দাওয়াত তাবলীগে সংকট
---সমাধান মাওলানা সাদের হাতে---
সবার মতকে উপেক্ষা করে গত ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আনা হয় মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভিকে!
বাংলাদেশে এসেই তিনি বিমানবন্দরে তুমুল প্রতিবাদ প্রতিরোধ এবং বাধার মুখোমুখি হন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে কাকরাইল মারকাজে নিয়ে যাওয়া হয়। ইজতেমায় অংশ না নিয়েই তিনি গতকাল শনিবার দিল্লি ফিরে যান।
মাওলানা সাদ কান্ধলভি ইজতেমায় অংশ না নেয়া, বিপরীতে ঝড়ের গতিতে প্রতিবাদের মুখে পড়া নিয়ে তর্ক পড়ে করা যাবে। এ সঙ্কট সমাধানের কোনো পদ্ধতি আছে কিনা বিষয়টি নিয়ে ছোট্ট করে কথা বলতে চাই।
প্রথমত কথা হলো সমাধানের বিষয়টি একেবারেই মাওলানা সাদ কান্ধলভির হাতে। তার মতো এত মকবুল ও উঁচু বংশের মানুষকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ প্রতিরোধ করে কোনো কথা বলা বা বুঝানো সম্ভব নয়। বরং মাওলানা সাদের নিজের আত্মমর্যাদা ও রুচিবোধের পরিচয় ছিল সব রকমের সমালোচনা ও সমালোচনার সুযোগ তৈরি হয় এমন কিছু থেকে বেঁচে থাকা।
সাম্প্রতিক এ ঘটনার উদাহরণ দেশ জাতি ও আলেমদের জন্য চরম হতাশা ও লজ্জার। মোটেও এ জাতীয় প্রতিবাদ প্রতিরোধ চর্চা কাম্য ছিল না। কিন্তু অনেকটা অপারগ হয়েই করতে হয়েছে আলেম ও তাবলিগের সাথীদের।
আমি মনে করি মাওলানা সাদের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। তার ভক্ত বা অনুসারী বলে দাবিদারগণ এদেশের দাওয়াত তাবলীগের সাথী আলেমদের মধ্যে বিরাজমান অস্থিরতার বিষয়টি পুরোপুরি তার কাছে উপস্থাপন করেননি। বরং কৌশলের আশ্রয় নিয়ে হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর খান্দানকে তারা অপমান করেছেন।
সুযোগ সন্ধানী এ অনুসারীরা জজবা ও মহব্বতকে বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করেননি।
এদেশে আলেম উলামা মাদরাসার ছাত্র শিক্ষক এবং দাওয়াত তাবলীগের সাথীরাও মন থেকে সেটা চায়নি। বরং গত দিনগুলোতে তার প্রতি বেশ শ্রদ্ধা ভক্তি ও ভালোবাসা দেখিয়ে আসছেন সবাই। বরং দুতিন বছর তার আপত্তিকর বক্তব্য এবং মুরব্বিদের সঙ্গে সমঝোতার প্রসঙ্গটি নিয়ে বারবার অনুরোধ বিনরোধ করা হয়েছে। তিনি বা তার আশপাশ বিষয়টিকে বুঝেননি। বা বুঝেও দুর্বলতার আশ্রয় নিয়েছেন। পেশিশক্তি ও কূটনীতির আশ্রয় নিয়ে এড়িয়ে গেছেন।
সঙ্কটাপন্ন এ করুণ মুহূর্তে মাওলানা সাদকে সরাসরি উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। উদ্যোগগুলোও খুব ছোট ছোট।
১. তিনি নিজেই উদ্যোগী হয়ে তার যেসব উস্তাদ ও মুরব্বি দাওয়াত তাবলীগের কেন্দ্রীয় মারকাজ নিজামুদ্দিন থেকে বেরিয়ে গেছেন তাদের সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে সাক্ষাৎ করবেন। মত বিনিময় করে তাদের নিজামুদ্দিনে ফিরিয়ে নিয়ে আসাই হবে মাওলানা সাদের সফলতা। এ কাজে তিনি কারও সহযোগিতা না নিয়ে সম্পন্ন করবেন।
তবে গুজরাটের হজরতজি মাওলানা আহমদ লাট, মাওলানা ইবরাহিম দেওলাসহ অন্য মুরব্বিদেরও মানসিকতার দিক থেকে উদারতার পরিচয় দিতে হবে। হজরতজি ইলিয়াস রহ. এর খান্দানের মর্যাদা এবং হজরতজির কাজের প্রতি তাদের গভীর দরদ থাকলেই সহজ সমাধান সম্ভব।
২. মাওলানা সাদ কান্ধলভির উচিত উম্মতের বৃহত্তর সার্থে দারুল উলুম দেওবন্দে যাওয়া, কথা বলা এবং সমাধান করা। তবে দেওবন্দ আমাদের আস্থা বিশ্বাস ও চেতনার বীজতলা। এ উপমহাদেশে দীন ধর্মের কেন্দ্রীয় অভিভাবক দারুল উলুম দেওবন্দ। বলতে বাধা নেই, যে যতবড় তার দায়িত্বও ততবেশি।
দেওবন্দের কাজ থেকে স্পর্শকাতর এ বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল অভিভাবকসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
মাওলানা সাদ কান্ধলভির উচিত হবে তিনি দেওবন্দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে দায়িত্বশীল আলেমদের সঙ্গে বসবেন। তার বিষয়ে যত আপত্তিকর বস্তু রয়েছে কোনো যুক্তিতর্ক ছাড়া প্রত্যাহার করবেন।
দেওবন্দের দায়িত্বশীল ওলামা এবং মাওলানা সাদ কান্ধলভির হাস্যোজ্জ্বল একটি ভোরের প্রত্যাশায় পুরো উম্মত।
৩. সম্প্রতি বাংলাদেশে দাওয়াত তাবলীগের শুরার আলেম উপদেষ্টা কমিটি করা হয়েছে। মাওলানা সাদ কান্ধলভি এবার বাংলাদেশে এসে আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি বা সময় তাকে সহযোগিতা করতে পারেনি।
মাওলানা সাদ কান্ধলভি কোনো মাধ্যম ছাড়া হজরত ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিষয়গুলো সুষ্ঠু সমাধান করবেন। শুরার আলেম উপদেষ্টাগণ সঙ্কটাপন্ন এ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে সুষ্ঠু সমাধান করবেন বলে আশা রাখি।
তবে দেশের আধ্যাত্মিক মুরুব্বি আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ আলেম উপদেষ্টা কমিটির উচিত হবে দেশ-বিদেশের দাওয়াত তাবলীগের সাথীদের হৃদয়ের আকুতি অনুভব নিয়ে পরামর্শ দেওয়া। তাবলীগের লাখো সাথীর হৃদযন্ত্রের ব্যথা-বেদনা অনুভব করা।
আঞ্চলিকতার প্রভাব, নিজস্ব দর্শন বা মতাদর্শের আলোকে নয়- দাওয়াতের উঁচু এই কাজকে তার নিজ গতিতে চলমান ও বহমান রাখার জন্যই হজরত ওলামায়ে কেরাম চেষ্টা করছেন।
সরকারের আন্তরিকতা ও সবার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক বিশ্ব ইজতেমা। ধবধবে সাদা, নুরানি চেহারায় উজ্জ্বল, লা ইলাহার প্রাণবন্ত ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠুক তুরাগতীর।


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন