একটা সময় পর্যন্ত ওনাকে শুধু একজন মুবাল্লিগ আলেম হিসাবে চিনতাম, এই ভুল ভেঙেছে উস্তাযে মুহতারাম আদীব হুজুরের মুখে ওনার কিছু ফযীলত শুনে। মাদরাসাতুল মাদীনায় আমরা তখন তৃতীয় বর্ষে পড়ি। আদীব হুজুর (মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ্) একদিন বয়ানে উপরের জামাতের বড় ভাইদের সম্মান করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করছিলেন,
ঘটনাক্রমে বললেনঃ
“কাকরাইলের যুবায়ের ভাই আমাদের দুই জামাত উপরে ছিলেন। কিছু মানুষ এমন থাকে যাদের আমল আখলাক, ইলম হিলম ইত্যাদির কারণে সমসাময়িকরাও শ্রদ্ধা করতে বাধ্য হন। কাকরাইলের যুবায়ের ভাইকে আমরা একজন উস্তাযের চেয়ে কোন অংশে কম ভক্তি শ্রদ্ধা করতাম না। কখনো ওনার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহসও আমরা করিনি।”
এই একজন নিভৃতচারী মনীষী সম্পর্কে প্রিয় উস্তাযের মুখে এধরণের আরো অনেক গুণগান শুনেছিলাম সেদিন। সেদিনের পর আমার ভুল ভাঙলো এবং নতুন করে চিনতে চেষ্টা করলাম “কারী যুবায়ের সাহেব” নামে পরিচিত এই মহান মনীষীকে। এরপর কাকরাইলে যতবার যেতাম মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম ওনার দিকে, আর দেখতাম তাঁর নামাজ, তাসবীহাত। এমনভাবে ধীরে ধীরে নামাজ পড়তেন যেন তরবারির নিচে দাড়িয়ে জীবনের শেষ নামাজটা পড়ে নিচ্ছেন! সবচেয়ে সুন্দর লাগতো ওনার মুনাজাত দেখতে, মায়ের কাছে বাচ্চার আব্দারের মতো করে লম্বা সময় নিয়ে মুনাজাত করতেন একা একা। পাশে কে দেখছে, কে কি মনে করছে এসব তাঁর যেহেনেও থাকতোনা। আর তাবলীগের ওলামা আওয়াম সবাই ‘বাহ্যিকভাবে’ মন থেকেই ওনাকে অসম্ভব ভক্তি করতো।
কিন্তু…
এই মহান বুযুর্গ সম্পর্কে আজকাল সেই অতিউৎসাহী ‘মুবাল্লিগরাই’ এমন এমন বিশ্রী, জঘন্য থেকে জঘন্যতম কথা বলছে যা শুনলে সত্যিই বুখারী শরীফ এবং মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম (রাযি.) এর ঘটনা মনে পরে যায়।
হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম রাযি. যখন ইসলাম কবুল করলেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেনঃ হে নবী! এই ইহুদী জাতিটা হলো চরম মিত্থুক একটা জাতি। আপনি এদের থেকে আমার সম্পর্কে প্রথমে জিজ্ঞেস করে নিন, তারপর আমি আমার ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করবো। তখন নবীজী ইহুদীদেরকে ডেকে বললেন: তোমাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম কেমন লোক? তারা সবাই একবাক্যে বলে উঠলো;
তারপর নবীজী বললেন: আচ্ছা এই আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম যদি ইসলাম কবুল করে নেয়?
তারা উত্তরে বললো: এধরণের সংবাদ থেকে স্রষ্টা আমাদের রক্ষা করুন!
এরপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম তাঁর ইসলামের কথা প্রকাশ করে দিলেন এবং কলেমা শুনিয়া দিলেন। তারপর একটু আগে যারা প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো তারা সবাই একবাক্যে বলে উঠলো;
তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. বলে উঠলেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি এই আশংকাই করছিলাম এতোক্ষণ।
প্রিয় মুবাল্লিগ আওয়াম ভাইয়েরা! যেই মহান মানুষটা সম্পর্কে আজ আপনারা এমন নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছেন,
গতকাল পর্যন্ততো আপনারাই তাঁকে বাংলার হজরতজী হিসাবে সম্মান দিয়েছেন। তবে কোন্ স্বার্থে কিসের ক্ষোভে আজ এই মানুষটাকেই আপনারা “উল্লেখের অযোগ্য” ভাষায় গালাগাল করছেন?!
এই_দ্বিমুখিতার_শেষ_কোথায়?!
তাহলে কি আপনারা এটাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে
এই_দ্বিমুখিতার_শেষ_কোথায়?!
মুহতারাম মুবাল্লিগ ভাইয়েরা! আচ্ছা আপনাদের কি মনে আছে যে আপনাদের থেকেই আমরা জেনেছিলাম যুবায়ের সাহেব হুজুরের বুযুর্গী আর কারামাত সম্পর্কে? এই যুবায়ের সাহেব হুজুর প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বহুবার স্বপ্নে দেখেছেন, সে সম্পর্কেওতো আমরা আপনাদের থেকেই জেনেছিলাম, তো আজ কোন্ আক্রোশের জের ধরে এই মানুষটাকে এভাবে বাক্যবাণে জর্জরিত করছেন?!
হায় আমাদের বিবেক….
কপি পেষ্টঃমাওলানা যুবায়ের সাহেব সম্পর্কে কিছু কথা


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন