ক্ষমা করুন মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)। আপনার রেখে যাওয়া আমানত আজ আমরা হেফাজত করতে পারছি না। আপনি আমাদের ক্ষমা করুন। আল্লাহতায়ালা আপনার মাধ্যমে এক নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। গোটাবিশ্ব আলোড়িত হয়েছে দাওয়াত তাবলীগের মেহনতে।
মেওয়াতের ছোট বস্তিতে শুরু করা আপনার মেহনত আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। উম্মতের জন্য রাসূল (সা.)-এর যে দরদ ও ব্যথা ছিল, সে ব্যথায় আপনি আধুনিক বিশ্বকে আবার জাগিয়ে তুলেছিলেন।
গোটাবিশ্ব এক পরিবারে পরিণত হচ্ছিল আপনার এ প্রচেষ্টায়। আরব-আজম, ইরান-তুরান, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইউরোপ সবখানেই মুসলমান এক হয়েছে এ মোবারক মেহনতে।
এতদিন আমরা গর্ব করে বলতাম, দেখ, শত্রুরা আমাদের সব শেষ করে দিলেও এ দাওয়াত তাবলীগের মেহনতকে কিছু করতে পারেনি। দাওয়াত তাবলীগের মেহনত নিয়ে গর্ব করতেন সবাই।
নিজামুদ্দিন, রাইব্যান্ড ও কাকরাইল মারকাজ ছিল সবার আস্থার জায়গা। এর মুরব্বিরা ছিলেন দায়ীদের প্রেরণা। কিন্তু হায়, আজ এ কী হল? এ কোন অবস্থা আমাদের দাওয়াত তাবলীগের মেহনতে?
নিজামুদ্দিন মারকাজ তো গোটাবিশ্বের হেদায়াতের ফিকিরে মশগুল ছিল। তার নির্দেশনায় বাংলাদেশের কাকরাইল মারকাজও ভাবত দরদি নবীর আদরের উম্মতিদের নিয়ে। বিভক্তির নোংরা এ খেলা কবে ঢুকল আমাদের ভিতর। বরফের ঠাণ্ডা দেয়াল গড়ে উঠছে ভাই-ভাইয়ের মাঝে।
কাকরাইলের পরিবেশ তো ছিল নূরানী। যে নূরের ঝলকানিতে আলোড়িত হতো গোটাবিশ্ব। নবীওয়ালা দরদ ও সাহাবাওয়ালা ফিকির নিয়ে প্রতিদিনই হাজার মানুষ এখানে জমা হতো। শান্তি, উদারতা ও প্রেমের বার্তা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ত দেশের আনাচে-কানাচে।
সুদূর আফ্রিকার বন-জঙ্গলেও কীভাবে মানুষ দ্বীনের ওপর চলবে, এ ধ্যানেই মগ্ন ছিল কাকরাইলের প্রতি ধূলিকণা। এমন মহৎ উদ্দেশ্যেই এখানে মারকাজ বানিয়েছিলেন বড় হুজুর মাওলানা আবদুল আজিজ (রহ.)।
মাওলানা মুনীর আহমদ (রহ.) মাওলানা লুৎফর রহমান, হরমজুল্লাহ (রহ.) সবার চোখের পানিতে সিক্ত এ মারকাজ। ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মুকিত, মাওলানা আকবর আলী, মাওলানা রুহুল কিস্ত সাহেবদের গোটা জীবন বিসর্জনের ফল এ মারকাজ।
আজ এ পবিত্র মসজিদে কীভাবে আমরা মারামারি করার সাহস পেলাম? ওলামা মাশায়েখদের দিকে তেড়ে আসতে কি আমাদের বিবেকে বাধা দেয় না?
এ মসজিদের মিম্বর থেকে শোনা নবীজীর সে কথাটি, একজন মুমিনের ইজ্জতের দাম গোটা জগতের চেয়েও বেশি। তবে কি আজ দাওয়াত তাবলীগের সাথীরা ভুলে যাচ্ছে কাকরাইলের মিম্বরের মেহনতের কথাগুলো? তারা কি ভুলে গেছে তাদের মুরব্বিদের নসিহতগুলো?
হে আমার দাওয়াত তাবলীগের মেহনতের জিম্মাদার ভাইরা, আমাদের এমন আচরণে কি হজরতজীদের আত্মা কষ্ট পাচ্ছে না?
কাকরাইলের মরহুম মুরব্বিরা কি আমাদের এমন ব্যবহারে খুব শান্তি পাচ্ছেন? একটু ভাবুন, নিজেদের পরিচয় ও আত্মমর্যাদা সম্পর্কে সজাগ হোন।
হজরতজীদের আত্মা আমাদের আহ্বান করছে, আগের দাওয়াতের পথে ফিরে যেতে। নিজেদের অর্জিত সম্মান নষ্ট না করতে।
দাওয়াত তাবলীগের মারকাজ কাকরাইল মসজিদে বড়হুজুরের আদর্শে গড়া ছাত্ররা মাওলানা জুবায়ার সাহেব, মাওলানা ওমর ফারুক সাহেব, মাওলানা রবিউল হক সাহেব সহ সকল আলেম আজ আধিপত্যবাদের কবলে নিরিহ হয়ে পড়েছে, সার্থবাদি চাটুকারের দল হজরতজীর প্রোপুত্র মাওলানা সাদকে ঘিরে ধরেছে গোমরাহির থাবায়, তাইতো আজ বাংলার মাটিতে পা রাখতে দেয়া হচ্ছেনা না নিজামুদ্দিন ও রাইব্যান্ডের জগৎ সুন্দর করা ওলামা মাশায়েখদের, কার্জত ওলামা মাসায়েখদের উপর হেকারতের দৃষ্টি পড়ছে সাধারন সাথীদের যা কুফরের আলামত বহন করছে। সাধারন সাথীদের গালিভরা কথাগুলো বিষাক্ত শেলের মতো বিদ্ধ হচ্ছে দাওয়াত তাবলীগের ওলামা মাসায়েখদের কলিজায়। এ বরদাশত হয় না; এ হায়াতে এমন কথা আমাদের কেন শুনতে হচ্ছে। মারামারি দেখতে হচ্ছে? দিল ফেটে কান্না আসছে। আমাকে কাঁদতে দিন!
আয় আল্লাহ! আয় আল্লাহ... তোমার মোবারক এ মেহনতকে বিভক্তি হওয়া থেকে পানাহ দাও।


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন