আজ ১ রমজান। হিজরি সনের নবম মাসের প্রথম দিন। দেখতে দেখতে বছর পেরিয়ে আবারো ফিরে এলো এই মহান সম্মানিত রমজান মাস।
মানুষের শরীরের মধ্যেও অনবরত জ্বলন ক্রিয়া চলছে। এই জ্বলনের ইন্ধন হলো খাদ্যপানীয়। রমজানে এই খাদ্যপানীয় থেকে নির্দিষ্ট সময় থেকে নির্দিষ্ট সময় অবধি পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। এই সময়ের মধ্যে রোজাদার মানুষ ক্ষুৎপিপাসায় অস্থির হয়ে ওঠেন। তবে, সীমাহীন ধৈর্য ও স্থিরতার মধ্য দিয়ে এই সিয়াম সাধনা সফল করতে হয়। এ বড় কঠিন ইবাদত, এ বড় কঠিন সংযম, এ বড় কঠিন সাধনা।
শুধুমাত্র ক্ষুধা পিপাসায় বা কঠিন উপবাসের মধ্যে থাকাই কিন্তু রোজা নয়। এই উপবাস সিয়াম বা রোজা পদবাচ্য হওয়ার জন্য তার নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতি শরিয়তি বিধান মোতাবেক হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান এক মহিমাময় ভাষায় বর্ণিত হয়েছে পবিত্র কোরানের কয়েকটি মাত্র আয়াতে। এখানে তা উদ্ধৃত হলো: ‘আল্লাহ তোমাদের (জন্য যা) সহজ (তা) করতে চান, তোমাদের কষ্ট চান না। উদ্দেশ্য, যাতে তোমরা (নির্ধারিত দিনের উপবাসের সংখ্যা) পূর্ণ করতে পার। আর তোমাদের সৎপথে চালিত করার জন্য তোমরা আল্লাহর মহিমা কীর্তন করবে ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোনো প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দিই।
অতএব তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমাতে বিশ্বাস স্থাপন করুক, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে। রোজার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের অঙ্গাবরণ এবং তোমরা তাদের অঙ্গাবরণ। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা আত্মপ্রতারণা করছ। তাই তো তিনি তোমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। অতএব এখন তোমরা তোমাদের পত্মীদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণরেখা থেকে ঊষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের কাছে প্রতিভাত না হয়। তারপর রাত্রি পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর। আর তোমরা মসজিদে ‘এতেকাফ’রত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করো না। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং এর ধারেকাছে যেও না। এভাবে আল্লাহ মানুষের জন্য তার নির্দেশনাবলি সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা সাবধান হয়ে চলতে পারে।’

0 কমেন্টসগুলো:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন