছেন, যা আমাদের পূর্ববর্তী বড়দের যুগে ছিলো না। বিষয়গুলোর প্রতি বারবার আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। এগুলোর কারণে আমাদের ওয়াহদাতে কালিমা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সার্বিক কর্মকাণ্ড জাহান্নামমুখী হয়েছে। প্রতিটি প্রদেশে ঝগড়া হচ্ছে। মসজিদে-মসজিদে ঝগড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আল্লাহ না করুন, আগামীতে এই মেহনত সেই আশঙ্কার সম্মুখীন হতে পারে যার ব্যাপারে মাওলানা মুহাম্মদ ইলয়াস রহ, সতর্ক করে গিয়েছিলেন যে, "যদি এ কাজের মাঝে বেউসুলি করা হয় তাহলে যেই ফেতনা আসতে কয়েক শতাব্দী লাগার কথা, সেই ফেতনা কয়েক দিনের মধ্যে চলে আসতে পারে। যার পূর্বলক্ষণ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, আপনি আপনার বয়ানের মাঝে এমন অনেকগুলো কথা বলে থাকেন, যা সালাফ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কোরামের মতাদর্শের পরিপন্থী। আপনার সঙ্গীরাও সেই কথাগুলো নকল করে থাকেন। যা নিয়ে উলামায়ে কেরাম দুঃশ্চিন্তা বোধ করছেন যে কাজের গতিমুখ কোন দিকে ছুটছে। অথচ আমাদের করণীয় ছিলো, আমরা মাসলাক ও মাসআলার ক্ষেত্রে জমহুর উলামায়ে কেরামের অনুসরণ করবো। আপনার বয়ানের মাঝে দ্বীনের বিভিন্ন শাখা ও ব্যক্তিত্বের ওপর সমালোচনা উঠে আসছে। অথচ বড়রা এই কাজের মাঝে কোনো ব্যক্তিবিশেষের সমালোচনা, ছিদ্রান্বেষণ ও প্রতিবাদ-প্রত্যাখ্যান করা থেকে নিষেধ করে থাকেন। আমাদের বড়রা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতেন। সমর্থন ও দু'আর কাছে আমরা সবসময় মুখাপেক্ষী।
সবশেষে আমাদের নিবেদন হলো, মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস সাহেব রহ. এর ওপর আল্লাহ তা’আলা কাজের ইলাহাম করেছিলেন। মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ সাহেব রহ. কুরআন-হাদীস ও সাহাবায়ে কেরামের ঘটনাবলির আলোকে এ কাজের প্রতিটি শাখার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন। মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহ. সেগুলোকে বিন্যস্ত ও সুশৃঙ্খল করেছেন। আমরা প্ৰত্যাশা করি, এই মেহনত তাঁদের নির্দেশিত পথে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করে চলুক। যদি কোনো ধরনের সংযোজনের প্রয়োজন অনুভূত হয় তাহলে তিন দেশের সন্মিলিত শুরার ঐক্যমতে হোক।
আমরা আমাদের জীবনের শেষ প্ৰান্তে চলে এসেছি। আমরা এ কথা স্পষ্ট করে দিতে চাচ্ছি যে, বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আমরা সন্তুষ্ট নই।যার কারনে আমরা এবারের ত্রিমাসিক মাশোয়ারায় উপস্থিত হতে পারছি না। এই মেহনত যেভাবে এতোদিন শুরার অধীনে পরিচালিত হচ্ছিলো, সেই পদ্ধতির ওপর বহাল রেখেই পরিচালিত হওয়া উচিত নয়তো আমরা এবং দেশের সকল পুরোনো সাথী আপনার সাথে চলতে পারবো না। আমরা নিজেদের মত করে এলাকায় কাজ করে যাবো।দাওয়াত আমাদের জীবনের লক্ষ্য, তাবলীগ আমাদের সারা জীবনের কাজ, নিযামুদ্দিন আমাদের ঘর। পরিবেশ-পরিস্থিতি যখন ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ- আমরা হাজির হবো
বর্তমানে সবখানের চিত্র হলো, পুরো দুনিয়াতে ব্যাপকাকারে এবং আমাদের দেশে বিশেষাকারে সব জায়গায় কাজের মেহনতি সার্থীরা কাজের ফিকির ছেড়ে দিয়ে নিজেদের মজলিশে নিজামুদ্দিনের অবস্থা নিয়ে পরস্পর কথাবার্তা বলছেন। এখন প্রতিটি মজলিশের বিষয়বস্তু নিজামুদ্দিন হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই সমস্যা থেকে উদ্ধার করুন, আমাদেরকে কাজের ফিকিরের রুখে ফিরিয়ে আনুন। আমীন।
ওয়াস-সালাম
১. মাওলানা ইসমাঈল গোধরা
২. মাওলানা আবদুর রহমান রুমাই (মুম্বাই) ,
৩.মাওলানা উসমান কাকুসি
৪. জনাব ফারুক আহমদ ব্যাঙ্গালোর
৫. জনাব মুহসিন উসমানি
৬.জনাব সানাউল্লাহ খান আলীগ ,
৭.জনাব প্রফেসর আবদুর রহমান মাদ্রাজ
১২ শাওয়াল ১৪৩৭ হিজরি
১৭ জুলাই ২০১৬ ঈসায়ি


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন