ইমাম মাহাদীর আগমন সংক্রান্ত যেসব আলামত হাদিসে বর্ণিত আছে তা এই হিজরি শতাব্দীতে (১৪০০) এমন ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে যেমনভাবে একটি পুঁথির মালা ছিড়ে গেলে পুঁথিগুলো পরপর পড়তে থাকে। সেই হিসাবে এটা বলা যায় যে, ইমাম মাহাদী এই হিজরি শতকে আত্মপ্রকাশ করবেন।
কিছু বিষয় আছে যার সূক্ষ্ম জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা'লার কাছে আছে যেটা তিনি প্রকাশ করেন না। যেমন আমরা সবাই জানি আমরা মারা যাবো কিন্তু কবে যাবো সেটা একমাত্র আল্লাহই জানেন। এই বিষয়-টাও সে রকম একটা ব্যাপার। এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ পন্ডিতগণের ব্যাখ্যা হলো আমাদের নবী যেমন ৪০ বছর বয়সে নবুয়্যাত প্রাপ্তির পর খুব অল্প সংখ্যক মানুষ সে ব্যাপারে জানতেন সেরকমভাবে ইমাম মাহাদী ৪০ বছর বয়সে আত্মপ্রকাশ করবেন। হাদিসে বর্ণিত আলামত অনুসারে এই ১৪০০ হিজরি শতকে উনি আসবেন এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে উনি খুব শীঘ্রই জানান দিবেন। ইমাম মাহাদী (রা) আগমনের সাথে সাথে তিনি পৃথিবীতে এসেছেন, তা ঐশী জ্ঞান সম্পন্ন তথা সুফিদের মধ্যে যারা উচ্চতর, তারা বুঝতে পারবেন।
ইহুদী এবং খ্রীষ্টান ধর্মের পন্ডিতদের মতে, ২০১০ সাল হইতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই সাত বছর হইবে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে অকল্পনীয় মারাত্মক ধ্বংসাত্মক বিভীষিকাপূর্ণ। আবার কোরআন হাদিসেও আখেরী জামানার ভয়াবহ গণহত্যা-ধ্বংসাত্মক চক্রান্ত-ইয়াজুজ-মাজুজ দাজ্জালের মহাযুদ্ধের ভীতিকর বর্ণনা বিদ্যমান। এই সাত বছরে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরী হইবে এবং তার পর শুরু হইবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
তখন ইমাম মাহাদী (রা:) আত্মপ্রকাশ করিবেন। এদিকে আমাদের ইসলামী ওলামা ও স্কলারগণ কোরআন ও হাদিস থেকে গবেষণা করে বলছেন, আমাদের এই মুসলিম উম্মা ১৫০০ বছর হায়াত নিয়ে পৃথিবীতে এসেছি আমরা। (সহিহ বোখারী হাদিসের হিসাব) তোমাদেরকে কোরআন দেওয়া হল আসরের সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমল করেছো। এই সময়টুকু ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন ১০০০ বছর। সুনানির বর্ণনায় আরও একটি সহিহ হাদিসের মধ্যে এসেছে আল্লাহ পুরস্কার দিয়েছেন আরও ৫০০ বছর এই উম্মতকে আমি আশা করি আমার উম্মত ১০০০ বছর আমল করলে আরও ৫০০ বছরের একটা বোনাস পুরস্কার সময় পৃথিবীতে তারা পাবে। আমার উম্মত অক্ষম হবে না। ঐ অর্ধদিবস অর্থাৎ ৫০০ বছর পেতে।
সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস এই অর্ধদিবসকে বর্ণনা করেছেন ৫০০ বছর। কারণ কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের রবের কাছে একদিন হলো তোমাদের গণনার ১০০০ বছরের সমান। অতএব, আমরা এখানে বুঝতে পারলাম, অর্ধদিবস অর্থাৎ ৫০০ বছর আল্লাহ বোনাস দিয়েছেন। অতএব (১০০০+বোনাস ৫০০বছর) =১৫০০ বছর। তাহলে বুঝতে পারলাম এই উম্মতের বয়স ১৫০০ বছর। অতএব এই মুসলিম উম্মা ১৫০০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে। কেয়ামত আরও অনেক পরে হতে পারে। সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠার ১২০ বছরের মাথায় কেয়ামত হবে সহিহ বর্ণনায় এসেছে। কিন্তু তার আগে আমরা এই উম্মত চলে যাবো আগামী ৬০ বছরের মধ্যে। কারণ ১৪৩৯ তো শেষ।
সহিহ মুসলিম ও আবু দাউদ থেকে আমরা জানি কেয়ামত কোন মুমিনদের উপর হবে না। যাদের ন্যুনতম ঈমান থাকবে তাকেও আল্লাহ ইয়ামান থেকে একটা পবিত্র ঠান্ডা বায়ু নির্গত করে ঈসা (আঃ) এর যুগে প্রত্যেক মুসলিম প্রত্যেক মুমিনের রুহ কবজ করে নিয়ে যাবেন এবং কাফেরদের উপর মূলত কেয়ামত নাযিল হবে। নবী (সাঃ) এর জন্ম থেকে নবুয়্যাত পর্যন্ত হিজরী হিসাব করলে আমাদের হাতে আছে আর মাত্র ৬০ বছর। আমরা এখন ১৪৩৯ হিজরীতে বসবাস করছি। এর মধ্যে মুসলমানদের স্বর্ণ যুগ হবে ৪০ বছর, ঈসা (আঃ) এর নেতৃত্বে সারা বিশ্বে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ দিয়ে ৪০ বছর তার দাড়ায় বিশ্ব শাসিত হবে। তাহলে ৬০ বছর থেকে স্বর্ণ যুগ ৪০ বছর বাদ দিন থাকে ২০ বছর। এবার আসুন ইমাম মাহাদী (রাঃ) ৭ বছর রাজত্ব করবেন। তাহলে ২০ বছর থেকে ৭ বছর বাদ দিন। তাহলে আমাদের হাতে থাকতেছে মাত্র ১৩ বছর। এখন কত সাল চলছে ২০১৮ সাল। আল্লাহই ভাল জানেন।
ইমাম মাহাদীর শাসন আমলের ৫ বছর পর কানা দাজ্জালের আগমন হবে। আমরা ইবনে মাজা খন্ড ২ (পৃষ্ঠা-১৩৭) থেকে জানতে পারি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা) থেকে বর্ণিত- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহাযুদ্ধ ও কুস্তন্তনিয়া (ইস্তাম্বুল) জয়ের মধ্যে খানে সময় যাবে ৬ বছর।
সপ্তম বছরে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। তাহলে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের আগে মহাযুদ্ধের সম্ভাব্য সাল আসে ২০১৮ অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ। আল্লাহই ভাল জানেন।
আসুন আমরা এবার ইমাম মাহাদী ও দাজ্জালের সম্পর্কিত হাদীস গুলো দেখী।
শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ:) ভবিষ্যৎবাণী, ইমাম মাহাদীর আত্মপ্রকাশ। ইমাম মাহাদীর আবির্ভাব কবে হবে তা একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন।
ইমাম মাহাদী, দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদিস বিশ্লেষণ করে আমার ধারণা হচ্ছে
১৯৮০/১৯৮১ সালে ইমাম মাহাদী জন্ম ২০২০ সালে উনার আত্মপ্রকাশ ২০২১ সালে গাযওয়ায়ে হিন্দু বা হিন্দুস্থানের চুড়ান্ত যুদ্ধ এবং কানা দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হতে পারে ২০২৫ সালে (আল্লাহই ভাল জানেন)।
আসুন হাদিস দিয়ে সূত্র মিলাই-ইমাম মাহাদির আবির্ভাবের আগে কোন এক পবিত্র রমজান মাসে সূর্য গ্রহণ হবে। (মেসকাত শরীফ) আরো বলা আছে, এই গ্রহণ গুলোর মধ্যবর্তী সময় সমান হবে (১৪-১৫) দিনের ব্যবধান। এই গ্রহণগুলোর দুইবার পুনরাবৃত্তি হবে। দুইবার করে চন্দ্র গ্রহন ও সূর্য গ্রহন যা স্বাভাবিক অবস্থায় হয় না। এই হিসাবের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করলে দেখা যায় ১৫ই রমজান শুক্রবার ১৪০১ হিজরি ইংরেজী ১৭ জুলাই ১৯৮০ সালে চন্দ্রগ্রহন হয়েছিল। রেফারেন্স-১, রেফারেন্স-২।
২৯ রমজান শুক্রবার ১৪০১ হিজরি ইংরেজী ৩১ জুলাই ১৯৮০ সালে সূর্য গ্রহন হয়েছিল। রেফারেন্স-১ = ১৫ রমজান মঙ্গলবার ১৪০২ হিজরি ইংরেজী ৬ জুলাই ১৯৮১ সালে আবার চন্দ্র গ্রহন হয়েছিল।
রেফারেন্স-২ = ২৯ রমজান মঙ্গলবার ১৪০২ হিজরি ইংরেজী ২০ জুলাই ১৯৮১ সালে পুনরায় সূর্য গ্রহন হয়েছিল। হাদিসে বর্ণিত, অন্যান্য আলামতের মত উপরোক্ত ঘটনাগুলোও অলৌকিক ভাবে হিজরি ১৪০১ সালের শুরুর দিকে পর পর ২ বৎসর (১৪০১-১৪০২) সংগঠিত হয় যা ইমাম মাহাদীর আগমনের ব্যাপারে ইঙ্গিতপূর্ণ।
যখন ইমাম মাহাদীর বয়স চল্লিশ বছর পরিপূর্ণ হবে এবং যখন তিনি খেলাফতের গুরুভার বহন করার ক্ষমতা অর্জন করবেন তখন তার আবির্ভাব ঘটবে। (মেশকাত শরীফ) আমরা জানতে পারলাম, ১৯৮০/১৯৮১ সালের রমজান মাসে চন্দ্র গ্রহন ও সূর্য গ্রহন এই অলৌকিক ঘটনা পর পর দুইবার সংঘটিত হয়েছে। যদি ধরে নেওয়া হয় উক্ত দুই বছরের যেকোন বছরে ইমাম মাহাদীর জন্ম সাল (অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম বিশ্বাস করেন মাহাদীর জন্ম হয়ে গিয়েছে) তাহলে উনার ৪০ বছর পূর্ণ হবে ২০২০/২০২১ সালে। এবার ইমাম মাহাদীর অপেক্ষায় ধুমকেতুর উদ্ভব। উজ্জ্বল লেজ সমৃদ্ধ এক তারকার উদ্ভব ঘটবে। ইমাম মাহাদীর আগমনের পূর্বে। হাদিসের বর্ণনা মতে, হ্যালীর ধুমকেতু হিজরি ১৪০০ সালের শুরুর দশক অর্থাৎ ১৪০৬ হিজরি ইংরেজী ১৯৮৬ সালে পৃথিবীর কাছ দিয়ে যায়।
হাদিসের বর্ণনানুসারে ধুমকেতুটি হবে-উজ্জ্বল তারকা সদৃশ্য। গমন পথছিল পূর্ব থেকে পশ্চিম। চন্দ্র ও সূর্য গ্রহন সংক্রান্ত আলামতটি (১৯৮০-১৯৮১)। প্রকাশিত হবার পর হ্যালীর ধুমকেতুর আগমন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়্যাত লাভের পর এটা হ্যালির ধুমকেতুর ১৯তম বার আগমন।
১৯ সংখ্যার বিশেষত্বর ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের সূরা মুদাসসের সুরা নং-৭৪, ৩০নং আয়াতে বর্ণিত আছে, হযরত ফিরোজ দাইলামী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন,
রমজান মাসে একটি বিকট আওয়াজ হবে। সাহাবায়ে কেরামরা বলেন, রমজানের শুরুতে নাকি শেষে উত্তরে বললেন বরং রমজানের মাঝামাঝিতে। যখন ১৫ই রমজান রাত্রিটি জুমার রাত্রি হবে, তখন আসমান থেকে বিকট আওয়াজ আসবে। সেই শব্দের প্রচন্ডতায় সত্তর হাজার মানুষ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে আর সত্তর হাজার বধির হয়ে যাবে। সাহাবাগন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল আপনার উম্মতের কারা সেদিন নিরাপদ থাকবে? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যারা নিজ ঘরে অবস্থানরত থাকবে, সিজদায় লুটিয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং উচ্চ শব্দে আল্লাহু আকবর বলবে।
পরে আরও একটি শব্দ আসবে প্রথম শব্দটি হবে জিব্রাইল এর দ্বিতীয়টি হবে শয়তানের। আশ্চার্য বিষয় হলো ২০২০ সালের ১৫ই রমজান শুক্রবার হবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আর শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.) এর ভবিষ্যৎ বাণী যদি সত্য হয় তাহলে ২০২১ সালে হিন্দুস্থানের চুড়ান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কথা।
(আল্লাহই ভালো জানেন) কারণ ইমাম মাহাদীর আত্মপ্রকাশের (২০২০) পর এই যুদ্ধ হবে।
হাদিস থেকে জানা যায়, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ঘটবে, ইমাম মাহাদীর শাসনামলের শেষ বছর অর্থাৎ ৫ বছরের সময় ২০০৪ সালে ফিলিস্তিনে একটি শিশুর জন্মের কথা সবাই জানেন। হাদিসে আছে দাজ্জাল যাকে হত্যা করবে সে যুবক হবে। অর্থাৎ তার বয়স হবে ২১-২৫ বছর। ২০০৪ সালে যদি জন্মগ্রহন করে তাহলে সে যুবক হবে ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালে আর ইমাম মাহাদীর শাসনামলের (২০২০) ৫ বছর পর যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তাহলে ২০২৫ সালে কানা দাজ্জালের আগমন সাল হওয়ার কথা। (আল্লাহই ভালো জানেন)।
এবার আসি আমরা ইমাম মাহাদীর আগমন পূর্ব আলামত যেভাবে ইসলামের ১৪০০ বছর পূরনের ঠিক আগ দিয়ে বনুকাল্ব গোত্র থেকে সিরিয়ার শাসক নিযুক্ত হল যেহেতু সিরিয়ার বনুকাল্ব গোত্রের এক অত্যাচারী শাসক (হাদিসে যাকে সুফিয়ানি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে)। ইমাম মাহাদীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার সংশ্লিষ্টতা এসেছে।
১৯৭০ সালে হাফিজ আল আসাদ ক্ষমতায় আসার পর ২০০০ সালে তার মৃত্যুর পর ৩০ বছরের শাসন শেষে তার ছেলে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় আসে। মক্কাতে ইমাম মাহাদীর আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে সর্বপ্রথম যেই আরব শাসকটি মাহাদীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে সে হবে সিরিয়া নামক ভূখন্ডের একজন অত্যাচারী শাসক যে কি না হবে বনুকাল্ব গোত্রের ব্যক্তিত্ব। এতে বুঝা যায় যে, মাহাদীর আত্মপ্রকাশের সাথে সাথেই সে ইমাম মাহাদীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে যাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাল্বের যুদ্ধ নামে আখ্যায়িত করেছেন।
কোন কোন হাদিসে এই শাসককে সুফিয়ানি হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে হযরত আলী (রা.) বলেন, সুফিয়ানি যে লোক শেষ যুগে সিরিয়াতে দখল প্রতিষ্ঠা করবে সে বংশগত ভাবে খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংশদ্ভুত হবে। তার সহচরদের মধ্যেও কাল্ববিয়া বা কাল্ব গোত্রের লোক বেশি হবে। দামেস্কের দিক থেকে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তার মাথা বড় হবে এবং মুখে শ্বেত রোগের দাগ থাকবে। এক চোখে একটি সাদা দাগ থাকবে। মানুষের রক্ত ঝরানো তাদের বিশেষ অভ্যাসে পরিণত হবে। যে লোকই বিরোধিতা করবে তাকেই হত্যা করা হবে। এমন কি গর্ভস্থিত সন্তানদের পর্যন্ত হত্যা করবে।
২০০০ সালের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত বনুকাল্ব গোত্রের অপর শাসক বাশার আল আসাদ দামেস্কে। ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে নুসাইবিয়াদের অবস্থান আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত এর বিরুদ্ধে এতই নিষ্ঠুর হবে যে, এমনকি গর্ভস্থিত সন্তানদের পর্যন্ত হত্যা করবে- হাদিসের এই লাইনটিকে পর্যন্ত তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত করছে। আর মহান আল্লাহ আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে তা সারাবিশ্বে জানিয়ে দিয়েছে। ব্রিটিশ ডাঃ ডেভিড নট, যিনি কিনা সিরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচ সপ্তাহ ধরে স্বেচ্ছায় চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তার বরাত দিয়ে গত অক্টোবর ২০১৩ সালে সিএনএন, ডেইলী মেইল, ডেইলি টেলিগ্রাফসহ বহু আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে এই খবর প্রচারিত হয় যে আসাদের স্লাইপাররা গর্ভবতী মহিলাদের পেটকে লক্ষ্য করে গুলি করে গর্ভস্থিত সন্তানদের হত্যা করছে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা এই সুফিয়ানিকে কিভাবে চিনব? উত্তরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তার চেহারার রং ঝলমলে তারকার মতো হবে। ডান গালে তিলক থাকবে। আর বয়স চল্লিশের কম হবে। ঝলমলে চেহারার অধিকারী বাশার আল আসাদ ৩০ বছর বয়সে সিরিয়ার শাসনভার গ্রহণ করে।
মাহাদীর আত্মপ্রকাশের আরও একটি লক্ষণ হল, পশ্চিম দিক থেকে পতাকা আসবে। বনু কানদার এক খোঁড়া ব্যক্তি সেই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হল ২০০১ সালে যখন পশ্চিমারা খোরাসানের এই কালো পতাকাবাহী বাহিনীটিকে আক্রমণ করে তখন তাদের জয়েন্ট চীফ কমান্ডার ছিল এয়ার ফোর্স জেনারেল রিচার্ড মাইয়ের। সে এক পা খোঁড়া সে জন্মগ্রহণ করেন কানসাস শহরে যার কিনা-কানাডার সাথে সীমানা এবং এই শহরের বেশির ভাগ অধিবাসী কানাডা থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে সেই শুরু থেকে। আর কানাডাকে আরবীতে কানদা বলে। বাকিটা আল্লাহই ভালো জানেন।
এদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এতটাই দুর্বল হয়েছে যে, যেকোন সময় পৃথিবীর আহ্নিক গতি থেমে যেতে পারে এটি থেমে গেলে তার পরের দিন উল্টো দিক থেকে সূর্য উঠবে পূর্ব দিক থেকে পৃথিবী ঘুরবে বলে পশ্চিম দিকে সূর্য দেখা যাবে।
নাসা আরো জানিয়েছে (২০১৯-২০২৪) সাল এর মধ্যে যে কোন সময় পশ্চিম দিকে সূর্য উঠতে পারে। আমরা জানি, কোরআন ও হাদিসে বলা আছে সূর্য পশ্চিম দিকে উঠলে তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। আর নতুন করে তওবা কবুল করা হবে না। আর ইমাম মাহাদী যদি ২০২০ সালে পৃথিবীতে অবস্থান করেন, তাহলে হাদিস অনুসারে, তিনি আসার পূর্বে ভয়াবহ মহাবিপর্যয়ের পর বিপর্যয় মহাজাগতিক ভয়ানক দূর্যোগ নিয়ে এই পৃথিবীতে আসবেন। হতে পারে তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ, হতে পারে বড় গ্রহানু পুঞ্জর আঘাত হতে পারে বড় ধরনের সৌর ঝড় ও ভূমিকম্প বা ভূমিধ্বস। তবে ইমাম মাহাদী যদি ২০২০ সালে আসেন তাহলে এই মহাবিপদ গুলো (২০১৮/২০২০) সালের মধ্যে যেকোন সময় হতে পারে। (আল্লাহই ভালো জানেন)
আমি আপনাদের এবার কিছু ভয়ানক খবর জানাবো,
(১) সৌদির মেয়েদের আর বোরখা নয়, এবার মেয়েরা পড়তে পারবেন বিকিনিও, অ্যালকোহল, সিনেমা থিয়েটার কোনও কিছুতেই আর বাধা নেই। সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে এবার এমনই এক পর্যটককেন্দ্র গড়ে উঠতে চলেছে সৌদি আরবে। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হবে এই প্রকল্পের কাজ চলবে ২০২২ পর্যন্ত। সেই সঙ্গে থাকবে আমোদ-প্রমোদের এলাহি আয়োজন। ইন-শা আল্লাহ আমি মনে করি, এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবার আগেই সৌদির দায়িত্ব ঈমাম মাহাদীর হাতে চলে আসবে এবং এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে
(২) কুমিল্লায় মসজিদের মুয়াজ্জিন ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ (জুম বাংলা, ১৬-০৮-২০১৭)
(৩) মাতৃগর্ভ নয়, এবার শিশুর জন্ম হবে মেশিনে (জুম বাংলা, ১৫-০৮-২০১৭)
(৪) ১০১ বছর বয়সী বাবাকে নিয়মিত পেটায় ৪ ছেলে। (১৩-০৮-২০১৭, কালেরকণ্ঠ)।
(৫) নিজের গর্ভেই সন্তানের জন্ম দিলেন পুরুষ মা (ডেইলি সান)।
(৬) কমে আসছে পুরুষের শুক্রানু, বিলুপ্তির পথে মানবজাতি। (ডেইলি সান)
(৭) ছাত্রদের মনোযোগী করতে এখানে নগ্ন হয়ে পড়ান শিক্ষিকরা। (ডেইলী সান)
৮) পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হবেন ট্রাম্প-স্টিফেন হকিং।
(৯) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং গত ২৩-০৬-২০১৭ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছেন, আমি নিশ্চিত ৩০ বছরের মধ্যেই পৃথিবী ছাড়তে হবে।
(১০) সূর্যে ৭৫ হাজার মাইল দীর্ঘ গর্ত, প্রবল সৌরঝড়ের আশঙ্কা! (১৪/০৭/১৭, জনকণ্ঠ)
আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এবার মাসজিদুল হারামে ওমরাহ হজ্জ ও ইতেকাফ এবং ঈদ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানে আমি দেখতে পেলাম যে, স্বয়ং আল্লাহর পবিত্র কাবা ঘরের সামনে শিরক, বেদআত ও মেয়েদের যে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও উগ্র স্বভাব যা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। এই পবিত্র স্থানের সামনে এই অবস্থা যা ঈমান ধরে রাখা খুবই কঠিন ব্যাপার ছিল। আরো লক্ষ করলাম তারা যেন ওমরাহ হজ্জ করতে আসেনি, বিয়ের হানিমুন করতে এসেছে। আমি আপনাদের ভয় দেখানোর জন্য এই লেখা মূলত লেখিনি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই ঘটনাগুলোর সত্যতা পাবেন ইন-শা আল্লাহ।
আমি সাত বছর ধরে এই বিষয়ের উপর রিসার্স করে আসছি এবং বিশ্বের বড় বড় আলেম ও স্কলারগন এর সহিত নেট বিনিময়ের মাধ্যমে এ বিষয়ের উপর জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একটি আয়াত হলেও তোমরা মানুষের কাছে প্রচার কর। মুলত সেই উদ্দেশ্যেই এই বার্তা আপনাদের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য মূলত এটি লেখা।
অন্য কোন উদ্দেশ্যে নয়।
এটা জেনে আপনারা যদি নিজেকে সংশোধন করেন তাহলেই আমার সাফল্য। এর সম্পর্কে আমি রিসার্স করে নিজেকে পাল্টিয়েছি এবার আপনাদের বদলানোর পালা নতুবা পরে অনেক দেরী হয়ে যাবে।
ভাবছেন এর আগে তো অনেকবার শুনেছি কেয়ামত হবে। কিন্তু কই কেয়ামত তো হয় নাই। আসলে তখন কেয়ামতের সময় ও প্রেক্ষাপট তৈরি হয় নাই। সে জন্য হয় নাই। কিন্তু এবার সত্যিই সময় হয়ে গেছে। আপনারা যেমন কোন দলের পার্টির মিছিলে শ্লোগান শুনে থাকেন ‘ডাইরেক্ট একশন’
এবার আল্লাহ্র সেই ‘ডাইরেক্ট একশন’ আসতেছে।
পূর্বেকার জাতিগুলো দেখেছে আল্লাহর ‘ডাইরেক্ট একশন’। এবার আমাদের পালা, দেখার জন্য প্রস্তুত হোন।
এবার শুনুন বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে কোরআন ও হাদিসের বাস্তব মিল,
(১) কোরআন বলছে, পৃথিবীতে যখন তার চাকচিক্য গ্রহণ করবে একেবারে লোভনীয়, কমনীয় সাজে সাজবে তখনই কেয়ামতের বার্তা চলে আসবে। পৃথিবী কি চাকচিক্য ও লোভনীয় সাজে সাজেনি?
(২) শেষ যুগে খলিফাদের তিনজন সন্তান কাবা ঘরের গুপ্ত ধন ভান্ডারের কর্তৃত্ব নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, কেউই কারো উপর বিজয়ী হবে না। তখনই মক্কায় ইমাম মাহাদীর আগমন ঘটবে। এবং সবাই তার হাতে বায়াত গ্রহণ করবেন। এই সহিহ হাদিসটি সৌদী আরবের দিকে তাকালেই বুঝা যায় যে, এটিও খুব শীঘ্রই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। অতএব পরিবেশও অলরেডি তৈরি।
(৩) ১৪০০ বছর আগে নবী (সাঃ) বলেছিলেন, ঈসা (আঃ) আসমান হতে দামেস্কের জামে মসজিদে পূর্ব সাদা মিনারের উপর দিয়ে এ পৃথিবীতে অবস্থান করবেন। সেই মসজিদ ও সাদা মিনারও রেডি।
(৪) বিশ্বব্যাপী যখন সুদের উপর রাজত্ব চলবে তখন তোমরা দেখবে মসজিদের ইমাম হবে বেঈমান, মুয়াজ্জিন হবে বেঈমান এমনকি মসজিদে ভর্তি সব মুসল্লি হবে বেঈমান একজন ইমানদার ব্যক্তিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা আমার কথা নয়। নবী (সাঃ) বলেছেন। সেই জামানায় কি আমরা বসবাস করছি না।
(৫) একমাত্র গারকাদ নামক গাছ ইহুদীদের কে আশ্রয় দেবে। এ জন্যেই বর্তমান ইহুদীরা দখলকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় এ জাতীয় খুব বেশী করে লাগাচ্ছে। মসজিদ আল আকসার চার দিকেও এ গাছ প্রচুর পরিমানে লাগানো হচ্ছে। কারণ তারা জানে মুসলমানরা তাদেরকে পেলে কচু কাটা করবে।
(৬) যে সমস্ত মুসলমান গান-বাজনা ও টিভিতে অর্ধলঙ্গ নারী পুরুষের ফাহেশা ছবি নাটক, সিরিয়াল দেখেন তাদের জন্য দুঃসংবাদ যারা একাজে মত্ত হবে তাদেরকে তিন ধরনের শাস্তি দেয়া হবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-’
(১) মাটির নিচে দাবিয়ে দেয়া হবে
(২) উপরে উঠিয়ে নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা হবে
(৩) চেহারা পরিবর্তন করে শুকুর ও বানর পরিণত করা হবে।
তবে চেহারা পরিবর্তনের ঘটনা সম্ভবত এখনও ঘটেনি।
যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন শেষ জামানায় হবে আমরা মুসলিম হিসাবে বিশ্বাস করি যারা গান-বাজনা ও গায়ক -গায়িকা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তাদের উপরে চেহারা বিকৃত করার শাস্তি অবশ্যই আসবে।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বাণীতে বলে গেছেন, যখন কিয়ামত খুবই কাছে এসে যাবে, এজন্য তিনি কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার কতগুলো আলামত জানিয়ে দিয়ে গেছেন।
আলামতগুলো হলো-
(১) মানুষ ব্যাপক হারে ধর্মবিমুখ হবে।
২) বিভিন্ন রকমের পার্থিব আনন্দ এবং রং-তামাশায় মেতে থাকবে
৩) মসজিদে বসে দুনিয়াদারীর আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হবে।
৪) সমাজে ও রাষ্ট্রে অযোগ্য লোক এবং মহিলা নেতৃত্ব শুরু হবে।
৫) মানুষের মধ্যে ভক্তি শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা কমে যাবে।
৬) ঘন ঘন ভূমিকম্প হতে থাকবে।
৭) সব দেশের আবহাওয়া ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিবে।
৮) অত্যাধিক শিলা বৃষ্টি হবে।
৯) মানুষের রুপ পরিবর্তিত হয়ে পুরুষ স্ত্রী লোকের ন্যায় এবং স্ত্রীলোক পুরুষের রুপ ধারণ করবেন।
১০) ব্যাপক হারে হত্যাকান্ড বেড়ে যাবে।
১১) যখন মানুষ সম্পদ উপার্জনে হালাল-হারামের বাচ-বিচার করবে না।
১২) যাকাত আদায়কে জরিমানা মনে করবে।
১৩) জন্মদাতা পিতাকে দুরে ঠেলে দিয়ে বন্ধু-বান্ধবকে বেশী গুরুত্ব দিবে।
১৪) আল্লাহর ঘর মসজিদে উচ্চস্বরে চিৎকার করা।
১৫) মানুষের মৃত্যু কামনার হার বৃদ্ধি পাবে।
১৬) মসজিদগুলোকে অধিক সুসজ্জিত করার প্রতিযোগিতা চলবে।
১৭) ঘরবাড়ির ডিজাইনও সুসজ্জিত করা হবে।
১৮) আকাশ হতে অধিক হারে বজ্রপাত হয়ে মানুষ মারা যাবে। হঠাৎ মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাবে।
১৯) ইতর শ্রেণির লোকেরা বিশাল সম্পত্তির অধিকারী হবে।
২০) বাজার ও দোকানপাট নিকটবর্তী হয়ে যাবে।
২১) মুমিনের স্বপ্ন সত্য হবে।
২২) মিথ্যা ব্যাপক হারে ধারন করবে।
২৩) অশ্লীলতা, নোংড়ামী প্রদর্শন দেখা দেবে।
২৪) ভারী বৃষ্টি যা প্লাবন সৃষ্টি করবে।
২৫) মা তার মেয়ের কথা মতো চলবে।
২৫) স্যাটেলাইট, টিভি, চ্যানেল আবিস্কার।
২৬) প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে ফসল হবে না।
২৭) জেনা-ব্যাভিচার বৃদ্ধি পাবে।
২৮) সুদখোরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
২৯) মদ্যপান হালাল মনে করবে।
৩০) মুসলমানরা শিরকে লিপ্ত হবে।
৩১) বেপর্দা নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
এই আলামত গুলো যখন দেখা দিবে তখন কিয়ামতের বড় আলামতগুলো নিকটবর্তী হবে। বর্তমান এগুলো ব্যাপক হারে ঘটে যাচ্ছে সুতরাং কেয়ামত অতি সন্নিকটে। তাই আসুন আগে থেকেই সতর্ক হই।
সহিহ মুসলিমের একবারে প্রথম হাদিসটির কথাই ধরা যাক। এখানে কিয়ামতের আলামত সমূহ সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমাদের নবী (সাঃ) বলেছিলেন, নগ্নপদ, বস্ত্রহীন রাখাল, বেদুইনরা অর্থাৎ যারা খাসি আর গরুর দেখাশোনা করে সেই নগ্নপথ বস্ত্রহীন রাখাল বেদুইনরা উচু বিল্ডিং বানানোর প্রতিযোগীতায় নামবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথাটি বলেছিলেন আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও বেশী আগে। কিন্তু গত মাত্র এক দশকে আমরা এমনটি বাস্তবেই ঘটতে দেখছি। অমুসলিমরা যারা কিনা এই হাদিসটি সম্পর্কে অবহিত নয়, তারা পর্যন্ত বলতে শুরু করেছে যে, মধ্যেপ্রাচ্যের আরবরা আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরির প্রতিযোগিতা মেতে উঠেছে। আমাদের চোখের সামনেই এত বড় মুজিযার বাস্তবায়ন ঘটে যাচ্ছে, এরপরও অস্বীকার করার কোন অজুহাত থাকতে পারে কি? কেয়ামত অনেক দুরে। আসলে কাফিরদের স্বভাব হচ্ছে কেয়ামতকে অনেক দুরে দেখা আর মুমিনদের আকিদা হচ্ছে কেয়ামতকে অতি নিকটে দেখা।
একটা যুগ আসবে (যে যুগ) ইতিহাসের সমাপ্তিকে নির্ণয় করবে! এবং সেই যুগ সমাপ্তির শীর্ষুবিন্দুতে নিয়ে যাবে।
কিয়ামত যে অনেক দুরের কোন বিষয় নয়। সেবিষয়ে আমাদের চোখের সামনে থেকে পর্দা সরে গেল।
এখন প্রস্তুতির সময়।
তওবার মাধ্যমে, বেশি বেশি নেক আমল করার মাধ্যমে এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের অবিরাম প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে হবে।
তাই আমি বলতে চাই, আমরা এখন জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডের একদম কিনারায় এসে দাড়িয়েছি। খুব কম সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর অবস্থা সম্পুর্ন পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন রকম হতে যাচ্ছে এবং আমি অনুরোধ জানাই যারা এখনও ঘুমিয়ে আছে তারা যেন এখনই জাগ্রত হয়, হয়তোবা আগামীকাল, অনেক বেশি দেরি হয়ে যাবে।
তথ্য সূত্রঃ দৈনিক দাবানল.কম


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন