খতমে তারাবীহের পর হাফেজদেরকে হাদিয়া দেয়া কি জায়েয আছে?
হ্যাঁ জায়েয আছে৷ কে নিষেধ করেছে যে, দিও না! কিন্তু দিবেটা কে? নামাজী লোকেরা দিবে৷ তবে গোপনে৷ পারসোনাল ভাবে মুসুল্লী আর ইমাম হাদিয়া দিক, নজরানা দিক সব জায়েয! কিন্তু (জায়েয পন্থায়) দেয় না কেউ!
মাসআলা তারাই জিজ্ঞেস করে যারা দিতে অনিচ্ছুক৷ এই মাসআলা জিজ্ঞেসকারী সব তারাই যারা দেয় না৷
আগে থেকে তারাবীহে কুরআন শুনানোর জন্য হাফেজ হায়ার করা জায়েয নাই এবং তার বেতন নির্দিষ্ট করাও জায়েয নাই৷
যে এলাকায় হাদিয়া দেয়ার প্রচলন আছে সেখানে মসজিদ কমিটি মসজিদের ফান্ড থেকে কিংবা চাঁদা তুলে হাদিয়া দেয়া জায়েয নাই৷
আমাদের ফিকহে এই মূলনীতি আছে যে,
প্রশ্ন হতে পারে, ফরজ নামাজের জন্য ইমাম রাখা জায়েয কেন? কারণ, যদি ইমাম না রাখো তাহলে মসজিদের ব্যবস্থাপনা অনেক মুশকিল হয়ে যাবে৷ যদি মাওলানা মূসা সাহেব না থাকে তাহলে এখানে আজকের যোহর কে পড়াবে!
আর তারাবীহ? তারাবীহ তো ‘আলাম তারা’ দ্বারাও হতে পারে৷ যদি ইমাম হাফেজ না হয় তবে ইমাম ‘আলাম তারা’ দিয়ে পড়িয়ে দিবে৷ এই হাফেজ হায়ার করার কী দরকার? তারাবীর ইমামতি অর্থ্যাৎ কুরআন পাক দ্বারা ইমামতি, তারাবীহে কুরআন শুনানো, এ জন্য ইমামকে মুলাযিম রাখা, নওকর বা চাকর রাখা, হায়ার করা, এসব কোন শরয়ী প্রয়োজন নয়, দ্বীনী জরূরত নয়৷
হাফেজ দ্বারা কুরআন খতম করানো ছাড়াও তারাবী হতে পারে, ‘আলাম তারা’ দ্বারা৷ এজন্য তারাবীহের জন্য ইমাম হায়ার করা জায়েয নাই৷
এমনিভাবে পরে হাদিয়া দেয়া, দেয়ার প্রচলন হোক বা শর্ত হোক; যেমনিভাবে শর্ত করলে জায়েয নাই তেমনি প্রচলন হলেও জায়েয নাই৷
মোটকথা কমিটির দেয়া মসজিদ ফান্ড থেকে হোক কিংবা চাঁদা তুলে হোক, কমিটি ইমামের সাথে লেনদেন করা কোনভাবেই জায়েয নাই৷ পক্ষান্তরে মুসুল্লী আর ইমাম জানে, আর কেউ জানে না, এমন হলে জায়েয হবে৷ কিন্তু এভাবে কেউ দেয় না!
এই মসজিদেই আমি এই মাসআলা আগে একদিন বয়ান করেছিলাম৷ কেউ একজন জিজ্ঞেস করেছিল৷ অতঃপর রমজান শেষ হওয়ার পর আমি হাফেজদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- ‘আরে তোমাদেরকে কেউ কিছু দিয়েছে?’ তখন একজন বলল যে, ‘এক লোক একটা কুরআন শরীফ এনে দিয়েছে৷’ আরে ভাই! কুরআন শরীফ তো বেচারার মুখস্থই আছে৷ সে কুরআন দিয়ে কী করবে? এই ঘটনা এই মসজিদেরই৷ এছাড়া আর কেউ তিন হাফেজের কাউকেই কিছু দেয়নি৷ শুধু মাসআলা জিজ্ঞেস করো! যা জায়েয তা করার খবর নাই! আছো শুধু মাসআলা বিগড়ানোয়!
ও আমার ভাইয়েরা!
বুঝতে চেষ্টা করো! তারা আমাদের খেদমত করে, তো আমাদের উপরও আবশ্যক, যা কিছু আল্লাহ তাওফীক দেন৷ কিন্তু তা শুধু মুসুল্লী আর ইমাম জানবে৷ কমিটি ও ইমাম এবং মসজিদ ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক হতে পারবে না৷ গোপনে দিয়ে দিবে৷ মুসাফাহা করে হাতে দিয়ে দিবে৷ শুধু সেই জানে ব্যাস৷ অার এমনটি করা উচিত৷ আমি কিন্তু এবারও জিজ্ঞেস করব রমজানের পর…!
(ভারতের এক মসজিদে প্রদত্ত তাঁর উর্দূ বয়ান থেকে সংগৃহীত)
শ্রুতিলিখন ও ভাষান্তর: ইলিয়াস


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন