কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব।
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫
ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ উদ্দেশ্যে এখানে কুরবানীর কিছু জরুরি মাসায়েল উল্লেখ হল।
কুরবানির মুস্তাহাব ও মাকরূহসমূহঃ
* কুরবানির পশু ক্রয় করার সময় যদি বিক্রেতা সাথে কোন রশি দেয় তাহলে তা সদকা করে দেয়া মুস্তাহাব। আর যদি ক্রেতা রশি ক্রয় করে নেয় তাহলে তা সদকা করার দরকার নাই।ফাতওয়ায়ে শামীঃ ৬/৩২৮
* কুরবানির পশুর দুধ পান করা, গোবর, পশম ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কেননা, কুরবানী পশু থেকে কুরবানির পূর্বে যে কোন ধরনের উপকৃত হওয়া মাকরূহ। কেউ যদি দুধ পান করে কিংবা কোন ধরনের উপকৃত হয় তাহলে সে পরিমাণ মূল্য সদকা করে দিবে। যদি কুরবানির পশুর দুধ এমন হয় যে, দোহন না করলে পশুর কষ্ট হয় তাহলে তা দোহন করে সদকা করে দেবে। আর যদি নিজে পান করতে চায় তাহলে সে পরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে।
মাবসূতে সারাখসীঃ ১২/১৫ ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ৫/৩৭১
* কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করার পর তা দ্বারা হাল চাষ করা মাকরূহ। কেননা, কুরবানী পশু থেকে কুরবানির পূর্বে যে কোন ধরনের উপকৃত হওয়া মাকরূহ। এর দ্বারা যদি পশু শুকিয়ে যায়, যার কারণে সাধারনত পশুর মূল্য কমে যায় তাহলে সে পরিমান সদকা করে দিতে হবে।
মাবসূতে সারাখসীঃ ৪/১৪৪ আহসানুল ফাতওয়াঃ ৪/৫২৬
* বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে কুরবানির পশুর সাথে কোন কিছু ফ্রি দেয় তাহলে তা ক্রেতার মালিকানায় সম্পদ হয়ে যাবে। সেটা ইচ্ছে হলে নিজে ব্যবহার করতে পারবে। তবে উত্তম হলো সেটা সদকা করে দেয়া।
কুরবানী করার সময়ঃ
* যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে বার তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানী করা জায়েয আছে। তবে ১০ তারিখে করা উত্তম।সুনানে কুবরা লিল বাইহাকীঃ ৯/৫০০ মুয়াত্তা মালেকঃ ২/১৮১ আল মুহাল্লা বিল আছারঃ ৬/৪০ (শামেলা) মুহীতে বুরহানীঃ ৬/৮৯
* যে সমস্ত এলাকায় ঈদের নামায ও জুমার নামায পড়া হয় সে সমস্ত এলাকায় ঈদের নামাযের পর কুরবানী করতে হবে। নামায শেষ হওয়ার পূর্বে করলে কুরবানী হবে না।
মুহীতে বুরহানীঃ ৬/৮৯ ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ৫/৩৬৪
* কেউ যদি নামাযের পর পর খুতবা চলাকালিন সময়ে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। তবে উত্তম হলো খুতবার পর কুরবানী করা।
মুহীতে বুরহানীঃ ৬/৮৯ ফাতওয়ায়ে তাতারখানিয়াঃ ১৭/৪১৮
* যদি কোন এলাকায় যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে ঈদের নামায পড়া না হয়
তাহলে সে এলাকায় দ্বীপ্রহরের পর থেকে কুরবানী করতে পারবে।
ফাতওয়ায়ে শামীঃ ৬/৩১৮ বেনায়া শরহে হেদায়াঃ ১২/২৪
* রাতে কুরবানী করা জায়েয আছে। তবে ফুকাহায়ে কিরামগণ রাতে যবেহ করার মাধ্যমে সব রগ কাটা না যাওয়ার ভয়ে মাকরূহ বলেছেন। তাই কোথাও যদি ভালো লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করে তাহলে মাকরূহ হবে না। সুনানে কুবরা লিল বাইহাকীঃ ৯/৪৮৮ মাজমাউল আনহুরঃ ২/৫১৯
* কোন এলাকায় যদি সবাই কুরবানী করার পর জানা যায় যে ইমাম সাহেব অযু ছাড়া নামায পড়িয়ে ছিলেন কিংবা কোন কারণে নামায ছহীহ হয় নায় তাহলে এমতাবস্থায় সকলের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে। পূণরায় কুরবানী করা লাগবে না।
বাহরুর রায়েকঃ ৮/২০০ মুহীতে বুরহানীঃ ৬/৪৭৪
# মাসায়েলে কুরবানী ( Masail E Qurbani )।।। মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ।।। শেষ পর্ব
# আরো পড়ুনঃ জিলহজ্ব মাস ।।। ফযিলত, করণীয় ও বর্জনীয়


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন