আজ রহমত দশকের শেষ দিন। কাল থেকে শুরু হবে মাগফিরাত দশক।
দ্রুত ফুরিয়ে গেল রহমতের দিনগুলো। রহমতের এই দিনগুলোর জন্য একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। কারো ভাগ্যে জুটবে, হয়তো কারো জুটবে না। রহমতের এ দশকে আল্লাহর রহমত অর্জনের তাওফিক যাদের হয়েছে, তারা খুবই ভাগ্যবান। মহান আল্লাহ মাগফিরাতের দিনগুলোতে আমাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার তাওফিক দান করুন।
রমজান হলো ক্ষমা লাভের মাস। যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও পাপ ক্ষমা করানো থেকে বঞ্চিত হলো,
মনে রাখতে হবে, মাহে রমজান মুসলমানদের মধ্যে এ অনুভূতি জাগ্রত করে যে সর্বক্ষণ আল্লাহর ধ্যান ও স্মরণে থাকতে হবে। আরবিতে এটাকে বলা হয় জিকির। জিকির শব্দের প্রথম ও প্রধান অর্থ হলো মৌখিকভাবে আল্লাহর স্মরণ।
কুয়েত সরকার প্রণীত ফিকাহ বিশ্বকোষ ‘আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল-কুয়েতিয়্যা’র মধ্যে জিকির সম্পর্কে দীর্ঘ একটি অধ্যায় আছে। ওই অধ্যায়ের অধীনে জিকিরের বিভিন্ন ফজিলত ও বরকতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে রয়েছে—
দুই. প্রতিটি ইবাদতের বিধান দেওয়া হয়েছে জিকির প্রতিষ্ঠার জন্য। নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘নামাজ কায়েম করো আমার জিকির বা স্মরণার্থে। ’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ১৪)
তিন. জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা করে, আমাকে তেমনি পাবে। যখন সে আমার জিকির (স্মরণ) করে, আমি তার সঙ্গে থাকি। সে যদি তার অন্তরে আমার জিকির (স্মরণ) করে, তাহলে আমিও তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি। আর যদি সে কোনো জনগোষ্ঠীর সামনে আমার জিকির করে, তাহলে আমি তাদের চেয়ে উত্তম জনগোষ্ঠীর কাছে তাকে স্মরণ করি। ’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২০৬১)
চার. জিকিরের মাধ্যমে শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যারা পরহেজগার, শয়তান যখন তাদের কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তত্ক্ষণাৎ তাদের চোখ খুলে যায়। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ২০১)
পাঁচ. জিকিরকারীর অন্তর চিরজীবন্ত থাকে। মহানবী ﷺ ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের জিকির করে, আর যে জিকির করে না, তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতের মতো। ’ (বুখারি, হাদিস : ৯৫৮৭)
ছয়. জিকির সবচেয়ে সহজ ইবাদত। জিহ্বার এই ইবাদত সুস্থ, অসুস্থ, দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া—সর্বাবস্থায় করা যায়। মহানবী ﷺ ইরশাদ করেছেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম’—এই বাক্যগুলো জিহ্বায় উচ্চারণে সহজ, আমলের দাঁড়িপাল্লায় ভারী এবং দয়াময় আল্লাহর অধিক প্রিয়। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪০৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০৭২)
মুফতি শাহেদ রহমানি/লেখক : সিইও, সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা


0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন