প্রত্যেকের ই মা আছে।
মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত;
সবার কাছে নিবেদন ও আরজ করছি
মাকে কেউ কষ্ট দিবেন না।
আর যদি দিয়েও থাকেন দ্রুত মাফচেয়ে নিন;
মা অবশ্যই মাফকরে দিবেন;
মাকে নিয়ে গাওয়া এই গজলটি
গেয়েছেন আমাদের ছোট্ট মাদ্রাসার ছাত্র
ভাই আল আমিন।
"মা" কে নিয়ে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কয়েকটি হাদীস
• রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণিত, একদা এক বাক্তি তাঁকে জিজ্ঞাস করেছিল,
“ আমার উপর কার অধিকার সবচেয়েও বেশি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন তোমার মা এর উপর,তারপর কার উপর উত্তরে তিনি বলেন তোমার মা এর উপর, লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন তারপর কার উপর? উত্তরে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমার মা এর উপর, চতুর্থ বার লোকটি জিজ্ঞেস করলে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর তোমার বাবা”।
(সহীহ বুখারি ও মুসলিম)।।
• রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বেহেশ্ত হচ্ছে মায়েদের পায়ের নিচে। ( কানযুল উম্মালঃ ৪৫৪৩৯, মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ৬১৪ ) ।।
• রাসূল কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ নারীর প্রতি সবচেয়ে বেশি অধিকার হচ্ছে তার স্বামীর,আর পুরুষের উপর সবচেয়ে বেশি অধিকার হচ্ছে তার মায়ের। ( কানযুল উম্মালঃ ৪৪৭৭১, মুনতাখাবে মিযানুল হিকমাহঃ ২৫৪ ) ।।
• রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তিন রকম দোয়া নি:সন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া। -তিরমিযী
• এক ব্যক্তি নবীজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে এসে বলল, আমি আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশায় আপনার হাতে হিজরত ও জিহাদের ব্যাপারে শপথ করছি। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার পিতা-মাতার কোনো একজন জীবীত নাকি? লোকটা বলল,হ্যাঁ, বরং উভয়ই। তিনি বললেন, তুমি তো আল্লাহর কাছে সওয়াব আশা করো। লোকটা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো। – মুসলিম
আসুন মা এর সম্মান নিয়ে হযরত আবু হোরায়রা রাজিআল্লাহু আনহু এর ঘটনা পড়ি।
একদিন হযরত আবু হোরায়রা রাজিআল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে কাঁদছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু হোরায়রা তুমি কেন কাঁদছ? আবু হোরায়রা বললেন, আমার মা আমাকে মেরেছেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কেন তুমি কি কোন বেয়াদবী করেছ? আবু হোরায়রা বললেন, না হুজুর কোন বেয়াদবী করিনি। আপনার দরবার হতে বাড়ি যেতে আমার রাত হয়েছিল বিধায় আমার মা আমাকে দেরির কারণ জিজ্ঞেস করায় আমি আপনার কথা বললাম। আর আপনার কথা শুনে মা রাগে আমাকে মারধর করল আর বলল, হয়ত আমার বাড়ি ছাড়বি আর না হয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবার ছাড়বি। আমি বললাম, ও আমার মা। তুমি বুড়ি মানুষ। তোমার গায়ে যত শক্তি আছে তত শক্তি দিয়ে মারতে থাকো। মারতে মারতে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দাও। তবুও আমি আমার রাসুলকে ছাড়তে পারবো না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমার মা তোমাকে বের করে দিয়েছেন আর এজন্য আমার কাছে নালিশ করতে এসেছ? আমার তো এখানে কিছুই করার নেই। হযরত আবু হোরায়রা রাজিআল্লাহু আনহু বললেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি আমার মায়ের জন্য এখানে নালিশ করতে আসি নাই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে কেন এসেছ? আবু হোরায়রা বললেন, আমি জানি আপনি আল্লাহর নবী। আপনি যদি হাত উঠিয়ে আমার মায়ের জন্য দোয়া করতেন, যাতে আমার মাকে যেন আল্লাহ হেদায়েত করেন। আর তখনই সাথে সাথে রাসুল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত উঠিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমি দোয়া করি আপনি আবু হোরায়রার আম্মাকে হেদায়েত করে দেন।” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলেন আর আবু হোরায়রা বাড়ির দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন। পিছন থেকে কয়েকজন লোক আবু হোরায়রার জামা টেনে ধরল এবং বললো, হে আবু হোরায়রা! তুমি দৌড়াচ্ছ কেন? তখন আবু হোরায়রা বললেন, ওহে সাহাবীগণ তোমরা আমার জামা ছেড়ে দাও। আমাকে দৌড়াতে দাও। আমি দৌড়াইয়া বাড়িতে গিয়ে দেখতে চাই আমি আগে পৌঁছলাম নাকি আমার নবীজির দোয়া আগে পৌঁছে গেছে। হযরত আবু হোরায়রা দরজায় নক করতে লাগলো। ভিতর থেকে তার মা যখন দরজা খুললো তখন আবু হোরায়রা দেখলেন তার মার সাদা চুল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে। তখন মা আমাকে বললেন, হে আবু হোরায়রা! তোমাকে মারার পর আমি বড় অনুতপ্ত হয়েছি, অনুশোচনা করেছি। মনে মনে ভাবলাম আমার ছেলে তো কোন খারাপ জায়গায় যায়নি। কেন তাকে মারলাম? আমি বরং লজ্জায় পড়েছি তোমাকে মেরে। হে আবু হোরায়রা! আমি গোসল করেছি। আমাকে তাড়াতাড়ি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে নিয়ে চল। আর তখনই সাথে সাথে আবু হোরায়রা তার মাকে রাসুল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে নিয়ে গেলেন। আর তার মাকে সেখানেই কালিমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলেন ।।

মাসা আল্লাহ
উত্তরমুছুন