*الحمد الله الصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين*
*মুহররম ও আশুরা এর গুরুত্ব (The importance of Ashura) প্রসঙ্গে কয়েকখানা হাদীস*
সর্বোত্তম রোযা মুহররমের রোযা
*عن أبي هريرة ، قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : أفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة جوف الليل ، وأفضل الصيام بعد شهر رمضان شهر الله الذي تدعونه المحرم؛*
-হযরত আবূ হুরায়রাহ (রাজিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি ‘ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে ‘‘মধ্যরাতের নামায রমজান মাসের রোযার পরে সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাসের রোযা যাকে তোমরা মুহাররম বলে থাক।'
[মুসলিম, আহমদ, হাকিম]
*عن ابن سعد ، قال : أتى عليا رجل فقال : يا أمير المؤمنين ، أخبرني شهرا أصومه بعد رمضان قال : لقد سألت عن شيء ما سمعت أحدا يسأل عنه بعد رجل سأل عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : إن كنت صائما شهرا بعد رمضان فصم المحرم ؛ فإنه شهر الله ، وفيه يوم تاب قوم ويتاب على آخرين* .
-হযরত ইবনে সা’দ হতে বর্ণিত তিনি বলেন আলী (রাজিঃ) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন, রমজান মাস ছাড়া এমন একটি মাসের কথা বলুন যে মাসে আমি [নফল] রোযা রাখতে পারি। তিনি বলেন, তুমি এমন একটি বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করেছো যে বিষয়ে কেবল একজনকেই রাসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। অত:পর তিনি বললেন, তুমি যদি রমজান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে রোযা রাখতে চাও তাহলে মুহাররম মাসে রাখবে। কেননা এটি আল্লাহর মাস।’ [তিরমিযী , দারিমী]
মূসা (আ.)-এর মুক্তির খুশি প্রকাশ
*عن ابن عباس ، قال : قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة واليهود تصوم يوم عاشوراء فقال : ما هذا اليوم الذي تصومونه قالوا : هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وأغرق آل فرعون فيه فصامه موسى شكرا ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : فنحن أحق بموسى منكم ، فصامه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمر بصيامه*
-হযরত ইবনে আব্বাস (রাজিঃ) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, নবী ﷺ মদীনায় শুভাগমন করলেন, সে সময়ে ইহুদীরা আশুরার রোযা রাখত। তিনি ﷺ ফরমালেন এটা কোন দিন যে তোমরা রোযা রাখ? তারা বলল, ‘এটি একটি মহান দিন, এদিনে আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আ.)-কে [ফিরআওনের হাত থেকে] মুক্তি দিয়েছেন এবং ফেরাউনকে দলবলসহ (নীল নদে) ডুবিয়েছিলেন। মূসা (আ.) এদিনে শুকরিয়াস্বরূপ রোযা রেখেছিলেন।’ রাসূলুল্লাহ ﷺ ফরমালেন ‘আমরাতো তোমাদের চেয়ে মূসা (আ.)-এর উপর অধিক হকদার।’ রাসূলুল্লাহ ﷺ এদিনে নিজে রোযা রাখলেন এবং রোযা রাখার জন্য আদেশ করলেন।(বুখারী, মুসলিম, আহমদ)
প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ বেশি গুরুত্ব দিতেন।
*عن عبيد الله بن أبي يزيد ، أنه سمع ابن عباس ، يقول : ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتحرى صيام يوم يلتمس فضله على غيره إلا هذا اليوم يوم عاشوراء وشهر رمضان*
হযরত ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবী ইয়াযীদ (রাজিঃ) হতে বর্ণিত তিনি হযরত ইবনে আব্বাস (রাজিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূল ﷺ-কে আশুরার দিন ও রমজান মাসের রোযা ছাড়া অন্য কোনো রোযাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
আশুরার রোযা এক বছরের গুনাহের কাফ্ফারা।
*عن أبي قتادة ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : صوم عاشوراء كفارة سنة -وصوم عرفة كفارة سنتين سنة قبله وسنة بعده* .
-হযরত আবূ কাতাদাহ (রাজিঃ) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূল ﷺ ফরমান আশুরার রোযা এক বছরের (গুণাহের) কাফ্ফারা এবং আরাফার দিনের রোযা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছর এই দুই বছরের (গুণাহের) কাফ্ফারা।(মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে খুযায়মা)
রমজান মাসের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে আশুরার রোযা বাধ্যতামুলক ছিল।
*أخبرنا عروة بن الزبير ، أن عائشة ، رضي الله عنه قالت : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بصيام يوم عاشوراء قبل أن يفرض رمضان فلما فرض صيام شهر رمضان كان من شاء صام عاشوراء ومن شاء أفطر*
-হযরত উরওয়াহ ইবনে যুবায়র (রাজিঃ) হতে বর্ণিত, হযরত আয়িশা (রাজিঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ রমজানের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে আশুরার রোযা রাখার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন। যখন রমজান মাসের রোযা ফরয হল যার ইচ্ছা এ দিনের রোযা রাখত যার ইচ্ছা ছেড়ে দিত।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমীযি, আবু দাউদ)
আশুরার দুই দিন রোযা রাখার বিধান।
*عبد الله بن عباس ، يقول : حين صام رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم عاشوراء وأمر بصيامه قالوا : يا رسول الله ، إنه يوم تعظمه اليهود والنصارى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : فإذا كان العام المقبل صمنا يوم التاسع إن شاء الله تعالى قال : فلم يأت العام المقبل حتى توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم*
-আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাজিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল ﷺ যখন আশুরার দিনে নিজে রোযা রাখলেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন তখন সাহাবায়ে কিরাম বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! এটাতো এমন এক দিন যাকে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা বিশেষ সম্মান দিয়ে থাকে । তখন রাসূল ﷺ ফরমালেন, আগামী বছর আমরা নয় তারিখেও রোযা রাখব ইনশা আল্লাহ! বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তী বছর [আশুরা] আসার আগেই রাসূল ﷺ ইন্তিকাল ফরমান। (মুসলিম, আবু দাউদ )
*عن داود بن علي ، عن أبيه ، عن جده ابن عباس ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : صوموا يوم عاشوراء وخالفوا فيه اليهود وصوموا قبله يوما أو بعده يوما*
-হযরত দাঊদ বিন আলী (রাজিঃ) তাঁর বাবা থেকে তাঁর বাবা তার দাদা ইবনে আব্বাস (রাজিঃ) থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, রাসূল ﷺ ফরমান- তোমরা আশুরার দিনে রোযা রাখ। আর এ ব্যাপারে ইহুদীদের সাথে বিরোধিতা/ব্যতিক্রম কর। আশুরার আগে বা পরের দিন রোযা রাখ।
(আহমদ, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক )
আশুরায় পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করার ফদ্বীলত।
*عن أبي سعيد الخدري ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من وسع على أهله يوم عاشوراء وسع الله عليه سائر سنته*
-হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাজিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল ﷺ ফরমান- যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবার-পরিজনের জন্য (খরচের ব্যাপারে) উদার হবে; আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ব্যাপারে সারা বছর উদার থাকবেন।(তাবারানী, মাজমাউয যাগাইদ লিল হায়ছামী )
মওলানা ইমরান ওসামা, লালবাগ।
0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন