সাদ সাহেব নিজামুদ্দিনে থেকেও নিজামুদ্দিনের চেতনা লালন করেন না বলে তিনি নিজামুদ্দিনওয়ালা নন আর যারা এখন নিজামুদ্দিনের বাইরে থেকেও নিজামুদ্দিনের চেতনা লালন করেন তারাই প্রকৃত নিজামুদ্দিনওয়ালা।হে সাদ সাহেবের অন্ধভক্তরা! তোমরা মূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আজ কোথায় ছুটেছ। তোমরা যদি নিজামুদ্দিনের এতায়াত বলতে নিজামুদ্দিনের নিষ্প্রাণ ইট কাঠ পাথরের এতায়াত বোঝাতে চাও তবে মনে রেখো তোমরা হচ্ছ নিষ্প্রাণ মূর্তি পূজারির ন্যায়।সুতরাং ফিরে এসো মূলধারায়। হৃদয়ের বন্ধ দরজায় করাঘাত কর। বিবেককে জাগ্রত কর। মুমতাহিন আফসান
আপনি 'নিজামুদ্দীন' মানেন তো?
জী, অবশ্যই। নিজামুদ্দীন মানা ছাড়া প্রচলিত তারতীবে তাবলীগ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে তার আগে তো বুঝতে হবে ' নিজামুদ্দীন ' কি। জানতে হবে 'নিজামুদ্দীন' কাকে বলে।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ চলে গেলেন কুফা। নববী ইলম দ্বারা কুফাকে ভরে দিলেন। এখন যদি কেউ বলে, তিনি তো মদীনা ছেড়ে কুফায় চলে গেছেন। কাজেই তাঁর ইলমকে মদীনার ইলম বলা যাবে না। এ তো কুফার ইলম। এর উত্তরে সবাই এ কথাই বলবে, তুমি তো জানোই না 'মদীনার ইলম' কি জিনিস। আরে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ তো সেই মদীনার ইলমেরই ধারক-বাহক।
ভারত ভাগ হলো।
আল্লামা সাঈদ আহমাদ সন্দ্বীপি রহমাতুল্লাহি আলাইহি। হাটহাজারীর প্রথম শায়খুল হাদীস। জীবনের শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে দিয়েছেন হাটহাজারীতে, শুয়ে আছেন সেখানে। তারপরও তিনি দেওবন্দী। তাঁরা দূরে থেকেও দেওবন্দী চেতনার ধারক, বাহক।
ঠিক একই অবস্থা 'নিজামুদ্দীন' এর। 'নিজামুদ্দীন' কোন ব্যক্তি নয়। ' নিজামুদ্দীন' এক চেতনার নাম, এক ফিকরের নাম, এক ব্যথার নাম। এই চেতনা যে ধারণ করে, এই ফিকর নিয়ে যে চলে, এই ব্যথা যে বয়ে বেড়ায়, সেই নিজামুদ্দীনপন্থী।
হজরত মাওলানা সাঈদ আহমদ খান রহঃ নিজামুদ্দীনের এই ফিকরের বাহক হয়েই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন মদীনায়।
ফিকরে নিজামুদ্দীনের সলতেতে আগুন দিয়েছিলেন হজরতজী ইলিয়াস রহঃ। সেই আগুন সারা পৃথিবীতে ছড়ানোর ফিকর করেছেন হজরতজী ইউসুফ রহঃ। সেই ফিকরকে জমানোর রাস্তা দেখিয়েছেন হজরতজী ইনায়মুল হাসান রহঃ।
হজরত মাওলানা আহমদ লাট দামাত বারাকাতুহুম। সেই ১৯৯৭ থেকে তাঁর কত বয়ানই না শুনেছি। টঙ্গী ময়দানে জজবার স্ফুলিঙ্গ ছুটানো তাঁর সেই বয়ান। নিজামুদ্দীনের আকাবিরগনের সোহবত থেকে লাভ করা চিন্তা ও মননের একটা বড় অংশের ধারক তিনিও।
এভাবে মাওলানা ইসমাইল গোধরা, প্রফেসর সানাউল্লাহ, প্রফেসর খালেদ সিদ্দিকী ওনারা সবাই নিজামুদ্দীনের আকাবিরগনের সেই ব্যথার এক একজন বাহক, এই মেহনতের এক একজন গর্বিত অংশীদার।
আর যার কথা এখানে না বললে পুরো লিখাই অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে।
আকাবিরে নিজামুদ্দীনের সেই একই ফিকরের অংশীদার রায়বেন্ড ও কাকরাইলের হজরতগন।
তো নিজামুদ্দীন হচ্ছে তিন হজরতজীর চিন্তা, চেতনা ও ব্যথার উত্তরাধিকার বহনকারী এক জামাতের সম্মিলিত প্রয়াসের নাম। নিছক কোন বিল্ডিং বা স্থানের নাম নয়। কেবল এক ব্যক্তি নন, বরং ঐ জামাতের বৃহত্তর অংশের অনুসরণ কি নিজামুদ্দীনেরই অনুসরণ নয়?
কারও ব্যক্তিগত ইজতিহাদ, কারও মস্তিস্কে জন্ম নেওয়া নতুন কোন তারতীব কখনও পুরো জামাতের বলে চালানো যায় না। তা একান্তই তাঁর। যে বৃহৎ অংশ আকাবিরে নিজামুদ্দীনের বাতানো সেই মোবারক তারতীবকে কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন ব্যতিরেকে ধারণ করে আছেন, মেহনতের সেই পুরোনো নাহজকে এখনও অক্ষুন্ন রেখেছেন, তাঁরাই তো আসল নিজামুদ্দীনওয়ালা। তাঁদের সেই জামাতের অনুসরণ তো নিজামুদ্দীনেরই অনুসরণ।
কেউ যদি নিজস্ব ইজতিহাদের মাধ্যমে নতুন কোন তারতীব বা নতুন কোন কথা চালাতে চান, আমরা ওলামায়ে কেরামের পানে তাকিয়ে থাকবো, ওলামাগন যতক্ষণ তা কবুল না করেন, আমাদের কি অধিকার তা কবুল করার?
যে ইমাম নামাজে বার বার লোকমা খান, কারই বা ইতমিনান হয় সেই ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার। এ তো এক সহজ সমীকরণ। না বুঝার একদম কিছুই নেই সেখানে।
আল্লাহ আমাদের বুঝ দান করুন।


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন