দাওয়াত তাবলীগের চলমান সঙ্কট নিরসনকে সামনে রেখে দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম ও তাবলীগের সময় লাগানো সাথীগণ গত (১১ই নভেম্বর '১৭) একত্রিত হয়েছিলেন ঢাকার উত্তরার ১৪নং সেক্টরের আয়েশা মসজিদে। জোড়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ও জ্যেষ্ঠ প্রায় সমস্ত উলামা কেরামই উপস্থিত ছিলেন।
জোড় থেকে ৩টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়-
(১)
মাওলানা সা'দ সাহেবের সকল বিতর্কিত বিষয়ের বিরুদ্ধে দারুল উলুম দেওবন্দের যে অবস্থান, বাংলাদেশের সমস্ত উলামা তার সাথে একমত।
(২)
চলমান পরিস্থিতিতে মাওলানা সা'দ সাহেব বাংলাদেশে আগমন করলে এদেশের দ্বীনি অঙ্গনে ফেৎনা সৃষ্টির আশংকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উলামায়ে কেরাম কর্তৃক গৃহিত পদক্ষেপকে আজকের এই জোড় থেকে সাধুবাদ জানানো হয় এবং সকল ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকর করার অনুরোধ জানানো হয়।
(৩)
সারা বিশ্বে প্রকাশমান এ সঙ্কটে মাওলানা সা'দ সাহেবের ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দ, সাহারানপুর এবং হযরত আহমদ শফী সাহেব (দা.বা.) সহ সারা বিশ্বের সকল ফাতওয়া বিভাগ আস্থা প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত তাকে তাবলীগী কোন কাজে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়া। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে তাকে তার ভুলের জন্য প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিমূলক ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং তার অনুসারীদের নিয়ে এ গোমরাহীর পথ ছেড়ে আসতে হবে।
হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী সাহেব (দা.বা.) বলেন, "বাংলাদেশে তাবলীগ চললে মাওলানা ইলিয়াস সাহেব রহ.-এর তাবলীগই চলবে। কোন ব্যক্তির তাবলীগকে এই বাংলার জামিনে চলতে দেওয়া হবে না।" এ সময় তিনি যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় উলামায়ে কেরামকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
হযরত শাহ আহমদ শফী সাহেব (দা.বা.)-এর ছাহেবজাদা মাওলানা আনাস মাদানী বলেন, "আব্বাজানের একান্ত আগ্রহ ছিল এ মজলিসে উপস্থিত হওয়া। তবে তিনি বলেছেন, ‘যে বিষয় নিয়ে আজ আমরা উপস্থিত হয়েছি, মাওলানা সাদের বক্তব্য প্রত্যাহার না করা ব্যতীত এবং দারুল উলুমের আস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত তাকে যেন বাংলাদেশে আসতে না দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামকে সোচ্চার থাকতে বলেন।"
হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব (দা.বা.) বলেন, "তাফাক্কুহ ফিদ্দিন না থাকা এবং উলামায়ে কেরামের উদাসীনতাই ফেৎনার জন্ম দেয়। তাই চলমান সঙ্কট নিরসন করা উলামায়ে কেরামের দায়িত্ব।"
অন্যদিকে, হযরত মাওলানা আযহার আলী আনোয়ার শাহ সাহেব (দা.বা.) জোড়ে উপস্থিত হতে না পারলেও উনার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
উপস্থিত উলামায়ে কেরামের মধ্যে রয়েছেন, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ, মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা সাজিদুর রহমান, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আবদুল কুদ্দস, মুফতি হিফজুর রহমান, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, জুনায়েদ আল হাবিব ও আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মুফতি নজরুল ইসলাম কাসেমী প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ ও মুফতি দেলোয়ার হোসাইন।


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন