আসুন ইসলামকে জানি ( Let us know Islam ) ।।। বিবাহের পাত্রী দেখা প্রসঙ্গে ( In the context of the wedding bride)
জিজ্ঞাসাঃ বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের এলাকার নিয়ম হল, বিয়ের পূর্বে ছেলের বাবা, ভাই, চাচা, দুলাভাই প্রমুখ পাত্রীকে দেখে থাকেন। ছেলে শুধু বিয়ে ঠিক হওয়ার পর মেয়েকে দেখেন। অনেকেই পিতা-মাতা, ভাই, চাচার দেখার উপর নির্ভর করে বিয়ে করে থাকেন। যদি কোনো ছেলে উল্লিখিত অভিভাবকগণের পূর্বে কোনো পাত্রীকে দেখে, তখন সেই ছেলের উপর অভিভাবকগণ নারায হন এবং ছেলেকে অবাধ্য মনে করেন। মাননীয় মুফতি সাহেবের নিকট জানার বিষয় হল, এমনভাবে পাত্রের বাবা চাচা ভাই প্রমুখ বিয়ের পূর্বে পাত্রীকে দেখা জায়েয হবে কি? শরীয়তের আলোকে পাত্রী দেখার নিয়ম জানতে চাই।
সমাধানঃ কুরআন-হাদীস ও ফিক্বাহশাস্ত্র অধ্যয়নে জানা যায় যে, প্রশ্নে বর্ণিত পন্থায় পাত্রীকে দেখা কারও জন্য জায়েয নয়। কারণ হল, প্রত্যেক ব্যক্তি ঐ পাত্রীর জন্য গাইরে মাহরাম, অর্থাৎ- তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তাই সবার জন্য পর্দা করা ফরয। যখন বিয়ে হবে তখন পিতার জন্য দেখা করা জায়েয হবে। কিন্তু বিয়ের পূর্বে নয়। এমনকি ছেলের আগে পিতা সেই পাত্রীকে বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু পুত্রবধূ হওয়ার পরে নয়। ছেলে যদি প্রথমে পাত্রীকে দেখে, তাহলে অভিভাবকগণ অবাধ্য মনে করাটা ঠিক হবে না। তবে ছেলের জন্য উচিত হবে না এমন মেয়েকে প্রস্তাব দেওয়া অথবা বিয়ে করা, যাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে অভিভাবকগণ নারায।
পাত্রী দেখার নিয়ম- (১) পাত্র কোনো গোপন পদ্ধতিতে পাত্রীকে দেখে নিবে। তবে সতর্কতা অবলম্বন করবে, যেন কোনোভাবে সতরের উপর দৃষ্টি না পড়ে।
(২) আরেকটি পন্থা হল যে, প্রথমে পাত্রের পক্ষের নারী আত্মীয়রা দেখে আসবে। তাদের বিবরণ শুনে পছন্দ হলে, তখন ছেলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলোচনার মাধ্যমে মেয়েকে দেখতে পারবে। তবে স্পর্শ করতে পারবে না। আরো সতর্কতা হল, মেয়ে পক্ষের কোনো পুরুষ মাহরাম অভিভাবক সঙ্গে থাকা। (সূরা নিসা- ৩ ও ২৪ ও ২৩, সূরা নূর- ৩০, মিশকাতুল মাসাবিহ- ২/২৬৮, আবু দাউদ- ১/২৮৪)।


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন