মাসালাঃ
হযরত, আগে আমার অভ্যাস ছিল গান দেখা,গান গাওয়া, নৃত্য করা, শরীরে উল্কা আঁকা ।আমার স্বামীও এসব খুব পছন্দ করত।আল্লাহর অশেষ রহমতে সে ৩চিল্লা থেকে এসে আমাকে নিয়ে মাস্তুরাতসহ সময় লাগানোর পর আমাদের জিন্দেগি পাল্টে যায়।
কিন্তু যখন বাসায় কেউ থাকে না বা আমরা একাকী থাকি তখন সে আমাকে গান গাইতে বলে, তাকে নাচ দেখাতে বলে,উল্কার বদলে মেহেদী দিয়ে শরীরে ফুল আঁকতে বলে, তার সামনে কিছু সময়ের জন্য পেন্ট শার্ট পরতে বলে, মাঝে মাঝে নাচের মিউজিক দিয়ে নাচ দেখাতে যাতে সুন্দর নাচ হয় | এতে নাকি তার জন্য উপকার হয়, অন্য কারো দিকে আকর্ষন আসে না | তার কথামত আমি চুল কালার করি, চুল লম্বাই রাখি তবে সামনের খুব অল্প কিছু চুল ছোট করি |
উপরোক্ত বিষয়গুলির ব্যপারে শরীয়তের বিধি-নিষেধ জানতে চাই | বিষয়গুলো আমার স্বামীআলেম ওলামাদের নিকট বলতে গিয়েও লজ্জায় বলতে পারেনা, তাই আমাকেই আপনার শরনাপন্ন হতে হলো |
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক , মিরপুর
মাসালার জবাবঃ
স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে ততটুকু মনোরঞ্জনেরই প্রত্যাশা করতে পারে, যতটুকু শরীয়ত বিরোধী নয়। এক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট বিধান নেই যে, এই কাজ করতে পারবে, বা ঐ কাজ করতে পারবে না।
মূলনীতি এটাই শরীয়ত গর্হিত কোন কিছু করতে পারবে না।
আপনি যেসব বিষয় উপস্থাপন করেছেন, এর মাঝে শরীয়ত নিষিদ্ধ বিষয়ও অন্তর্ভূক্ত। যেমন নাচতে বলে, প্যান্ট শার্ট পড়তে বলে। সামনের চুল কাটতে বলে, নাচের মিউজিক বাজায় ইত্যাদি প্রতিটি কাজই হারাম ও নাজায়েজ।
তাই উপরোক্ত কাজ করার আদেশ দেয়া যেমন স্বামীর জন্য অন্যায় অবৈধ। তা পালন করাও আপনার জন্য অবৈধ।
যেহেতু তিনি আগের নোংরা জীবন থেকে দ্বীনী জীবনে ফিরে এসেছেন, তাকে বলুন তার মনোরঞ্জনের উক্ত কাজগুলো চিরস্থায়ী জান্নাতের জন্য অবশিষ্ট রাখুন। ইনশাআল্লাহ জান্নাতে সকল ইচ্ছেই পূর্ণ হবে। দুনিয়াতে এসব কর্ম করে আপনার স্বামী যেন জাহান্নামের অধিবাসী না হন আপনাকেও জাহান্নামের অধিবাসী না বানান এদিকে উভয়ের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।
উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন